
দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। একই সঙ্গে এসব হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ ও মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। পৃথক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক ডা. এরফান আহমেদ সোহেলও সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানান।
ড্যাবের বিবৃতিতে বলা হয়, মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দেশের চারটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় গুরুতর সংকট তৈরি হতে পারে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাফিজুল নামে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনরা জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহমুদা রাণী, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলা চালান। এ সময় জরুরি বিভাগে ভাঙচুর করা হয়। রোগীর স্বজনদের দায়িত্বে থাকা এক আনসার কমান্ডারও হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন এবং তার হাত ভেঙে যায় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত এক তরুণকে চিকিৎসার জন্য আনা হলে ট্রলিতে রোগী নেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যুবক ট্রলিম্যানকে মারধর করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন আনসার সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে ড্যাব।
এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মেডিসিন বিভাগের ইউনিট-২-এ কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মো. আল আমিন সিদ্দিকীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। রোগীর স্বজনরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে ড্যাবের বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
সবশেষ ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ড্যাবের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টার দিকে মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের নবদাপাড়া গ্রাম থেকে পানিতে ডুবে যাওয়া তিন বছর বয়সী এক শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করলে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের ১১ নম্বর মেডিকেল অফিসারের কক্ষসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালান। এ ঘটনায় ডা. আব্দুস সামাদ ও ডা. জামানুল রিয়াসহ দুই চিকিৎসক এবং একজন আনসার সদস্যসহ মোট চারজন আহত হন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ড্যাব নেতারা বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন-রাত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের ওপর লাঞ্ছনা, হামলা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাদের মতে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এর চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হবেন সাধারণ মানুষ।
এ কারণে দেশের সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, আনসারসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে ড্যাব।
বিবৃতিতে সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনানুগ বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে হামলায় আহত চিকিৎসক, নার্স, আনসার সদস্যসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর যথাযথ চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ড্যাব আরও বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতকে অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট থেকে রক্ষা করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন এবং এর কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
Editor: Dr. Mahfuzul Haque Chowdhury
Head of News: Dr. Khan Iftekhar
Office address: Green Road, Dhaka-1205.
MediNews BD © 2025