ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি
স্বাস্থ্যখাতে ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা সভা
ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০২৬
ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন, সরকারি উদ্যোগে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি, প্রতিবছর পর্যাপ্ত নিয়োগ এবং সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার প্ল্যান প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডি-ফ্যাব)-এর নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে “স্বাস্থ্যখাতে ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব দাবি জানানো হয়। ডি-ফ্যাব কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও ডি-ফ্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডি-ফ্যাবের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস-সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে ডিপ্লোমাধারী ফার্মাসিস্টরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তবে পদমর্যাদা, বেতন গ্রেড ও ক্যারিয়ার অগ্রগতির ক্ষেত্রে তারা এখনও যথাযথ স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। অন্যান্য ডিপ্লোমাধারী পেশাজীবীদের মতো ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের জন্য সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার প্ল্যান বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ফার্মাসিস্টদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথি আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ফার্মাসিস্টদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে তিনি একমত। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি দেশের সব ফার্মাসিস্টকে নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় ডি-ফ্যাবের নেতৃবৃন্দ অন্যান্য ডিপ্লোমাধারী পেশাজীবীদের মতো ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। বক্তারা বলেন, এই দাবি বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে এবং ফার্মাসিস্টদের পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।
বক্তারা সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত ফার্মাসিস্ট পদ সৃজন, স্নাতক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সুস্পষ্ট গ্রেড ও পদোন্নতি কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানান। তাদের মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ফার্মাসিস্ট পেশাকে আরও যুগোপযোগী করা সম্ভব।
সভায় বক্তারা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, ১৯৯৪ সালে উপসহকারী প্রকৌশলী (ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার), ২০১১ সালে নার্সিং ডিপ্লোমাধারী এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালে ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ও ডিপ্লোমা ফিশারিজ পেশাজীবীদের ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। অথচ দেশে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টরা এখনও একই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
বক্তাদের দাবি, বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ফার্মাসিস্টের মধ্যে আনুমানিক ৮৫০ জন ১০ম গ্রেডের নিচের বেতনক্রমে কর্মরত রয়েছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার। তাদের ১০ম গ্রেডে উন্নীত করতে সরকারের মোট ব্যয় আনুমানিক ১৫ লাখ টাকা হবে, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করবে না বলেও সভায় দাবি করা হয়।
ডি-ফ্যাবের নেতৃবৃন্দ সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস-সচিবের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন, অর্থ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের বৈষম্য দূর করার দাবি জানান তারা।
ডি-ফ্যাবের চার দফা দাবি
১. ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন:
ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের দ্রুত ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন করতে হবে। ইতোমধ্যে সমযোগ্যতাসম্পন্ন ডিপ্লোমা কৃষি, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও ডিপ্লোমা নার্সদের ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। একইভাবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদেরও ১০ম গ্রেড প্রদান করতে হবে।
২. সরকারি উদ্যোগে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ:
ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দেশে ও বিদেশে সরকারি উদ্যোগে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। ফাউন্ডেশন ট্রেনিং, উন্নত প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির দাবি জানানো হয়।
৩. প্রতিবছর নিয়োগের ব্যবস্থা:
যথাযথ নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে প্রতিবছর পর্যাপ্ত সংখ্যক ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার প্ল্যান প্রণয়ন:
ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের জন্য সুস্পষ্ট, টেকসই ও বাস্তবসম্মত ক্যারিয়ার প্ল্যান এবং পদোন্নতির কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে, যাতে তাদের পেশাগত উন্নয়ন ও কর্মজীবনের অগ্রগতি নিশ্চিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডি-ফ্যাবের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. আসাদুল্লাহ মিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব নাজমুল হুদা।
আলোচনা সভা শেষে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে ডি-ফ্যাবের প্রধান উপদেষ্টা মো. আসাদুল্লাহ মিয়াকে সভাপতি এবং নাজমুল হুদাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
নতুন কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা পরে সংযুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়।
ডি-ফ্যাবের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন করবে। এর ফলে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা আরও কার্যকর ও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি তাদের পেশাগত মর্যাদাও সুদৃঢ় হবে।
ডি-ফ্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আসাদুল্লাহ, মহাসচিব নাজমুল হুদা
ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডি-ফ্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে মো. আসাদুল্লাহ মিয়াকে সভাপতি এবং মো. নাজমুল হুদাকে মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন নবগঠিত কমিটির নাম ঘোষণা করেন। এছাড়া উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন বিএনপি মিডিয়া সেলের আহবায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর (পাওয়েল), আমরা বিএনপি পরিবার ও বিএনপি মিডিয়া সেলের আহবায়ক আতিকুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট মীর আবদুর রাজ্জাক ও মো. শামসুর রহমান। সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন ,সহ-সভাপতি মোঃ নুরর রহমান ,
মোঃ ফিরোজ হোসেন
কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মো. মরতুজ আলী। যুগ্ম-মহাসচিব মো. হযরত আলী (আমিনুল), মো. মোবারক হোসাইন, মো. মুক্তার হোসেন, মো. সাইদুর রহমান (সাইদ), মো. মাসুদুর রহমান (মাসুদ), মো. সুমন হায়দার, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. শামীমুল ইসলাম, মঞ্জুরুল আলম সজীব, মো. ইব্রাহিম, কেএম আলমগীর হোসেন, আব্দুল্লাহ আল হাদি, মো. আতিকুর রহমান, মো. হায়াত মাহমুদ, শাহরিয়ার রিপন, মো. আনোয়ার হোসেন, সঞ্জয় সিংহ, মো. রুবেল আহমেদ (রবিন), মো. আতিকুর রহমান, গোলাম ফারুক, রাজীব পাল, মো. জাকির হোসেন, মো. আসাদুজ্জামান, মো. আলী আকবর, মো. মোক্তেসদুল হক এবং মো. আব্দুল আল মামুন। সাংগঠনিক সম্পাদক
মোহাম্মদ রাশেদুল আলম,
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মো. রফিকুল ইসলাম, ইব্রাহিম খলিল, মেহেদী হাসান রাজু, সৈকত কুমার পাল, মো. কামরুল হাসান, মো. মোক্তার হোসেন, মো. কাজিউর রহমান, শুভন্তত্র, বিপুলঞ্জিৎ কর্মকার, মো. আবু সাঈদ, মো. কায়সার হোসেন, মো. আবু বকর সবুজ এবং মো. এমরান হাসান। দপ্তর সম্পাদক লুৎফর রহমান (নাইম), মো. মাইনুল ইসলাম। সহ-দপ্তর সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ মো. সোহেল মিয়া , প্রচার সম্পাদক চন্দন কুমার সরকার, সহ-প্রচার সম্পাদক মো. ইমতিয়াজ, শিক্ষা ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন, সহ-শিক্ষা ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. রেজাউল করিম, সাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো. আবু শামা (পাওন), সহ-সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, তথ্য, গবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান, সহ-তথ্য গবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসাইন, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাদের, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে মো. সাহিদ স্থান, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক মো. শওকত আমিন, পরিকল্পনা সম্পাদক মো. তামিম আহমেদ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মো. ইহাম উদ্দিন, গণমাধ্যম ও মিডিয়া সম্পাদক মো. রাজু আহমেদ, আইন সম্পাদক নীতীশ চন্দ্র রায়, ধর্ম সম্পাদক মো. নুরুন্নবী, ক্রীড়া সম্পাদক মো. শফিক-উল-জামান এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. আব্দুল বাশার দায়িত্ব পেয়েছেন। পরিবেশ, আপ্যায়ন, যোগাযোগ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে এবং সাধারণ সদস্য হিসেবে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ১৫১ জন ফার্মাসিস্ট এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
Editor: Dr. Mahfuzul Haque Chowdhury
Head of News: Dr. Khan Iftekhar
Office address: Green Road, Dhaka-1205.
MediNews BD © 2025