
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি বজায় রয়েছে। এডিস মশাবাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে রোগীর ভিড়। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,২৯৯ জন। এই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩৭১ জনে।
আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিন বিশ্লেষণ করে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্বিক ডেটা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,১৯,৮০১ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ইতিপূর্বে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১,১৩,৪০৭ জন রোগী।
রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) ১৩১ জন এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) ১১৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি ১০৭ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায়।
ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন কেবল রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নেই; দেশের বিভিন্ন বিভাগেও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। গত এক দিনে ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ২৭৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯ জন, বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন এবং খুলনা বিভাগে ১৪৭ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট আক্রান্তদের প্রায় ৬২ শতাংশ পুরুষ হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। চলতি বছর মোট মৃত্যুর প্রায় ৫২.৭ শতাংশই নারী। চিকিৎসকদের মতে, নারীদের ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রকাশের পরও হাসপাতালে আসতে দেরি হওয়া এবং শারীরিক জটিলতা দ্রুত তৈরি হওয়া এর অন্যতম কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানান, বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু ভাইরাসের ধরনের পরিবর্তনের কারণে আক্রান্তদের শরীরে দ্রুত জটিলতা তৈরি হচ্ছে। জ্বর আসার মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মাথায় প্ল্যাটলেট কমে যাওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং 'ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম' দেখা দেওয়ার ঘটনা বেশি ঘটছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সামান্য জ্বর বা লক্ষণ দেখা মাত্রই যেন রোগী বা তার স্বজনেরা অবহেলা না করে দ্রুত এনএস-১ (NS1) অ্যান্টিজেন টেস্ট বা সিবিসি (CBC) পরীক্ষা করান। সেই সাথে যেকোনো ধরনের রক্তপাত, অবিরত বমি বা তীব্র পেটে ব্যথা দেখা দিলে কালবিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সাথে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে বাসাবাড়ির টব, ছাদ বা জমা পানি জমে থাকে এমন স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে সর্বসাধারণের প্রতি আকুল আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
Editor: Dr. Mahfuzul Haque Chowdhury
Head of News: Dr. Khan Iftekhar
Office address: Green Road, Dhaka-1205.
MediNews BD © 2025