
নিজস্ব প্রতিবেদক | স্বাস্থ্য সংবাদ
দেশে অব্যাহত রয়েছে হামের সংক্রমণ। একদিনেই নতুন করে ১ হাজার ২৫৯ জন রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য সামনে আসায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণের ঝুঁকি, রোগের জটিলতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্র থেকে নির্গত ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেসব শিশু হামের টিকা নেয়নি, তাদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ রোগ গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।
একদিনে ১ হাজার ২৫৯ জন নতুন রোগী শনাক্তের তথ্য সংক্রমণের পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এই সংখ্যা কোন সময়সীমার প্রতিবেদন, আক্রান্তদের মধ্যে কতজন শিশু এবং কতজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা জরুরি। একই সঙ্গে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে নাকি কমেছে, তা বুঝতে ধারাবাহিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
সাধারণত হাম সংক্রমণের শুরুতে জ্বর, সর্দি, কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরবর্তী সময়ে মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে শরীরের অন্যান্য অংশে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে জ্বরের তীব্রতা বাড়ে এবং শিশুর খাওয়াদাওয়া কমে যায়।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এসব লক্ষণ দেখা দিলে শিশুকে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। হামের সন্দেহ হলে হাসপাতালে যাওয়ার আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে বিষয়টি জানানো ভালো, যাতে অন্য রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়।
হাম শুধু জ্বর ও ফুসকুড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা এবং কানের সংক্রমণের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো গুরুতর সমস্যাও হতে পারে।
শিশুর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অস্বাভাবিক নিস্তেজতা, পানি পান করতে না পারা কিংবা চেতনা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে হবে। এসব পরিস্থিতিতে ঘরে বসে চিকিৎসা করার চেষ্টা না করে দ্রুত পেশাদার চিকিৎসাসেবা নেওয়া জরুরি।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টিকা গ্রহণ। অভিভাবকদের উচিত শিশুর টিকাদানের কার্ড যাচাই করা এবং কোনো ডোজ বাদ পড়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা। টিকা দেওয়ার সময়সূচি ও অতিরিক্ত টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, ঘরের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং অসুস্থ শিশুকে অন্য শিশুদের কাছ থেকে সাময়িকভাবে আলাদা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব সতর্কতা টিকাদানের বিকল্প নয়।
দেশে হামের সংক্রমণ অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে রোগ শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের চিকিৎসা এবং টিকাদান কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং সংক্রমণের নির্ভরযোগ্য তথ্য নিয়মিত প্রকাশ জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, জ্বর ও ফুসকুড়িকে সাধারণ অসুস্থতা ভেবে অবহেলা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যাচাইহীন তথ্যের পরিবর্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সূত্রের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
সব মিলিয়ে, একদিনে ১ হাজার ২৫৯ জন নতুন রোগী শনাক্তের তথ্য দেশের হাম পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে টিকাদান, দ্রুত চিকিৎসা এবং সম্মিলিত সচেতনতাই হতে পারে সংক্রমণ মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
Editor: Dr. Mahfuzul Haque Chowdhury
Head of News: Dr. Khan Iftekhar
Office address: Green Road, Dhaka-1205.
MediNews BD © 2025