
নিজস্ব প্রতিবেদক |
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং ভাইরাসজনিত রোগ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি মারাত্মক হতে পারে। তবে সঠিক সচেতনতা এবং সময়ের সঠিক পদক্ষেপ এই রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সামান্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলেই হামের ঝুঁকি এড়িয়ে চলা সম্ভব।
হাম থেকে বাঁচতে এবং এর বিস্তার রোধে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি:
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় হলো এমআর (MR) টিকা। সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) অনুযায়ী শিশুদের ৯ মাস পূর্ণ হলে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস পূর্ণ হলে দ্বিতীয় ডোজ টিকা অবশ্যই দিন। যারা কোনো কারণে টিকা মিস করেছেন, তারা দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
হাম বাতাসের মাধ্যমে হাঁচি-কাশির সাহায্যে খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই বাড়িতে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে একটি আলাদা ও বাতাস চলাচল করে এমন ঘরে রাখুন। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত থালা-বাসন, তোয়ালে বা কাপড় অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না।
ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। বিশেষ করে বাইরে থেকে ফেরার পর এবং খাওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে গেলে দ্রুত হাত-মুখ ধুয়ে ফেলুন।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রোটিন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার এবং প্রচুর পানি পান করুন। সরকারি প্রচারণায় যখন শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়, তখন আপনার শিশুকে তা খাওয়ানো নিশ্চিত করুন; এটি হামের জটিলতা কমাতে সহায়ক।
তীব্র জ্বর, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, চোখ লাল হওয়া এবং ৩-৪ দিন পর শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে দেরি করবেন না। নিকটস্থ হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, অবহেলা করলে হাম থেকে নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের সমস্যার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ নোট: হাম হলে শিশুকে ঠাণ্ডা লাগানো যাবে না এবং ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা গ্রহণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।
Editor: Dr. Mahfuzul Haque Chowdhury
Head of News: Dr. Khan Iftekhar
Office address: Green Road, Dhaka-1205.
MediNews BD © 2025