আজ বৃহস্পতিবার, ২০ Jun ২০১৯, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
«» ” উৎসর্গ ফাউন্ডেশন, শ্যামলী ম্যাটস শাখার পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা “ «» “উৎসর্গ ফাউন্ডেশ, বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবী মিলনমেলা রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ ৩০শে জুন “ «» ব্যথানাশক ঔষুধ ছাড়াই বিকল্প ম্যাজিক পেইন কিলার! «» বাংলাদেশের বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ সব ওষুধ এক মাসের মধ্যে ধ্বংস করার আদেশ দিয়েছে আদালত «» নিজের চেম্বার নেই : রকে বসে প্রতিদিন শত রোগী দেখেন গরীবের ডাক্তার «» আমি এসেছি বাংলাদেশ থেকে বিদেশে রোগী যাওয়া বন্ধ করতে : ডা. দেবী শেঠী «» চিকিৎসকদের সুরক্ষায় কড়া আইন করছে ভারত : হাসপাতালে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় «» রেশম দিয়ে কৃত্রিম ধমনি : যুগান্তকারী আবিষ্কার বাঙালি চিকিৎসক-গবেষকদের «» নিজের টাকায় শিশুদের জীবন দান করা ডা. কফিল খান বকেয়া বেতনও পাচ্ছেন না «» ডাক্তারদের আত্মরক্ষা আন্দোলনের জেরে হাসপাতালগুলো এবার পুলিশি সুরক্ষা পেল

ঈদকে ঘিরে হাসপাতালের ২টি মজার ঘটনা

ডা. জামান অ্যালেক্স :

চার জন সুঠাম যুবক আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এদের মাঝে একজনের হাতে স্যালাইনের নল লাগানো, তিনি তার আরেক হাতে স্যালাইনের প্লাস্টিকের বোতল উঁচু করে ধরে রেখেছেন। এই কাজ করতে গিয়ে মাঝে মাঝে তার লুঙ্গির গিট খুলে যাচ্ছে, যে কোন মুহূর্তে একটা চিচিংফাঁক হবার সম্ভাবনা…

ঘটনা হলো এই লোক পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে ভর্তি ছিলেন পাশ্ববর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ডাক্তার সাহেব ভর্তির সাথে সাথে জানিয়ে দিয়েছেন আগামী দুইদিন রোগীর মুখে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ। রোগী ও তার সাথের লোকদের ধারণা ডাক্তার সাহেব ইচ্ছে করে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই রোগীকে নিয়ে তার তিন বন্ধু পালিয়ে আমার এখানে এসেছেন। আমি রোগীর সাথে কথাবার্তা শুরু করলামঃ

–পালিয়ে আসলেন কেন? ঘটনাটা কি?…

–আমারে জোর কইরা হাসপাতালে ভর্তি কইরা হ্যারা কয় আমার নাকি খাওন-দাওন বন্ধ! এইটা কেমুন কথা!…

–আপনার যে রোগ (Acute Abdomen), সেই রোগে খাওয়া-দাওয়া বন্ধও এক ধরনের চিকিৎসা…

–(চোখ বড় বড় করে আশ্চর্যান্বিত হয়ে) তাই বইলা ঈদে একটু ‘পুলাউ-মাংস’ খামুনা!…

–আরেহ যন্ত্রনা! জীবনে ‘পুলাউ-মাংস’ কখনো খান নাই! আপাতত ‘পুলাউ-মাংস’ কয়েকদিন বন্ধ। আমি ভর্তি লিখে দিচ্ছি, হাসপাতালে ভর্তি হন…

–আপনেও কি ঐ ডাক্তারের মত আমার খাওয়াদাওন বন্ধ কইরা দিতাছেন?…

–জ্বি, খাওয়াদাওয়া তো বন্ধই, নাকে নলও লাগাতে হবে। যে রোগের যে চিকিৎসা।একটু অপেক্ষা করেন…

মাথা নিচু করে চিকিৎসা লিখলাম। লেখা শেষ করে নামধাম রেজিস্টার খাতায় তুলতে গিয়ে মাথা উঠিয়ে দেখি রোগী সহ চারজন লোক একদম হাওয়া…

অ্যাডমিশন শিট্ নিয়ে হন্তদন্ত করে রুমের বাইরে গিয়ে দেখি উনারা একটা টমটম গাড়িতে করে পালিয়ে যাচ্ছেন। আমি ‘এই যে’ ‘এই যে’ বলে হাক দিতেই টমটমের গতি আরো বাড়লো…

***************************************

–কি চাচা, ঘটনা কি?…

–আমারে ছুটি দেন…

–শরীর তো ভালো না, জ্বর তো অনেক…

–(অন্যদিকে তাকিয়ে) জ্বর এর খেতা পুরি, আমি থাকপো না…

–প্রেসারও তো কম, থাকেন আর দুইটা দিন, ঈদ উপলক্ষে আজকে দুপুরে পোলাও কোরমা দিবে হাসপাতালে…

–(শরীর চুলকাতে চুলকাতে) আপনের ‘পুলাউ-কুরমা’ আপনে খান, আমি থাকপো না…

–সমস্যাটা কি? এত ত্যাড়া ত্যাড়া কথা বলতেছেন কেন? হাসপাতালের কেউ কি আপনারে কিছু বলছে?…

–জ্বে না…

–তাহলে তো আপনাকে ছাড়া যাবে না…

–(রেগে গিয়ে) আপনে কি আমারে বাইন্ধা রাখবার চান!!! ছাওয়ালরা সব ঈদ করতে বাড়িত আসছে আর আমি জ্বর চু*য়া হাসপাতালে পইড়া আছি।থাকপো না আমি হাসপাতালে…

আমার সামনে তার নিঃশঙ্কচিত্তে ‘চ’ বর্গীয় শব্দের ব্যবহারে আমি অনেকটা হতভম্ব এবং কিছুটা ব্যথিত। এরপর হাসপাতালে থাকার জোড়াজুড়ি করলে আরো কোন কোন বর্গীয় শব্দবোমা ছাড়েন কে জানে! খাল কেটে সাপ-কুমির ডেকে আনা ঠিক না। ছাড়পত্র দিয়ে দ্রুত বিদায় দিলাম…

***************************************

আমি অবশ্য দুজনের একজনকেও দোষারোপ করতে পারছি না। ঈদের বর্ণিল আনন্দের সময় হাসপাতালের বেডে পড়ে থাকা কোন কাজের কথা না…

পরিবার পরিজনের সান্নিধ্যে ঈদের সুন্দর মুহূর্তগুলো উপভোগ করুন। আনন্দ করুন, উৎসব করুন, পোলাও কোর্মা খান। সমস্যা হলে আমরা চিকিৎসকরা আছি আপনাদের পাশে…

#ঈদ_মুবারক…

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :