আজ বৃহস্পতিবার, ২০ Jun ২০১৯, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
«» ” উৎসর্গ ফাউন্ডেশন, শ্যামলী ম্যাটস শাখার পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা “ «» “উৎসর্গ ফাউন্ডেশ, বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবী মিলনমেলা রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ ৩০শে জুন “ «» ব্যথানাশক ঔষুধ ছাড়াই বিকল্প ম্যাজিক পেইন কিলার! «» বাংলাদেশের বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ সব ওষুধ এক মাসের মধ্যে ধ্বংস করার আদেশ দিয়েছে আদালত «» নিজের চেম্বার নেই : রকে বসে প্রতিদিন শত রোগী দেখেন গরীবের ডাক্তার «» আমি এসেছি বাংলাদেশ থেকে বিদেশে রোগী যাওয়া বন্ধ করতে : ডা. দেবী শেঠী «» চিকিৎসকদের সুরক্ষায় কড়া আইন করছে ভারত : হাসপাতালে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় «» রেশম দিয়ে কৃত্রিম ধমনি : যুগান্তকারী আবিষ্কার বাঙালি চিকিৎসক-গবেষকদের «» নিজের টাকায় শিশুদের জীবন দান করা ডা. কফিল খান বকেয়া বেতনও পাচ্ছেন না «» ডাক্তারদের আত্মরক্ষা আন্দোলনের জেরে হাসপাতালগুলো এবার পুলিশি সুরক্ষা পেল

প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেয়াদবের সাক্ষাৎ পাই

ডা. খাজা হুমায়ুন কবীর :

হাসপাতালের বহির্বিভাগে এবং জরুরী বিভাগে প্রতিদিন আনলিমিটেড রুগী দেখতে গিয়ে কিছু আনলিমিটেড বেয়াদবের দেখা পাই। তাদের আনলিমিটেড আবদার- টিকিট ছাড়া দেখতে হবে, সিরিয়াল ছাড়া আসিবামাত্র দেখতে হবে, স্পেশাল তোয়াজ করতে হবে। অনেক সময় ধরে সিরিয়ালে বাচ্চা কোলে দাড়িয়ে থাকা ক্লান্ত মায়ের আকুতি তাদের কাছে তুচ্ছ। মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা তাদের নিত্যকার স্বভাব। নিজের স্বার্থে তারা সবকিছু করতে পারে। কাকে কতটুকু কি বলে সম্বোধন করতে হয় এতটুকু জ্ঞান তাদের বাবা মা শিক্ষা দেয়নি অথবা তাদের পিতৃপরিচয় সন্দেহজনক। যাদের শিক্ষার দৌড় নিজের নামটাও লিখতে কলম ভেংগে যাবার অবস্থা তারাই বিসিএস অফিসারকে যা তা বলতে দ্বিধা করে না। এরাই নাকি দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার হবে। ভাবলে গা শিউরে ওঠে। আমার সন্তানের অসহায় চেহারা ভেসে ওঠে! কি ভয়ংকর এক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাথে লড়াই করে বাঁচতে হবে আমাদের নিরীহ সন্তানদের! তখন নিজেদের নিরাপত্তার কথা একটু তুচ্ছই মনে হয়।

একজন নয় দুজন নয় সংখ্যায় এরা কমও নয় দিন দিন এদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে অবাক করা জিপিএ ফাইভের সংখ্যা।

হাসপাতালে এদের ব্যাস্ততা দেখলে মনে হবে এরা কত ব্যাস্ত!! এদের কত কাজ দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য এদের ব্যাস্ততা সীমাহীন। অথচ এদের অধিকাংশ সময় কাটে অপ্রয়োজনে বাপ/ ভাইয়ের টাকায় তেল পুড়িয়ে সাপের মত আকাবাকা করে মোটর বাইক চালিয়ে পথচারীদের মটর বাইকের নিচে পিষে ফেলার নিরন্তর প্রচেষ্টায়। চায়ের দোকানে আড্ডা /মদের বোতলে বুদ হয়ে থাকা বা গান্জায় ফু দেয়ায়/অন্যের কলেজ / স্কুল পড়ুয়া মেয়েটিকে ইভ টিজিং করতে ব্যাস্ত। এদের পিতামাতা কেউ আছে বলে মনে হয় না। তবে এদের বন্ধুর অভাব নেই।

একদিন এমন একজন এলো মোটরবাইক এক্সিডেন্ট করে সংগে অগনিত ভক্ত( বন্ধু)। ভর্তির কাগজের সাথে ওষুধের স্লিপ দেওয়ার পর বন্ধুদের আর খুজে পাওয়া যায় নাই। অপেক্ষায় থাকতে হলো নিখোজ!! বাবা-মায়ের জন্য।

যাহোক এইরুপ কুশিক্ষিত প্রজন্মের কাছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কি জিম্মি হয়ে যাবে? প্রতিদিন এ ধরনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেয়াদবের সাক্ষাৎ পাই। নিজেকে অনিরাপদ ভাবি। এমনিতেই বর্তমানে চিকিৎসকদের কোন নিরাপত্তা নেই। আর নিজের নিরাপত্তার অনিশ্চয়তার মাঝে রুগীর সুন্দর সঠিক চিকিৎসা দেওয়া অনেক কঠিন। চিকিৎসা চিকিৎসকদের মস্তিষ্কের একটা সমন্বিত ক্রিয়ার মাধ্যমেই দিতে হয়। সেখানে প্রয়োজন সুন্দর নিরিবিলি পরিবেশ। মাছের বাজারের চেয়ে হাসপাতালগুলোতে হৈ চৈ এত বেশী যে মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া কঠিন। অধিকাংশ রুগী/ তাদের লোকজন ভাল আচরন করলেও কতিপয় কুশিক্ষিত স্বেচ্ছাচারী লোকজন এসে পুরা হাসপাতালের পরিবেশ কলুষিত করে চিকিৎসার পরিবেশ নষ্ট করে ফেলে। এরা অনেক ক্ষমতাশালী এবং বেয়াদব প্রকৃতির হওয়ায় চিকিৎসকগন এদের কাছে অসহায়। হাসপাতালে চিকিৎসার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরী করে রুগীদের সঠিক চিকিৎসা পেতে সহায়তা করার মত মানুষের বড় অভাব।

এই সমাজের একজন নিরীহ চিকিৎসক হিসাবে নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়। জানিনা এর থেকে কবে পরিত্রাণ পাবে চিকিৎসক সমাজ।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :