আজ বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

Notice: Undefined variable: bnews_options in /home1/medinewsbd/public_html/wp-content/themes/Medinews Theme/header.php on line 146

Notice: Undefined variable: bnews_options in /home1/medinewsbd/public_html/wp-content/themes/Medinews Theme/header.php on line 146

Notice: Undefined variable: bnews_options in /home1/medinewsbd/public_html/wp-content/themes/Medinews Theme/header.php on line 146
«» ট্রাফিক আইন কার্যকর করতে বদলগাছী থানা পুলিশের লিফলেট বিতরণ «» চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখায় মাদক নির্মূল কমিটি গঠন «» উৎসর্গ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বরগুনায় শুকনো খাবার বিতরণ !!  «» বরিশাল ‘আই এইচ টি’তে জেলহত্যা দিবসে অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে ডিজে পার্টি! «» ভারতের চেয়ে আমাদের স্বাস্থ্যখাত বেশি উন্নত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী «» বিনা মূল্যের ওষুধ বিক্রি, ফার্মেসি মালিককে জরিমানা «» মাতৃমৃত্যু কমাতে হলে সিজারের সংখ্যাও কমাতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী «» মাতৃস্বাস্থ্যে বিশেষ অবদানস্বরূপ ৩ মেডিকেল কলেজকে বিশেষ সম্মাননা «» কিংবদন্তি চিকিৎসক এম আর খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ «» স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে হবে আলাদা মেডিকেল ইউনিট

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিপ্লোমা ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের খোলা চিঠি

★★খোলা চিঠি★★

বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অত্যান্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আজকে আপনার কাছে আমরা লিখতে বসেছি। কারণ আপনি আমাদের মা। একজন মা,ই কেবল তার সন্তানের ব্যাথাটা ভাল বুঝতে পারে এবং সন্তানের কষ্টটাকে ভাগ করে নেয়। সন্তানের হাজারো আবদার পূরণ করে দেয়। আপনার অনুগত হয়েই আপনারই মনোনীত এবং অনুমোদিত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছি। মানুষের মত মানুষ হয়েছি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ এর সার্টিফিকেটধারী ৪ বছরের ডেন্টাল ডিপ্লোমা কোর্স শেষ করেই আমরা ডিপ্লোমা ডেন্টিস্ট হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেছি।

একজন মা তার সন্তানকে শিক্ষিত দেখতে চান। আর সেক্ষেত্রে আপনি আমাদের মা হয়ে আপনিও অত্যন্ত খুশি হয়েছেন সন্তানের এই সাফল্যে। আমাদের এই সফলতাকে কখনোই আমাদের মা অস্বীকার করতে পারেন না। আমরা এটা কখনই বিশ্বাস করি না। আমার মনে হয় আজ আপনার সন্তানদের সাথে যে অবিচার বৈষম্য হচ্ছে তা আপনার অগোচরে। আমরা যে আজ ভাল নেই মা। অনেক কষ্টে অজানা ভীতি আর শংঙ্কা নিয়ে কাটছে আমাদের দিন।

আমাদের কষ্টের কথাগুলো শেয়ার করার জন্য এবং একটি সুন্দর সমাধানের প্রত্যাশায় আপনাকে দু’কলম লেখার সাহস করেছি। শিক্ষিত বানিয়েছেন স্বীকার করতে কোন দ্বিধা নেই, চাকরি দিতে পারেন নাই তাতেও মনে কোন কষ্ট নেই। কিন্তু মা আমাদের কেন এমন শিক্ষায় শিক্ষিত করলেন, যে শিক্ষায় আমরা আমাদের মর্যাদাটুকু পাচ্ছি না। অথচ আজও প্রতিনিয়ত সরকারের অনুমতি নিয়েই নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। রংবেরং এর সাইনবোর্ড আর লিফলেট এর ধোকায় পড়ে অজান্তে সেই সব চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাতে- কলমে লেখাপড়া শিখে অবশেষে যখন সে জানতে পারে সারাদেশে বর্তমানে ১৫ হাজার বেকারের জন্য মাত্র ৩৬ টি পোষ্ট খালি আছে। বছরের পর বছর ঝুলে আছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। সারাদেশে সরকারী- বেসরকারী মিলিয়ে ১১৪ টি ইনিস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩৫০০ জন করে ডিপ্লোমা ডেন্টাল বের হচ্ছে। নেই প্রাইভেট প্রাকটিস এর অনুমতি। কিন্তু মা আমাদেরওতে সংসার আছে, আছে ক্ষুধা।

আমাদের মধ্যে অনেকেরই বাবা নেই, কারও ঘরে বিবাহ যোগ্যা বোন আবার কারও ঘরে অসুস্থ মমতাময়ী মা। আজকে যদি আমি আমার পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য কোন কাজ না করি, তাহলে আপনিই তো আমাকে আপনার দেশের বোঝা বলবেন আর প্রতিবেশিরা বলবে অযোগ্য সন্তান। তাইতো আমরা ডেন্টাল বিষয়ে চার বছর লেখাপড়া শেষ করার পর সরকারী চাকরি না পেয়ে জীবিকার জন্য নিজ উদ্যেগে গ্রামের হাট-বাজারে বসে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। অল্প খরচে গ্রামের মানুষ, ভাই-বোন, বন্ধুদের দন্ত চিকিৎসা সেবা নিতে পারায় নিশ্চিত হচ্ছে সারাদেশে দন্ত স্বাস্থ্য সেবা।

কিন্তু আমাদের সব রকম যোগ্যতা থাকা সত্যেও প্রাইভেট প্রাকটিস এর সরকারী অনুমতি না দেয়ায় বর্তমানে আমরা খুবই দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছি। উল্লেখ্য যে, আমাদের সম-শিক্ষাগত যোগ্যতা, একই বেতন স্কেল, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টির অর্ন্তভূক্ত মেডিকেল এ্যাসিসটেন্টদের প্রাকটিস রেজিষ্ট্রেশন রয়েছে অথচ আমাদের নেই যা আমাদের সাথে বৈষম্য ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিএমডিসি এ্যাক্ট-১৯৮০ এর ১৫ (৩) ধারামতে, কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা ব্যাতিত শুধুমাত্র অন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে ০৫ (পাঁচ) বছরের অভিজ্ঞতা অর্জনকারীগণ প্রাকটিস রেজিষ্ট্রেশনের যোগ্য। অথচ অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন ডিপ্লোমা ডেন্টালদের বেলায় প্রাকটিস রেজিষ্ট্রেশন কি কারণে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়। যে ডিপ্লোমা ডেন্টাল জাতি স্বাধীনতা পরবর্তী থেকে অদ্যবধি পর্যন্তও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীর যাবতীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করে আসছে সেই জাতিকে পুরষ্কৃত করার বদলে র্যাব, পুলিশ এবং ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে নির্মমভাবে সম্মানহানি করা হচ্ছে।

অন্যদের মতো আমরাও যেহেতু আপনার সন্তান, তাহলে সেই সন্তানের সাথে বৈষম্যে ও অবিচার একজন মা হিসেবে আপনি নিশ্চয় সহ্য করতে পারবেন না। আমরা বিশ্বাস করি, এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সারাদেশের আপনার ১৫ হাজার বেকার সন্তানদের রুটি-রুজির মাধ্যম হিসেবে প্রাকটিস রেজিষ্ট্রেশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। মমতাময়ী মা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ডাকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে আমাদেরও বাবা মাও দেশকে স্বাধীনতা উপহার দিয়েছে। আজকে আপনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এসেছে অভূতপূর্ব সাফল্য। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এরুপ ধারাবাহিক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাওয়া ডিপ্লোমা ডেন্টাল জাতির উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের অধিকারটুকু কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

আজকে যেখানে আমার শিক্ষাকে সমৃদ্ধ করার কথা সেখানে আমাদের বিএসসি কোর্সকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আপনার অগোচরে। একজন নাগরিক হিসেবে দু,বেলা-দু,মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচার অধিকার যেমন আমার আছে তেমনি আমরা কিভাবে সৎ উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করব তা ঠিক করে দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্টের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও আজ আমরা বেঁচে থাকার জন্য প্রাকটিস করে জীবিকা নির্বাহ করছি। কারণ আমরা যে শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছি অন্য কোন পেশায় আমাদের লেখাপড়ার কোন মূল্য নেই। আমরা সরকার অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪ বছর লেখাপড়া করেছি, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ এবং জেলা সদর হাসপাতালের ডেন্টাল বিভাগে ফিল্ড ট্রেনিং করেছি, আমাদের মধ্যে অনেকেই সরকারী বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত থেকে রোগীর সেবা দিয়ে আসছে।

তাই একটি দেশের অভিবাবক হিসেবে, আপনাকে বলতে চাই “মা, আমরা আমাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার আলোকে প্রাপ্য সম্মাণ চাই, বেঁচে থাকার জন্য চাই প্রাকটিস রেজিষ্ট্রেশন, আমরা একটি শিক্ষিত জাতি আমরা আরও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে চাই, সমগ্র মেডিকেল ডিপ্লোমা জাতির জন্য ফ্যাকাল্টির বদলে চাই “ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষা বোর্ড” আমরা দেশের কল্যাণে নিজেদেরকে উৎসর্গ করতে চাই”। দয়া করে আমাদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমরা মনে করি। তা না হলে আমার দেশে হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার তৈরী হবে, যা অচিরেই দেশের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :