আজ শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন

নিজের টাকায় শিশুদের জীবন দান করা ডা. কফিল খান বকেয়া বেতনও পাচ্ছেন না

দু:সাহসী হয়ে মানবসেবার অভিশপ্ত পুরস্কার পেয়েছিলেন যিনি। যা তার জীবনে এনেছিল দু:সহ কাল। সেই ডাক্তার কাফিল খানকে মনে আছে? ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে বাবা রাঘব দাস মেডিক্যাল কলেজ একটি ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থাকে। অক্সিজেনের অভাবে ৬০-এরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়।

গোরক্ষপুরের হাসপাতালের ঘটনায় ডা. কফিল খান নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে শিশুদের প্রাণ বাঁচে। সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হতেই তাঁকে যোগী সরকারের কোপে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেন কাফিল খান। তিনি তখন জানান, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত অবনতির জন্য শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তিনি দরকারি অক্সিজেন না পেয়ে নিজের পকেটের টাকায় রোগীদের বাচান। শিশুদের জীবনে ঈশ্বরের মত আসেন।
সেই ঘটনায় উল্টো ড. কাফিল খানকে সাসপেন্ড করে যোগী প্রশাসন। সেই কাফিল খানই শনিবার টুইটারে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তিনি লেখেন, হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও যোগী আদিত্যনাথের সরকার তাঁর বকেয়া বেতন দিচ্ছে না। এমনকী তাঁর সাসপেনশনও তোলা হয়নি। নিজের টুইটে তিনি ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমএ) কাছে আবেদন করেছেন, ‘আমিও চিকিৎসক। আমারও পরিবার আছে যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব আমার কাঁধে। এই বিষয়টা বিবেচনা করা হোক।’ প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে এনআরএস হাসপাতালে ডাক্তার নিগ্রহের ঘটনায় রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে আন্দোলন করছে আইএমএ।

উল্লেখ্য, সাসপেনশন ভাতার দাবি জানিয়ে উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশুতোষ ট্যান্ডনকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন কাফিল খান। ঘটনার পর দুবছর কেটে গেলও উত্তরপ্রদেশ সরকার তাঁকে কাজে ফেরায়নি। সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, গত ১০ মে সুপ্রিম কোর্ট কাফিল খানের সাসপেনশনের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করলেও আইন অনুযায়ী তাঁকে সাসপেনশন ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে। এর আগে এলাহাবাদ হাই কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণের অভাবে তাঁকে জামিন দেয়।

Dear @IMAIndiaOrg
I have been running from pillar to post for over 2 yrs now
Inspit of high & supreme court order neither @myogiadityanath paying my dues nor revoking my suspension
Plz issue a statement for me too.
I am also from your fraternity. I also have a family to feed;

pic.twitter.com/A217RtyAhK

— Dr kafeel khan (@drkafeelkhan) June 15, 2019

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :