আজ রবিবার, ২১ Jul ২০১৯, ১০:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
«» ডেঙ্গুতে বিভিন্ন জেলায় বহু মানুষ আক্রান্ত «» সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে অর্ধশত ডেঙ্গু রোগী «» ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশন সমীপে কিছু কথা «» সিজারে নবজাতকের মৃত্যুর গুজব: কী ঘটেছিল সেদিন? «» কমিউনিটি ক্লিনিকে আপনাকে স্বাগতম! দুঃখিত, এখানে কোন ডাক্তার নেই! «» গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ফেলা রাখা শিশুর দায়িত্ব নিল “চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার” «» সেই ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের সুপারিশ «» ভুটানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগে আবেদন আহ্বান «» ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মায়ের মৃত্যু «» স্বাস্থ্য অধিদপ্তরই যেন মশা উৎপাদনের কারখানা

হাজীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় ও কিছু পরামর্শ

সামনে হজ্জের মৌসুম, আমাদের অনেকেই নিজেরা বা তাদের আত্মীয়স্বজন হজ্জে যাবেন ইনশাআল্লাহ। হজ্জে প্রচুর শারীরিক, মানসিক পরিশ্রম করতে হয়। তাই পূর্ব প্রস্তুতি না থাকলে বিদেশ-বিভুঁইয়ে বিপত্তিতে পড়তে হতে পারে। আমার সুযোগ হয়েছিল ২০১৭ সালে হজ্জ মেডিকেল টিমের সদস্য হিসাবে হাজী সাহেবদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবারের হাজী সাহেবদের জন্য কিছু পরামর্শ।

এবারও হজ্জ হবে প্রচন্ড গরমের মধ্যে। এই গরমে মক্কার রাস্তাগুলো গরম তাওয়ার মতো হয়ে থাকে। তাই কোনো অবস্থাতেই খালি পায়ে রাস্তায় পা রাখা যাবে না। বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা ব্যাবহার করতে হবে। রংচঙে বাহারি ছাতা না, কালো ছাতা ব্যাবহার করা উত্তম।

প্রচুর পানি পান করতে হবে। সাথে থাকা ব্যাগে পানির বোতল রাখতে হবে। তাছাড়া হজ্জের সময় মক্কা-মদিনায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে স্থানীয় জনগন পানিসহ বিভিন্ন পানীয় বিতরণ করেন, সেগুলির সুবিধা নেয়া যেতে পারে।

যারা ক্রনিক অসুখে ভুগছেন, যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদির  প্রয়োজনীয় অষুধ অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমানে নিয়ে যেতে হবে। অনেককেই দেখেছি তাদের ব্যাবহারের অষুধ না নিয়েই হজ্জে চলে গিয়েছেন। আরব দেশে অসুধের অনেক দাম, আর আমাদের হজ্জ ক্লিনিকে সাধারণত ইমার্জেন্সি অসুধ রাখা হয়। আপনার ব্যাবহার করা অষুধ সেখানে না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী, বিশেষ করে Pen fill insulin এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে ব্যাবহৃত দামী অসুধ।

যারা চশমা ব্যাবহার করেন, তারা একটা অতিরিক্ত চশমা সাথে নিবেন। কারণ একমাত্র চশমাটা হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে আরেকটা চশমা সংগ্রহ করা যথেষ্ট খরচের ব্যাপার। গাঢ় রঙের রোদচশমা অবশ্যই নিবেন, দুপুরের রোদে খালি চোখে বাইরে তাকালে চোখের উপর মারাত্মক চাপ ফেলে।

খেজুর খাওয়া সুন্নত, কিন্তু খেজুর খেয়ে ডায়াবেটিস বাড়ানোর কোনো যুক্তি নাই। আমি অনেক রোগী পেয়েছি যারা তিন বেলা ইনসুলিন নিয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতেন না, কারণ এই খেজুর। তারা ভাত-রুটি না খেয়ে শুধু খেজুর খেতেন, ডায়াবেটিস রোগীর জন্য এটা আত্মঘাতী।

কমবয়সী মহিলা যারা হজ্জে যাবার নিয়ত করেছেন, তারা তাদের গাইনি ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে তাদের ঋতুচক্র এডজাস্ট করার ব্যাবস্থা করে যাবেন। অনেককেই হজ্জের সময় এই বিষয়টা নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে দেখেছি। আগে থেকে ব্যাবস্থা নিলে হজ্জের আহকামগুলি সুন্দর ভাবে পালন করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

জাবালে নূর, জাবালে রহমতসহ অনেক ঐতিহাসিক পাহাড় রয়েছে মক্কা-মদিনার আশেপাশে। ঐগুলির চুড়ায় উঠা বা সেখানে ইবাদত করার মধ্যে কোনো স্পেশাল সওয়াব এর কথা কোরান বা হাদিসের কোথাও লেখা নাই। তাই সেই পাহাড়ে উঠার আগে আপনার শারীরিক সামর্থ্যের ব্যাপারটা মাথায় রাখবেন। হেরা গুহা দেখতে যেয়ে পা ভেঙ্গে হাসপাতালে শুয়ে থাকার চেয়ে কাবাঘর তওয়াফ করা অনেক বেশী লাভজনক কাজ।

একা একা এদিকসেদিক ঘুরাঘুরি না করাই উত্তম। যেখানেই যান দলবেঁধে যাবেন, যেনো কোনো বিপদে অন্যরা সাহায্য করতে পারেন। ২০১৭ এর হজ্জের সময় আরাফাত ময়দান থেকে বাংলাদেশ সরকারের একজন পদস্ত কর্মচারী নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার মৃতদেহ আরাফাত ময়দানের বেশ বাইরে পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, ভদ্রলোক হয়তো দলছুট হয়ে বাইরে চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ডিহাইড্রেশন বা অন্য কোনো কারণে ভদ্রলোক মৃত্যুবরণ করেন, যা সম্পুর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত।

আপনাদের সবাই সুস্থ শরীরে সুন্দর ভাবে হজ্জ পালন শেষে প্রিয়জনের মাঝে ফিরে আসুন। আল্লাহ আপনাদের হজ্জকে সহজ করে দিন এবং কবুল করুন।

লে. কর্নেল ডা. গোলাম মোস্তফা সারওয়ার

মেডিকেল অফিসার,মালিতে শান্তিরক্ষী মিশনে কর্মরত।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :