আজ রবিবার, ২১ Jul ২০১৯, ১০:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
«» ডেঙ্গুতে বিভিন্ন জেলায় বহু মানুষ আক্রান্ত «» সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে অর্ধশত ডেঙ্গু রোগী «» ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশন সমীপে কিছু কথা «» সিজারে নবজাতকের মৃত্যুর গুজব: কী ঘটেছিল সেদিন? «» কমিউনিটি ক্লিনিকে আপনাকে স্বাগতম! দুঃখিত, এখানে কোন ডাক্তার নেই! «» গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ফেলা রাখা শিশুর দায়িত্ব নিল “চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার” «» সেই ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের সুপারিশ «» ভুটানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগে আবেদন আহ্বান «» ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মায়ের মৃত্যু «» স্বাস্থ্য অধিদপ্তরই যেন মশা উৎপাদনের কারখানা

ব্রুসেলোসিস রোগের জীবাণু শনাক্ত, প্রতিরোধের সম্ভাবনা

ব্রুসেলোসিস গবাদি পশুর একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। প্রজননতন্ত্রে এ রোগের আক্রমণ হওয়ায় প্রাণীর গর্ভপাত, বন্ধাত্ব ও মৃতবাচ্চা প্রসবজনিত নানা জটিলতার সৃষ্টি করে। কোন প্রজাতির ব্রুসেলা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে এ রোগ সংঘটিত হয় তা জানা না থাকায় রোগটির কোনো চিকিৎসা করা সম্ভব হতো না। ফলে দুগ্ধ খামারিরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুক্ষীণ হতেন।

খামারিদের এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য গবেষণা করে প্রথমবারের মত দেশীয় গরুর ব্রুসেলোসিস রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক।

এর ফলে ব্রুসেলোসিস রোগের ভ্যাকসিন আবিষ্কার ও রোগ প্রতিরোধ করার দ্বার উন্মোচন হয়েছে।

শনিবার (২৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম। গবেষক দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. সুকুমার সাহা, ড. মোছা. মিনারা খাতুন এবং পিএইচডি শিক্ষার্থী সাদেকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রুসেলা অ্যাবোরটাস’ (Brucella abortus) নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে বাংলদেশে গরু ও মহিষে ব্রুসেলোসিস রোগ হয়ে থাকে। ব্রুসেলোসিস একটি জুনোটিক রোগ, যা একই সঙ্গে মানুষ এবং গবাদি পশুতে সংক্রমিত হয়। কিন্তু ‘ব্রুসেলা অ্যাবোরটাস’ ব্যাকটেরিয়ার প্রায় ৮টি ভ্যারাইটি থাকায় দেশে কোনটি দ্বারা এ রোগ হয় তা এতোদিন অজানা ছিল। ব্যাকটেরিয়ার এসব ভ্যারাইটিকে বায়োভার বলা হয়। ২০১৫-২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ তিন বছরের গবেষণা করে দেশে গরুর ব্রুসেলোসিস রোগের জন্য দায়ী ‘ব্রুসেলা অ্যাবোরটাস বায়োভার-৩’ ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে আক্রান্ত প্রাণীর রক্ত বা দুধে এ রোগের অ্যান্টিবডির উপস্থিতি নির্ণয়ের মাধ্যমে ব্রুসেলোসিস রোগ শনাক্ত করা হয়। গবাদি পশুতে এ রোগ শনাক্ত করার জন্য রোজ ব্যাঙ্গল প্লেট টেস্ট, ইলাইসা, মিল্ক রিং টেস্ট ব্যাবহার করা হয়। তবে এ পরীক্ষাগুলো অনেক সময় আক্রান্ত প্রাণীতে সঠিকভাবে ব্রুসেলোসিস রোগ নির্ণয় করতে পারে না। তাই কোন প্রাণীতে ব্রুসেলোসিস নিশ্চিত করার সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হলো আক্রান্ত প্রাণী থেকে এ রোগের ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা। কারণ ব্যাকটেরেয়া শনাক্ত করলেই রোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এ কথা চিন্তা করেই ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করার গবেষণাটি শেষ করা হয়েছে। এছাড়াও এ ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণ জিনোম সিকুয়েন্স করা হয়েছে, যা অ্যামেরিকার ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের জিন ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। আর এ জিনোম সিকুয়েন্স ব্যবহার করে ব্রুসেলোসিস রোগ নির্ণয় পদ্ধতি এবং এর কার্যকর টিকা উদ্ভাবন সম্ভব হবে। যেহেতু ব্রুসেলোসিস একটি জুনোটিক রোগ, গরুতে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে মানুষেও এই রোগের প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :