আজ বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:২০ অপরাহ্ন

ফার্মেসীওয়ালা ও গ্রামের চিকিৎসা

ওহে বঙ্গজননী 

ষোল কোটিরে করছো ডাক্তার,
মানুষ করোনি। 
হ্যাঁ, আপনি-আমি এমন এক দেশে থাকি,যেখানে সবাই ডাক্তার। আজকে গ্রাম পর্যায়ের কয়েক শ্রেনীর বড় ডাক্তারদের তুলে ধরব।
১.
মূলত টঙ্গের পানওয়ালা থেকে ফার্মেসীওয়ালা,ভন্ড কবিরাজ থেকে বড্ড গ্রামরাজ,সবাই,হ্যাঁ,সবাই ডাক্তার। সবচেয়ে বড় ডাক্তারেরা থাকে ফার্মেসীতে ঔষধ বিক্রিরত,এরা নিজের ও অনেকের চোখে বিশেষজ্ঞ ( বিশেষ অজ্ঞ ) । এদের হাতে সেকাল আর একালের কামানতূল্য এন্টিবায়োটিক,স্টেরয়েড,বড় ব্যথানাশক কেউ রেহাই পায় না। অথচ,এরা না জানে সেবন মাত্রা,না জানে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এরা মূলত চিকিৎসাশাস্ত্রকে ম্যাজিক বানিয়ে ফেলেছে,বাচ্চা থেকে বুড়ো,যেই আসুক না কেন,সবোর্চ্চ মাত্রার ঔষধ হাতে ধরিয়ে দিবেই। বিশ্বাস না হলে ফার্মেসীর সামনে আধাঘন্টা দাড়িয়ে থাকেন,আপনার পড়াশুনা ব্যর্থ মনে হবে,আমার ইন্টার্ণী জীবনে কনসালটেন্ট স্যারদের যে ঔষধ দিতে দেখনি কিংবা দিলেও খুব ভেবে চিন্তে,সেই ঔষধ তারা অহরহ দিচ্ছে। এই বড় ডাক্তারেরা না ভাবে রোগীর পরিস্থিতি,না ভাবে রোগীর ভবিষ্যৎ,এদের মূল লক্ষ্য বিক্রি আর টাকা।এবং সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হচ্ছে,যে যেখানে,যেভাবে পাচ্ছে গোটা কয়েক ঔষধ নিয়ে বসে ডাক্তার বনে যাচ্ছে। এই যে,আমরা এন্টিবায়োটিক অকার্যকার নিয়ে এত ভয়,এত প্রচার করছি,কিন্তু ফলটা আসবে না,এরা না থামলে,জনগণ না জাগলে।
২.
আরেক শ্রেণীর বড় ডাক্তার থাকে,কারো রোগ হলে বন্ধুর মত। এরা হয়তো প্রতিবেশী,বন্ধু,পরিচিত কিংবা অর্ধপরিচিত জনৈক শুভাকাঙ্খি। এরা যুদ্ধে নামবে,আমার অমুকের তমুক এরকম রোগে ভোগায় তমুক ডাক্তারের কাছ থেকে ৩৫ কিংবা ৫০ টাকার অমুক ঔষুধ খেয়ে দুদিনেই টনটনা অতত্রব আপনিও খান।
তারপর বেচারা রোগী এর কথা শুনে,ওর কথা শুনে,এটা খাও,ওটা খাও,হয়তো ভাল থাকে,কিংবা থাকেনা কিন্তু ভাল আর হয়না।
৩.
আর এক গ্রুপের বড় ডাক্তার হলো স্বয়ং ডাক্তারেরা,এরা নিজেদের শরীরটাকে পরীক্ষাগার বানিয়ে সময়ে-অসময়ে বিভিন্ন ঔষধ লাগিয়ে গবেষনা করবেই,নিজে নিজে মরবেই। এদের জ্ঞানের কাছে আপনি কিছুই না (অল্প বিদ্যা ভয়ংকর)।
ফলে সময় ফুরালেই দুনিয়া আন্ধার।
৪.
ভন্ড কবিরাজদ্বয় গ্রামীণ পর্যায়ের চিকিৎসাখাতের বড় একটা অংশকে অন্ধকারে টানছে। এরা বড় বড় সব অসুখের চিকিৎসা তাদের বহুমুখী প্রতিভার দ্বারা সহজেই সমাধান করছে,অথচ নিজের রোগের বেলায় ডাক্তারের কাছে যাচ্ছে।
অতত্রব,গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা এখনো অন্ধকারে নিমজ্জিত,এদেরকে আলোয় আনতে হলে ফার্মেসীওয়ালা বড় ডাক্তারসহ অন্যান্যদের ঠেকানো জরুরি।
লেখকঃ
রতন রায়
ইন্টার্ণ ডি.এম.এফ
আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :