
নিজস্ব প্রতিবেদক | ৪ মে, ২০২৬
আধুনিক নাগরিক জীবনে খাদ্যাভ্যাস এবং যান্ত্রিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শারীরিক স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো নীরব ঘাতক থেকে বাঁচতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার কোনো বিকল্প নেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের (Processed Food) ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আমাদের বিপাক প্রক্রিয়াকে (Metabolism) ধীর করে দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফাস্ট ফুড এবং কোমল পানীয় পানের প্রবণতা মেদ বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মেদ ঝরিয়ে ফিট থাকতে পুষ্টিবিদরা নিচের বিষয়গুলোর ওপর জোর দিচ্ছেন:
১. ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ ও প্রোটিন ডায়েট: খাবারের প্লেটে ভাতের পরিমাণ কমিয়ে শাকসবজি, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যোগ করা। চিনি ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার পুরোপুরি বর্জন করা।
২. হাঁটার অভ্যাস: জিম বা ভারী ব্যায়াম সম্ভব না হলেও দৈনিক অন্তত ৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা সাইক্লিং করা।
৩. বিপাক হার বৃদ্ধি: পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা এবং গ্রিন টি বা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করা।
৪. ডিজিটাল ডিটক্স ও ঘুম: রাত জেগে মোবাইল ব্যবহারের ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, যা ওজন বাড়ায়। তাই রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করা।
৫. মানসিক প্রশান্তি: অতিরিক্ত স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তার কারণে শরীরে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, যা তলপেটে চর্বি জমায়।
আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাত দিনে ৫-১০ কেজি ওজন কমানোর যে সব ‘ক্রাশ ডায়েট’ বা ওষুধের বিজ্ঞাপন দেখা যায়, সে ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক জানান, "হঠাৎ করে খাবার বন্ধ করে দিলে শরীরে পুষ্টির অভাব ঘটে এবং হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। ওজন কমাতে হবে ধাপে ধাপে এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে।
Editor: Dr. Mahfuzul Haque Chowdhury
Head of News: Dr. Khan Iftekhar
Office address: Green Road, Dhaka-1205.
MediNews BD © 2025