আজ শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সবাই নিজের পরিবারের মতো ভালবাসতে হবে : মমতা

চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সবাই নিজের পরিবার মনে করে ভালবাসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি  বলেন, ‘হাসপাতালে হাজারটা লোক আসে। ঘটনা ঘটে একটা। সেই ঘটনাই দাগ দিয়ে চলে যায়। আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে একটাও ঘটনা না ঘটে। বোঝাতে হবে। একজন চিকিৎসককে হাজারের বেশি রোগী দেখতে হয়।

সোমবার চিকিৎসক দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে মমতা ব্যানার্জি এসব কথা বলেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

মমতা ব্যানার্জি বলেন, আমি তো আউটডোরগুলোর হিসেব জানি। লক্ষ লক্ষ মানুষ আসেন। তাঁরা চিকিৎসা না পেলে মুখগুলো শুকিয়ে যায়। এই জায়গাটা ভালবাসার জায়গা। নিজের পরিবার-পরিজনকে যেমন ভালবাসি, চিকিৎসা ব্যবস্থাকেও নিজের পরিবার মনে করে ভালবাসতে হবে।’মমতা আরও বলেন, শহরের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্থানীয় চা বিক্রেতা বা দোকানদারদের একাংশকে রাজ্য সরকার ‘পথবন্ধু’ হিসাবে বেছে নেবে। তাঁদের কাছে একটি অ্যাপ থাকবে। যার সাহায্যে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথমে পুলিশ এবং পরে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন তিনি।

মমতা বলেন, “আজকে (সোমবার) বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মদিন। রাজনীতির বাইরে চিকিৎসক হিসেবেও তিনি বিখ্যাত ছিলেন। তাই প্রতিবছর এই দিনটিকে চিকিৎসক দিবস হিসেবে পালন করি। এই দিনটাতে চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত থাকা সমস্ত মানুষকে অভিনন্দন জানাই।

এবছর চিকিৎসকদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি ট্রমা সেন্টার উদ্বোধন করা হয়। ১০০ কোটির বেশি টাকা খরচ করা হয়েছে এটি তৈরি করতে। আমি মনে করি, এই ট্রমা সেন্টারটি ভারতের মধ্যে একনম্বর। ২৫০টি বেড থাকছে এখানে। পিপিপি মডেলে আরও ১৪ কোটি খরচ করে স্ক্যান ও এমআরআই-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৭০০-র বেশি পদ তৈরি করা হয়েছে। এটা আমাদের গর্ব করার মতো বিষয়। এই ট্রমা সেন্টারটি আগামিদিনে অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচাবে।”

চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় যজ্ঞ

সারা শরীর বর্মে ঢাকা। এক হাতে স্টোথোস্কোপ, আর এক হাতে ঢাল। তার উপরে লেখা, ‘চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া এখন প্রতিদিনের যুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকেরা হয়ে গেছেন যোদ্ধা’!

চিকিৎসক দিবসে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পোস্ট করা কার্টুনই বলে দিচ্ছে, সোমবার বিশেষ দিনের উদ্‌যাপনের নানা মুহূর্তের মধ্যে কর্মস্থলে নিরাপত্তার দুর্ভাবনা কী ভাবে ঘিরে রেখেছে চিকিৎসক সমাজকে।

শুধু কী কার্টুন? হোয়াটসঅ্যাপে চিকিৎসকদের শুভেচ্ছা বার্তা জানানোর মধ্যেও চিকিৎসক নিগ্রহ এবং তার প্রেক্ষিতে রোগী-ডাক্তার সম্পর্কের উন্নতি ঘটানোর বার্তা। শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসককে পাঠানো সেই শুভেচ্ছা বার্তায় প্রেরক লিখেছেন, ‘‘চিকিৎসকদের উপরে সমাজের বিশ্বাস এবং আস্থার বাঁধন আরও দৃঢ় হোক। তা হলেই রোগী-ডাক্তারের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে তা মিটে যাবে।’’

রাজা বসন্ত রায় রোডে সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার অনুষ্ঠানে তো চিকিৎসকদের জন্য রীতিমতো যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা সেই যজ্ঞে চিকিৎসক সেজে বসেছিলেন কয়েক জন। বিভিন্ন ক্যাপসুলের আকারে তৈরি মিষ্টি ছিল নৈবেদ্য। স্যালাইনের বোতলে গঙ্গাজল। কলাপাতার উপরে সাজানো রয়েছে চিকিৎসার বিভিন্ন সরঞ্জাম।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :