আজ শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

দুঃখ ভোলার ওষুধ

লোভ বিষয়টা মানবজাতির মজ্জাগত। বড়লোকের লোভ এক রকম। গরীবের লোভ আরেক রকম। গরীবের লোভ আমাদের বিচারে সামান্য তাই আমরা তাদের ব্যাপারে সহানুভুতিশীল। তবে কোন লোভই স্বাস্থ্যকর না। মানুষ স্বাস্থ্যের কথা কম ভাবে। বস্তুর প্রাপ্তিতেই তার আনন্দ।

লোভ সবসময়ই যুক্তির বাইরের বিষয়। যে সম্পদ আদৌ সে ভোগ করতে পারবেনা বা আদৌ কাজে আসবে না সেটাও সে লোভে পড়ে আত্মসাত করে। এখানে যুক্তি কাজ করেনা। কাজ করে প্রবৃত্তি।

গ্রামের মানুষ অনেকসময় সরকারি ওষুধ লোভে পড়ে খায়৷ দরকার ছাড়াও খায়৷ না খেলেও নিয়ে যায়। বাড়িতে ফেলে রাখে। খুব সামান্য লোভ। তাই বলি “আহারে নিকনা কিছু ওষুধ।”

সারাদিনের কর্মক্লান্ত দেহে একটু আধটু বিষব্যথা হয়৷ প্যারাসিটামল খেয়ে একটু আরাম পায়৷ পায়খানা সামান্য নরম হলেই চলে আসে। “ডাক্তার সাব পায়খানা দিয়া বিজল যায়। বড়ি দ্যান। ” বললাম একটু আধটু বিজল যেতেই হয়। নয়ত পায়খানা কষা হবে। কষ্ট পাবেন৷

দ্যালাইন কয়ডা ওষুধ। প্যাট লামার ওষুধ দ্যান, স্যালাইন দ্যান।

কেউ কেউ রোগের কথাও বলেনা সরাসরি ওষুধের ফরমায়েশ।

রোগ হয়েছে সাধারণ সর্দিকাশি। সাপ্লাই আছে মন্টিলুকাস্ট। দামী ওষুধ। এজমার রোগীদের দেই। সর্দিকাশির রোগী এসে বলে “লুমনা ট্যাবলেট দেন। আপনাদের হাসপাতাল থেকে দেয়। ”

“চোখের ড্রপ দেন। চোখে ঝাপ্সা দেখি। ” হয়ত ছানি। কিন্তু নেবে এনটিবায়োটিক ড্রপ। ফ্রি পায় এতেই আনন্দ।

বুঝায়ে বলি, “এগুলো তো আপনার কাজে আসবেনা।”

রোগী উল্টো বলে, ” না স্যার, সরকারি ওষুধ খুব কাজের। দিলে উপকার হয়। ”

কারো কারো হয়ত কোন অসুখই নেই। কাজ কাম নেই। এদিকটায় এসেছিল। কিছু ফ্রিতে ওষুধ নিয়ে গেল।

কিছু রোগী আসে হতদরিদ্র। ভবঘুরে, ভিখিরি গোছের। এসেই বলে “ওষুধ কিনে খাইতে পারিনা। আমার কোন ছেলে পেলে নাই।” এরা তিনবেলা ভাতও হয়তো খেতে পায়না ঠিকমত। ওষুধ খেয়ে খুশি থাকে। লিখে দেই। বি কম্পলেক্স, আয়রন, এন্টাসিড। খুশিতে বাক বাকুম করতে করতে বেরিয়ে যায়। স্যালাইনের প্যাকেট পেলে আরো খুশি।

রাষ্ট্রের, সমাজের সকল বঞ্চনার দুঃখ ভুলে যায় ফ্রিতে কটা ওষুধ পেয়ে। এদের এই ওষুধের লোভ ঠিক লোভ নয়। রাষ্ট্রের কাছ থেকে একটা কিছু পাওয়ার আনন্দ।

ডা. গুলজার হোসেন উজ্জল

হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :