আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
«» “একজন স্বেচ্ছাসেবী,নিয়মিত রক্তদাতা সাদিয়া ক্যান্সারে আক্রান্ত, আর্থিক ভাবে সকলেই এগিয়ে আসুন”  «» ইউনানী/হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার-ফার্মাসিস্ট সহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশাল নিয়োগ «» ঢামেকে ব্রাদার ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সংঘর্ষে আহত ২৫ «» আগামী সাতদিন খুবই চ্যালেঞ্জিং : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর «» বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প «» শুকরের চর্বিতে উৎপাদিত তেলে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের হৃদপিণ্ড! «» প্রাকৃতিক উপায়ে এডিস মশা থেকে মুক্তির উপায় «» ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত নতুন রোগী প্রায় ২ হাজার «» স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী «» এবার ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসক লাঞ্ছিত

লিভার প্রতিস্থাপনের রোগী সিরাজুল ভালো আছেন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন লিভার প্রতিস্থাপনের রোগী সিরাজুল ইসলাম ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন বিএসএমএমইউর হেপাটোবিলিয়ারি প্যানক্রিয়াটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লিভার ট্রান্সপ্লান্ট চালু ও ২০ বছর বয়সী যুবক সিরাজুল ইসলামের জটিল ও ব্যয়বহুল কিডনি ট্রান্সফার নিয়ে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিল্টন হলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান তিনি।

অধ্যাপক ড. জুলফিকার রহমান জানান, সার্বিকভাবে সিরাজুল ইসলাম ভালো আছেন। অস্ত্রোপচারজনিত জটিলতা নেই। তবে বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের পর দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বায়োকেমিক্যাল কিছু সমস্যা এখনও রয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে এর চিকিৎসা চলছে। তবে সিরাজুল ইসলামকে সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত বলা যাবে না। তাকে আরও চার সপ্তাহ নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি জানান, লিভারদাতা সিরাজুল ইসলামের মা সম্পূর্ণ ভালো আছেন। দু-একদিনের মধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হবে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, আজ অপারেশনের ১৪তম দিন। লিভারদাতা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। তার ব্লাড প্রেসার ও রেস্পিরেশন নরমাল। তিনি স্বাভাবিক মুখে আহার গ্রহণ করছেন। তার বায়োকেমিক্যাল কিছু এবনরমালিটি আছে। যেহেতু তিনি উচ্চমাত্রার ইমিউনো সাপ্রেশন মেডিসিন পাচ্ছেন, সেহেতু তার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তার প্রতিস্থাপিত লিভার কাজ শুরু করেছে; তবে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করতে চার-ছয় সপ্তাহ সময় লাগবে।

ব্রিফিংয়ে অস্ত্রোপচারের দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কিডনিদাতা ও কিডনি গ্রহণকারী দুজনের ওপর নির্মিত একটি ভিডিওক্লিপ প্রদর্শন করা হয়। এতে দেখা গেছে, সিরাজুল ইসলাম নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে বিছানা থেকে নেমে পায়চারী করছেন। বসে চা খাচ্ছেন আবার কখনো নিজ হাতে স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছেন। অস্ত্রোপচারের চারদিন পর থেকেই তার মাকে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করানো হয়। তার মা তাকে লিভারের শতকরা ৬০ শতাংশ দান করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, সফল অস্ত্রোপচারের জন্য জুলফিকার রহমানের নেতৃত্বে ৬০ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল নিরলস পরিশ্রম করেছে। এখনও করছে। সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় সিরাজুল ইসলাম নামে ২০ বছর বয়সী ওই যুবক অনেক ভালো আছেন। তার মা সুস্থ হওয়ায় রিলিজ দেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো লিভার প্রতিস্থাপনের রোগী ও তার মা সম্পর্কে খোঁজ-খবর রেখেছেন। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মাঝে যেন সংক্রমণ না ছড়ায় সে জন্য বিশেষ যত্ন নিতে বলেছেন।

উপাচার্য জানান, গত ২৪ জুন বিএসএমএমইউয়ের ৬০ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল প্রায় ১৮ ঘণ্টা অস্ত্রোপচার অংশ নেয়। তাদের সহায়তা করে ভারতের খ্যাতনামা লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ একটি দল।

উপাচার্য আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিন-চারজন রোগীর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা হবে। পরবর্তীতে সব খরচ বিবেচনায় প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। তবে বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বাংলাদেশ লিভার ট্রান্সপ্লান্ট খরচ অনেক কম হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক জুলফিকার রহমান খান জানান, তার জানা মতে প্রতিবেশী দেশ ভারতে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট খরচ এক কোটি ও সিঙ্গাপুরে দুই কোটি টাকা। বাংলাদেশে এ খরচ ২৫ লাখ টাকার মতো হবে।

তিনি আরও জানান, তাঁর নেত্বেত্বে শল্য চিকিৎসক টিমে ছিলেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মোহছেন চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিধান চন্দ্র দাস, সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফ উদ্দিন এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. নূর-ই-এলাহী।

রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন—ডা. ওমর সিদ্দিকী, ডা. মোহাম্মদ ইমরুল হাসান খান, ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান, ডা. রাসেল মাহমুদ, ডা. আব্দুল্লাহ মো. আবু আইউব আনসারি, ডা. সারওয়ার আহমেদ সোবহান, ডা. মো. নাজমুল হক, ডা. এস এম মোর্তজা আহসান, ডা. জাবিউল আসলাম, ডা. মো. আবদুল কাইউম, ডা. মো. আরিফুজ্জামান, ডা. মো. আসাদুজ্জামান নূর, ডা. মোস্তফা মামুন ওয়ারিদ, ডা. একে আজাদ, ডা. সবিত রানা, ডা. আজফার বিন আনিস এবং ডা, মো. ইমরান আলী।

জটিল এ অপারেশনের রোগীকে অজ্ঞান করার জন্য অধ্যাপক একেএম আখতারুজ্জামান, চেয়ারম্যান, অ্যানেসথেসিয়া অ্যানালজেসিয়া ও ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের নেতৃত্বে অ্যানেসথেসিয়া টিমে ছিলেন অধ্যাপক মো. আব্দুল হাই, ডা. ইকবাল হোসেন চৌধুরী, ডা. সাবিনা ইয়াসমিন, ডা. মন্তোষ কুমার মণ্ডল, ডা. সঞ্জয় কুমার সাহা, ডা. মো. মোস্তফা কামাল এবং রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন ডা. মো. আসিফ মাহমুদ, ডা. কল্যান দেবনাথ, ডা. সানাউল হক মাসুদ, ডা. শাহরিনা শারমিন, ডা. রকি দাস গুপ্ত, ডা. সুদীপ কুমার দাস এবং ডা. মো. কামরুল হাসান।

অপারেশন চলাকালীন ইমেজিং সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য ছিলেন রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের সহকারী অধ্যঅপক ডা. এম. এইচ মোস্তফা কামাল ও রেসিডেন্ট দীপক ভার্মা। এই চিকিৎসক টিমকে সহায়তা করেন ভারতের প্রতিথযশা লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডা. পি বালাচন্দ্র মেননের (Dr. P. Balachandra Menon) চার সদস্য বিশিষ্ট টিম। এই ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রমে নার্স টেকনিশিয়ান, ওয়ার্ডবয়সহ সহায়ক ভূমিকা রাখেন ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ, নিউরোসার্জারি বিভাগ, কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগ,রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং বিভাগ, ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগ, প্যাথলজি বিভাগ, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসকবৃন্দ।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :