আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
«» “একজন স্বেচ্ছাসেবী,নিয়মিত রক্তদাতা সাদিয়া ক্যান্সারে আক্রান্ত, আর্থিক ভাবে সকলেই এগিয়ে আসুন”  «» ইউনানী/হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার-ফার্মাসিস্ট সহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশাল নিয়োগ «» ঢামেকে ব্রাদার ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সংঘর্ষে আহত ২৫ «» আগামী সাতদিন খুবই চ্যালেঞ্জিং : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর «» বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প «» শুকরের চর্বিতে উৎপাদিত তেলে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের হৃদপিণ্ড! «» প্রাকৃতিক উপায়ে এডিস মশা থেকে মুক্তির উপায় «» ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত নতুন রোগী প্রায় ২ হাজার «» স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী «» এবার ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসক লাঞ্ছিত

অবশেষে চিকিৎসকের কাছে ক্ষমা চাইলেন সেই ম্যাজিস্ট্রেট

চলন্ত ট্রেনে ধূমপানে বাধা দেয়ায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় কিশোরগঞ্জে এসে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন মৌলবীবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিৎ কুমার চন্দ। ভবিষ্যতে এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে ব্যাপারেও তিনি সতর্ক থাকবেন বলে সবার কাছে শপথ নিয়েছেন।

শনিবার সকালে সুনজিত কুমার তাঁর কর্মস্থল মৌলভীবাজার থেকে কিশোরগঞ্জের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজে যান। সেখানে গিয়ে তিনি চিকিৎসক রাফিউল সিরাজের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আ. ন. ম নওশাদ খান, জেলা বিএমএ’র সভাপতি ডা. মাহবুব ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল ওয়াহাব বাদল, সিভিল সার্জন ডা. মো. হবিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক পিপিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপতালের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আ. ন. ম নওশাদ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের ডাক্তারকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আমরা আন্দোলন করছিলাম। এ পরিস্থিতিতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক অভিযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে মেডিকেলে আসেন। দীর্ঘ সময় এ নিয়ে কথা হয়। ওই ম্যাজিস্ট্রেট নিজের ভুল বুঝতে পেরে লাঞ্ছনার শিকার ডাক্তারের কাছে ক্ষমা চান। সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুন এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জয়ন্তিকা ট্রেনে খালাতো ভাইকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওয়ানা দেন কিশোরগঞ্জ প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের লেকচারার ডা. রাফিউল সিরাজ।

ট্রেন মনতলা স্টেশনে থামলে একজন লোক তাদের সামনে ধূমপান করতে থাকেন। প্রচণ্ড ভীড় ও তীব্র গরমে অতীষ্ট হয়ে এক পর্যায়ে তারা তাকে ধূমপান না করার অনুরোধ করেন। তিনি তাদের কথায় কান না দিয়ে উল্টো রেগে দিয়ে বলেন, “তোদের বাড়ি কই? আমারে চিনস? দাঁড়া সামনের স্টেশনে তোদের সব কয়টারে বানামু।”

এ সময় পাশে থাকা ওই এলাকার এক বয়োবৃদ্ধ লোক তার কথার প্রতিবাদ করলে ধূমপায়ী লোকটি তাকে বলেন “তোমার বাড়ি কই?” তিনি উত্তরে বলেন শায়েস্তাগঞ্জ। তখন ধূমপায়ীর বাড়ির কথা জানতে চাইলে সে ওই মুরব্বির সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। পরে তাকে শাসিয়ে বয়োবৃদ্ধ লোকটি ট্রেন থেকে নেমে যান।

কিছুক্ষণ পর ট্রেন শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনে থামলে হঠাৎ তার ডাকে ২০-২৫ জন লোক ট্রেনে উঠে ডা. রাফিউল সিরাজ ও তার ভাইকে ট্রেন থেকে টেনে হিচড়ে নামিয়ে মারধর করে। এ সময় তার হাতে থাকা মোবাইল ও টাকা পয়সা নিয়ে যায়।

ট্রেনে তার সঙ্গে পরিস্থিতির শিকার অন্য লোকদেরকে পায়ে ধরতে বাধ্য করে ওই ধূমপায়ী। পায়ে ধরতে অস্বীকৃতি জানালে ডা. রাফিউল সিরাজকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা।

পরে রেলওয়ে পুলিশ তাদেরকে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে এক পুলিশের এএসআই ওই চিকিৎসককে মাদক আইনে জেলে ঢুকানোর হুমকি দেয়। পরে জানা যায়, ওই এ এস আই ধূমপায়ীর বন্ধু। তার নাম টুটুল।

রেলওয়ে থানার ওসি বিষয়টি প্রত্যক্ষ করলেন এবং পুরো ঘটনা শোনার তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন। তিনি ডা. রাফিউল সিরাজ ও তার ভাইয়ের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং দুইজন কনস্টেবল দিয়ে নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই ম্যাজিস্ট্রেটের বিচার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে কিশোরগঞ্জে কর্মসূচি পালন করছিল রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, কিশোরগঞ্জ ২৫০ জেনারেল হাসপতালসহ বিভিন্ন সংগঠন।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :