আজ মঙ্গলবার, ১৮ Jun ২০১৯, ০২:৩৫ অপরাহ্ন

পাকিস্তানে প্র্যাকটিস করেন না ৮৫ হাজার নারী চিকিৎসক

পাকিস্তানে ৮৫ হাজার নারী চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেও প্র্যাকটিস (চিকিৎসাসেবা দেয়া) থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য।

পরিসংখ্যান বলছে, এই নারী চিকিৎসকদের অর্ধেকও যদি চিকিৎসা পেশায় আসতেন তবে দেশটির নিম্নবিত্ত পরিবারের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা অন্তত ৭০ শতাংশ কমে যেত।

দেশটির স্বাস্থ্য সংগঠন ‘সেহত কাহানি’ সম্প্রতি পাকিস্তান কার্ডিয়াক সোসাইটির সঙ্গে একটি ‘মউ’ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

পাকিস্তানে নিম্নবিত্ত শ্রেণির মধ্যে হৃদরোগ সংক্রান্ত সমস্যা, কোলেস্টেরল নিয়ে সচেতনতা প্রসারের জন্যই এই চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসকরা নিম্নবিত্ত পরিবারে গিয়ে তাঁদের সচেতন করার চেষ্টা চালাবেন, সেই সঙ্গে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।

এই কাজের জন্য যে চিকিৎসকরা ডাক্তারি পড়ার পরও প্র্যাক্টিস করছেন না, তাঁদের খোঁজ শুরু হয়। আর তাতেই প্রকাশ্যে আসে নারী চিকিৎসকদের চিকিৎসা পেশায় অনীহার কথা।

সেহত কাহানির সিইও ডা.সারা সাঈদ বলেন,  ‘পাকিস্তানের নিম্নবিত্ত পরিবারের হাজার হাজার নারী ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরিষেবাটুকু পান না। এ দিকে, হাজার হাজার পাক মহিলা ডাক্তারি পড়েও প্র্যাক্টিস করছেন না। তাঁদের ডাক্তারি পেশায় আনানো গেলে অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচত।’

ডা. সারা সাঈদের প্রতিষ্ঠানে ১৫০০ নারী চিকিৎসক ও ৯০ জন নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করছেন। ডা. সাঈদের পরিকল্পনা ২০১৩ সালের মধ্যে তিনি দেশটিতে ১০০টি ই-ক্লিনিক গড়ে তুলবেন যার মাধ্যমে ১ কোটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যসেবা পাবে।

এদিকে নারী চিকিৎসকদের চিকিৎসা পেশায় অনীহা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন এশিয়ার অন্যতম মুসলিম অধ্যুষিত দেশ পাকিস্তানের নাগরিকরা।

এক টুইট বার্তায় দেশটির অভিনেত্রী আরমিনা খান বলেন, যোগ্যতা থাকার পরও পাকিস্তানের ৮৫ হাজার নারী প্র্যাকটিস করছেন না। এর কারণ, অভিজাত ফ্যামিলি থেকে বিয়ের প্রস্তাব ও স্বামীর পরিবার থেকে প্রতিবন্ধকতা তৈরি।

অভিনেত্রী আরমিনা খান আরও মন্তব্য করেন, যেসব চিকিৎসক চিকিৎসা পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করছেন না তাদের জরিমানা হওয়া উচিত। এর জন্য তাদের উচিত পড়াশোনায় যত টাকা খরচ হয়েছে, তা সরকারকে ফিরিয়ে দেওয়া, যাতে সেই টাকা দিয়ে নতুন ডাক্তার তৈরি করা যায়।

তার এ বক্তব্যে চিকিৎসকসমাজসহ বিভিন্ন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

ফাতিমা খান নামের একজন মন্তব্য করেন, নারী চিকিৎসকদের পেশায় না যাওয়ার কারণ হলো-পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাব, কর্মস্থল নিরাপদ না হওয়া ও পরিবারের পক্ষ থেকে অধিকমাত্রায় সময় দেয়ার চাহিদা অন্যতম।

ডা. এশা নামের একজ রিটুইট করে লেখেন, নারী চিকিৎসকরা চিকিৎসা পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন এমন  অভিযোগ দেয়া সহজ। কিন্তু কেউ চিন্তা করছেন না আমাদের সমাজ নারী চিকিৎসকদের কোন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখে। সমাজ নারী চিকিৎসকদের প্রতি কতটুকু সহনশীল? আমি কোনো হাসপাতালকে নারীদের জন্য উপযুক্ত কর্মস্থল ভাবতে পারি না, যেমন পারি না খেলার মাঠ বা স্কুলগামী শিশুদের পরিচর্যা নিশ্চিত করতে।
ইমরান মুজিব সিদ্দিক নামের একজন লেখেন, নারী চিকিৎসকদের অনেকেই প্র্যাকটিস করছেন না এ তথ্য আমি বিশ্বাস করি। আবার দেখছি, বেশিরভাগ চিকিৎসক দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। যেসব ডাক্তার রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় করছেন তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।

মিসবাহ রিয়াজ নামের এক নারী মন্তব্য করেন, দুঃখিত আপনার মন্তব্যের সঙ্গে আমি একমত হতে পারছি না। আপনি কাউকে জোর করে কোনো পেশায় আটকে রাখতে পারেন না। প্রতিদিন হাজার হাজার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে। তারা সবাই নিজেদের পছন্দমতো অন্য পেশায় ক্যারিয়ার গড়ছে। তাদের তো কেউ জোর করছে না।

সূত্র : ডন,  দ্য নিউজ, সামা টিভি

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :