আজ রবিবার, ২১ Jul ২০১৯, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
«» ডেঙ্গুতে বিভিন্ন জেলায় বহু মানুষ আক্রান্ত «» সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে অর্ধশত ডেঙ্গু রোগী «» ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশন সমীপে কিছু কথা «» সিজারে নবজাতকের মৃত্যুর গুজব: কী ঘটেছিল সেদিন? «» কমিউনিটি ক্লিনিকে আপনাকে স্বাগতম! দুঃখিত, এখানে কোন ডাক্তার নেই! «» গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ফেলা রাখা শিশুর দায়িত্ব নিল “চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার” «» সেই ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের সুপারিশ «» ভুটানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগে আবেদন আহ্বান «» ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মায়ের মৃত্যু «» স্বাস্থ্য অধিদপ্তরই যেন মশা উৎপাদনের কারখানা

অবাধে বিক্রি হচ্ছে যৌনতাবর্ধক ওষুধ : দেশজুড়ে ধর্ষণ এখন মহামারী!

মাহবুব কবির মিলন :

ফার্মেসিতে ঢুকলাম একটি ঔষধ নেয়ার জন্য। বিক্রেতা দেখলাম দ্রুত পাশে দাঁড়ানো একটি ১৪/১৫ বছরের ছেলের হাতে প্যাকেটে ঔষধ দিয়ে নামটি আস্তে করে বলল। কেমন যেন সন্দেহ হল। জিজ্ঞাস করাতে একটু দেরি করেই নাম বলল সে। আমি বললাম, সিল্ড*** মানে ভায়াগ্রা (Sil****) না? চুপ করে আছে সে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া একটি বাচ্চা ছেলের হাতে দিয়ে দিলেন!! স্যার সবাই হরদম বিক্রি করছে, বিক্রেতার উত্তর।

পরেদিন দেশের বাইরে যাব। ব্যস্ততা ছিল। ভুলে গেলাম পরে। অভিযোগ আর করতে পারিনি।

প্রায় বছর দেড়েক/দুয়েক আগে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জেনেছিলাম আমাদের দেশে মাত্র ২২টি কোম্পানিকে অনুমতি দেয়া হয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ড নামে Sild**** উৎপাদন করতে। আজ খোঁজ নিলাম, Sild***** বানাচ্ছে দেশের ৯১টি কোম্পানি। যৌন উত্তেজক আর একটি ঔষধ আছে, জেনেরিক নাম Tad*****, বিভিন্ন নামে এই Tad***** বানাচ্ছে ৮১টি কোম্পানি।

কত বড় রমরমা ব্যবসা হলে এতগুলো ঔষধ কোম্পানি Sild*****, Tad***** বানাচ্ছে আমাদের দেশে!! ৫ এমজি থেকে ১০০ এমজি ক্ষমতার ঔষধ বাজারে অত্যন্ত সহজলভ্য।

ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া সম্পূর্ণভাবে বিক্রি নিষেধ এই ঔষধগুলো। কিন্তু আমাদের সব নিয়ন্ত্রিত ঔষধেই ব্যবস্থাপত্র ছাড়া সারা দেশেই বিক্রি হয় দেধারছে। এর মধ্যেই স্থান করে নিয়েছে Sild, Tad**** নামক ভয়াবহ অস্ত্র। নিজেকে এবং সমাজকে ধ্বংসের এক মারণাস্ত্র।

অনেকের জন্য তা প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু একজন উচ্চ রক্তচাপের রোগী যদি ২৫ বা ৫০ এমজির Sild***** খেয়ে ফেলেন, তার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে স্ট্রোক কিংবা হার্ট এটাকে। সেখানে পাওয়া যায় ১০০ এমজি।

বর্তমানে মারাত্মক অবৈধ যৌনাচার বা ধর্ষণে ওভার দ্যা কাউন্টার বিক্রি হওয়া বা প্রেসক্রিপশন ছাড়া সবার কাছে দেধারছে বিক্রি হওয়া এই ঔষধগুলো কোন ভূমিকা রাখছে কিনা জানি না। তা বিশেষজ্ঞগণ বলতে পারবেন। কিন্তু অত্যন্ত সহজে ছোট বড় সবার কাছে এই ঔষধ পৌঁছে যাওয়া এক মারাত্মক পরিণতির দিকে আমাদের ধাবিত করছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একজন দায়িত্বসম্পন্ন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম, আপনারা কন্ট্রোল বা মনিটরিং করতে পারেন না, অথচ এত অসংখ্য কোম্পানিকে এই ঔষধ বানাবার অনুমতি দিয়ে যাচ্ছেন!! তিনি উত্তর দিলেন, আমাদের লোকবল স্বল্পতার কারণে বাজার মনিটরিং করতে পারি না।

আমি এত কিছু লিখতে চাই না। সমাজে কি ঘটে ঘটুক। দায় আমার একার নয়। প্রায় বন্ধুরা বলে, আমার গিন্নি বলে, এত কিছুতে নাক গলাবার কারণে তোমার চাকুরী চলে যাবে। বৌ বাচ্চাকে খাওয়াবা কি?

চুপ করে থাকি আমি। আমি জানি যে কোন দিন চাকুরী যাবার নোটিশ নিয়ে পরিবার বাচ্চাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে হবে হয়ত আমাকে। তুবও বাচ্চাদের বলব, তোমার বাবা তোমাদের জন্য চেষ্টা করে গেছে। মাথা নত করেনি।

শান্তি দেয় না আমায়। চুপ থাকতে দেয় না আমায়। ৪৮ বছর আগে দেখা সোনার বাংলার স্বপ্ন ঘুমাতে দেয় না আমায়। কানে বাজে অসহায়ত্ব আর হাহাকারে ভরা বঙ্গবন্ধুর সেই কণ্ঠ।

লেখক :

Member, Additional Secretary, Bangladesh Food Safety Authority at Government of Bangladesh

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :