আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
«» “একজন স্বেচ্ছাসেবী,নিয়মিত রক্তদাতা সাদিয়া ক্যান্সারে আক্রান্ত, আর্থিক ভাবে সকলেই এগিয়ে আসুন”  «» ইউনানী/হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার-ফার্মাসিস্ট সহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশাল নিয়োগ «» ঢামেকে ব্রাদার ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সংঘর্ষে আহত ২৫ «» আগামী সাতদিন খুবই চ্যালেঞ্জিং : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর «» বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প «» শুকরের চর্বিতে উৎপাদিত তেলে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের হৃদপিণ্ড! «» প্রাকৃতিক উপায়ে এডিস মশা থেকে মুক্তির উপায় «» ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত নতুন রোগী প্রায় ২ হাজার «» স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী «» এবার ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসক লাঞ্ছিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশন সমীপে কিছু কথা

বেশ কিছুদিন ধরেই ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাসবাহী এডিস মশার প্রকোপ বেড়েছে। রাজধানীতে এর প্রকোপ বেশি। এখন তা ছড়িয়ে পড়ছে অন্যান্য জেলাগুলোতেও। এ অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, বাংলাদেশে যেভাবে মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে তা উদ্বেগজনক।

তবে ডেঙ্গু হলে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। এ বিষয়ে সহায়তা পেতে হট লাইন নম্বরও দিয়েছে তারা। সিটি কর্পোরেশন বলছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া সংক্রান্ত ফোন পেলে স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীর বাসায় চলে যাবে। শুনে মনে হচ্ছে, কি চমৎকার ব্যবস্থা। চিকিৎসা একেবারে জনতার দোরগোড়ায়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, হাসপাতালে নেওয়ার পর ডেঙ্গুর চিকিৎসা দিতে বড় বড় অধ্যাপকরা যেখানে হিমশিম খাচ্ছেন। সেখানে স্বাস্থ্যকর্মী বাসায় গিয়ে কি করবেন?

জ্বর হলে করণীয়: 
এখন জানা দরকার, জ্বর হলে প্রাথমিকভাবে করণীয় কি? রক্তের রুটিন পরীক্ষা করা আর ডেঙ্গু NS1 পরীক্ষা করা৷ পাঁচ দিন গড়ালে পরে antibody পরীক্ষা করা। বলা বাহুল্য, এর কোনোটাই স্বাস্থ্যকর্মী করতে পারবে না, সম্ভবও না৷

এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন বা রাষ্ট্র যা করতে পারে সেটা হলো—এই পরীক্ষাগুলো সরকারি হাসপাতালে আলাদা বুথ করে বিনামূল্যে বা সুলভে করার ব্যবস্থা করা।

সিটি করপোরেশন চাইলে প্রায়ভেট হাসপাতালগুলোতেও আলাদা বুথ করতে পারে। সেখানে বিশেষ হ্রাসকৃত মূল্যে পরীক্ষাগুলো করার ব্যবস্থা করতে পারে।

সিটি করপোরেশন চাইলে একটা ভালো ব্লাড ব্যাংক করতে পারে, যেখানে আফ্যারেটিক প্লেইটলেট কমমূল্যে পাওয়া যাবে৷ সেই সঙ্গে অন্যান্য ব্লাড প্রোডাক্টও পাওয়া যাবে৷ এগুলোর জন্য যা দরকার তার ব্যবস্থা করা সিটি করপোরেশনের জন্য ডালভাত৷

আমি যতদূর জানি, সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন একটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আছে। ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সেখানে ডেঙ্গু ওয়ার্ড করতে পারে৷ সেখানে স্পেশালি ট্রেইন্ড চিকিৎসক ও নার্স দিতে পারে। একদিন বা সর্বোচ্চ দুইদিন ট্রেইনিং দিলেই ডাক্তার ও নার্সরা ডেঙ্গুর ম্যানেজমেন্ট শিখে যাবে।

এজন্য তারা বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করতে পারে। আলাদাভাবে স্যালাইন বরাদ্দ করতে পারে। কলয়েড স্যালাইনও লাগতে পারে কারো কারো। সেগুলো বেশ দামি। স্বল্পমূল্যে কলয়েড স্যালাইন সরবরাহ করা যেতে পারে।

স্বস্তা জনপ্রিয়তার দিকে না গিয়ে ডেঙ্গু নিমূলে কার্যকর কিছু করা দরকার৷ ক্ষতি তো অনেক হয়ে গেছে। এখন একটু ভালভাবে নজর দিন বিষয়টাতে।

ডা. গুলজার হোসেন উজ্জল

হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :