আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
«» “একজন স্বেচ্ছাসেবী,নিয়মিত রক্তদাতা সাদিয়া ক্যান্সারে আক্রান্ত, আর্থিক ভাবে সকলেই এগিয়ে আসুন”  «» ইউনানী/হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার-ফার্মাসিস্ট সহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশাল নিয়োগ «» ঢামেকে ব্রাদার ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সংঘর্ষে আহত ২৫ «» আগামী সাতদিন খুবই চ্যালেঞ্জিং : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর «» বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প «» শুকরের চর্বিতে উৎপাদিত তেলে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের হৃদপিণ্ড! «» প্রাকৃতিক উপায়ে এডিস মশা থেকে মুক্তির উপায় «» ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত নতুন রোগী প্রায় ২ হাজার «» স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী «» এবার ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসক লাঞ্ছিত

হাসতে হাসতে অজ্ঞান ২৫ শিক্ষার্থী : বিদ্যালয়ে জুড়ে আতঙ্ক

কুমিল্লায় স্কুলের ক্লাস চলাকালীন সময়ে হাসতে হাসতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ২৫ জন শিক্ষার্থী। এসময় শিক্ষকসহ অন্যরা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের স্থানীয় কাবিলা ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

সোমবার (২২ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণির মেয়েদের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চক্রবর্তী জানান, সোমবার টিফিন পিরিয়ড শেষে পাঠদান শুরু হয়। দুপুর আড়াইটায় অষ্টম শ্রেণির মেয়েদের ক্লাসে পাঠদান করছিলেন শিক্ষক সুধাংশু ভূষণ দাস। হঠাৎ শ্রেণিকক্ষে দুই-তিন জন শিক্ষার্থী হাসাহাসি শুরু করে। শ্রেণি শিক্ষক হাসির কারণ জানতে চাইলে, অন্যরাও হাসি শুরু করে। হাসতে হাসতে একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়ে ২৫ শিক্ষার্থী। পুরো বিদ্যালয়ে এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। শিক্ষকসহ অন্যরা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের স্থানীয় কাবিলা ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক, মনোবিদ ডা. মো. তাজুল ইসলাম বলেন, হাসতে হাসতে পড়ে যাওয়া, হাসতে হাসতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলা, একজন হাসতে থাকলে আরও দশজন হাসতে থাকা -এগুলো একটা রোগ। এ রোগটাকে মাস হিস্টিরিয়া বলে। সাধারণত মেয়েদেরই এটা বেশি হয়, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী বা অন্য যে কোন বয়সের হতে পারে।

এ রোগের কারণ হচ্ছে, কেউ যদি একটু চাপের মধ্যে পড়ে, তখন তার মধ্যে কোন একটা লক্ষণ দেখা যায়। হয়তো সে মাথা ঘুরাচ্ছে, হয়তো সে মানসিক চাপে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে, অথবা সে হাসতেছে (যার যে লক্ষণ আছে)। তখন তার আশেপাশে (দুর্বলমনা) যারা আছে, যারা তাকে অন্ধের মতো অনুকরণ করে, অনুসরন করে, (আমাদের ভাষায় এটাকে হিপনোটিক সাজেশন বলে থাকি) তারাও হাসতে থাকে। অর্থাৎ, একটা মেয়ে যা করে, তখন তার আশে যারা আছে এমন তাদের মধ্যেও এটা সংক্রমিত হয়।

তিনি বলেন, আমাদের ভাইরাস যেমন সংক্রমন হয়, আমাদের মানসিক রোগীরাও তেমন সংক্রমন হয়। এমনকি এই খবরগুলো শুধু আশে পাশের স্কুলগুলোতে নয়, এ খবরগুলো যখন পত্রিকায় বা টিভিতে দেখানো হয়, তখন অন্যান্য স্কুলের যারা দেখে, যারা এরকম সাজেস্টেবল, তারাও সেটার অনুকরণ করে সংক্রমিত হয়। অর্থাৎ ভাইরাস যতটুকু না সংক্রমিত হয়, তারচেয়ে বেশিগুণ এবং দ্রুত এই মানসিক অসুস্থতার ধরনগুলো একজন থেকে আরেক জনে সংক্রমন হয়। এই যে অনেক দ্রুত অনেক লোকের কাছে এটা সংক্রমিত হয়ে যায়, এ কারণেই এটাকে মাস হিস্টিরিয়া বলে।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :