আজ মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন

স্বাস্থ্যখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আমরা হাসপাতালগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জনবল দিচ্ছি। কিন্তু সেবা তো আপনাদের দিতে হবে। যে যেমন কাজ করবেন তেমন সুনাম অর্জন করবেন। আমরা সবাই যদি যার যার অবস্থান থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করি, তবে স্বাস্থ্যখাতে সেবার মানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা যদি সেবা দিতে অনাগ্রহ দেখান, জনগণের সঙ্গে দুর্ব্যহার করেন তবে জনগণ সেবাবঞ্চিত হবে। এতে ক্ষুণ্ন হবে সরকারের ভাবমূর্তি। সাধারণ মানুষ সরকারের সমালোচনা করবে। তাই সবাই যথাসময়ে হাসপাতালে উপস্থিত থাকবেন। যে যেমন কাজ করবেন তেমন সুনাম অর্জন করবেন। যা পরবর্তী আপনার জীবনে কাজে আসবে।

জাহিদ মালেক বলেছেন, পর্যটনের স্বার্থে আইসিইউ ও সিসিইউ চালুসহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা থেকে দ্রুত ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। দেশের প্রতিটি স্তরে সমস্যা আছে। সব সমস্যা রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে একটি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব। অনেক সমস্যা কাজের গতি কমিয়ে দেয়।

এ সময় সারাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একটি রোগীও চিকিৎসা সেবার বাইরে নেই। তবে কয়েকজন মারা গেছেন। তারা হাসপাতালে দেরি করে এসেছেন।

কক্সবাজারকে বিশ্বের অন্যতম পর্যটন শহর উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ করতে প্রতি বছর কয়েক লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসেন। এই খাত থেকে সরকার প্রচুর রাজস্ব আয় করে। তাই পর্যটকদের স্বাস্থ্য বিষয়ও আমাদের নজরে রাখতে হবে। স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে পর্যটকরা কক্সবাজারে আসবে না। তাই স্থানীয় জনগণ, আশ্রিত রোহিঙ্গা এবং বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে। জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ উন্নত করার পাশাপাশি আইসিইউ ও সিসিইউ চালু করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আরও শয্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজার জেলায় স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। চাপ বেড়েছে হাসপাতালে। সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আধুনিক জরুরি বিভাগ চালু করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কক্সবাজার সদর রামু আসনের এমপি সায়মুম সরওয়ার কমল, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-প্রধান (পরিকল্পনা) ডা. মহি উদ্দিন ওসমানি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার, কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন আব্দুল মতিন, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সুভাষ চন্দ্র সাহা ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পিন্টু কান্তি প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :