আজ মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন

বছরে ১০ লক্ষাধিক ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন

দেশে বছরে প্রায় দশ লক্ষাধিক বেশি রক্ত প্রয়োজন।  বর্তমানে যে রক্ত আসছে তার ৬৯ শতাংশ সংগ্রহ করা হয় রোগীর আত্মীয়-স্বজনদের থেকে আর ৩১ শতাংশ সংগ্রহ করা হয় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের নিকট থেকে।  স্বেচ্ছায় রক্তের চাহিদা ও প্রাপ্যতার মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে।

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবছরের ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।  এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য নিরাপদ রক্ত’।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনা সভায়মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শেখ দাউদ আদনান।

মূল প্রবন্ধে ডা. শেখ দাউদ আদনান বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র ১ শতাংশ লোকও যদি মাত্র একবার রক্তদান করে তাহলে রক্তের সংকট সমাধান হয়।  তবে সমস্যা হলো রক্তদান সম্পর্কে অহেতুক ভীতি, অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের ফলে মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদানে অনীহা প্রকাশ করে- এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ডা. শেখ দাউদ আদনান আরও বলেন, জিম্বাবুয়ে আমাদের চেয়ে খারাপ দেশ হয়েও তারা রক্তদানে এগিয়ে।  তাদের যুবকরা এর জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এছাড়া শ্রীলংকাও শতভাগ রক্তদানে এগিয়ে। কেননা তাদেরকে ধর্মীয়ভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তারা এটাকে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা মনে করে।

আমাদের দেশেও রক্তদানকে ধর্মীয়ভাবে উদ্বুদ্ধ করা হলে এর ঘাটতি অনেকাংশে কমবে বলে মনে করেন তিনি।

নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা গত দশ বছরে ১০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ শতাংশে উন্নিত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল বিভাগের পরিচালক ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী বলেন, হাসপাতালে রক্তদাতা এবং গ্রহীতা উভয়ের জন্য শয্যার ব্যবস্থা করা দরকার। এটা অবশ্যই বাস্তবায়ন অতিব জরুরি।  আশা করি খুব দ্রুত এর বাস্তবায়ন হবে।

সবার জন্য নিরাপদ রক্ত নিশ্চিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সব সময় স্বচেষ্ট। স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা সরকারের দ্বায়িত্ব,  আর এগুলো বাস্তবায়ন বা এগিয়ে নেয়া সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের দ্বায়িত্ব।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ট্রান্সফিউশন বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দা মাসুমা রহমান বলেন, দেশে যে রক্ত ঘাটতি রয়েছে তা পূরণ করতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।  শ্রিলংকা ও থাইল্যান্ডের মতো দেশ রক্ত সয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। তাহলে আমরা কেন পারবো না।

অনুষ্ঠানে দেশের সর্বোচ্চ রক্তদাতা মাসুদ ইকবাল বলেন, ১৯৮৪ সাল থেকে ১০৪ বার রক্তদান করেছি।  রেডক্রিসেন্টে সোসাইটিতে রক্ত দিয়ে থাকি। অনুষ্ঠানে তিনি স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেন।

থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত রক্ত গ্রহিতা নাসরিন ফেরদৌসি বলেন, আমার ফ্যামিলিতে আমরা তিন ভাই-বোন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত।  রক্ত নিতে নিতে আত্মিয় স্বজনরা আমাদেরকে এড়িয়ে চলতো।

তিনি বলেন, রক্তদানের জন্য আমাদের হাসপাতালগুলোকে সহজীকরণ করতে হবে। এর জন্য প্রতিটি জেলায় সরকারি হাসপাতাল গুলোয় ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগ রাখা উচিত। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে দুটি করে বেড বরাদ্দ রাখার দাবি জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :