আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০২:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
«» “একজন স্বেচ্ছাসেবী,নিয়মিত রক্তদাতা সাদিয়া ক্যান্সারে আক্রান্ত, আর্থিক ভাবে সকলেই এগিয়ে আসুন”  «» ইউনানী/হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার-ফার্মাসিস্ট সহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশাল নিয়োগ «» ঢামেকে ব্রাদার ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সংঘর্ষে আহত ২৫ «» আগামী সাতদিন খুবই চ্যালেঞ্জিং : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর «» বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প «» শুকরের চর্বিতে উৎপাদিত তেলে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের হৃদপিণ্ড! «» প্রাকৃতিক উপায়ে এডিস মশা থেকে মুক্তির উপায় «» ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত নতুন রোগী প্রায় ২ হাজার «» স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী «» এবার ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসক লাঞ্ছিত

গণস্বাস্থ্য মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন নবম দিনে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়াসহ ১০ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজ।

সোমবার সকালে নবম দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ-মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি করেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ও জুনিয়র মেডিকেল অফিসাররা।

সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর ১৯৯৮ সালে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু হয়। এ মেডিকেল কলেজ থেকে এখন পর্যন্ত এমবিবিএসে ২৪টি এবং বিডিএসে ১৫টি ব্যাচ ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ব্যাচের ১৫ শতাধিক শিক্ষার্থী এমবিবিএস, বিডিএস পড়াশোনা শেষে বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশনসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২০১১ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্স চালু রাখতে হলে অবশ্যই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন নিতে হয়।

ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করায় ২০১৭ সালের ২৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিবিএস, বিডিএস, ফিজিওথেরাপি, বিবিএ ও পরিবেশ বিজ্ঞান কোর্সের অনুমোদন নেই মর্মে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এ বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৯ মে গণ বিশ্ববিদ্যালয় হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। ওই রিটের ওপর ভিত্তি করে হাইকোর্ট ডিভিশন ইউজিসির দেওয়া নোটিসে স্থগিতাদেশ দেয়।

আদালতের দেওয়া ওই স্থগিতাদেশ সম্প্রতি স্থগিত হয়ে যায়। এর পর গত ১৭ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি নিয়ে সতর্কতামূলক গণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে।

এতে বলা হয়, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কার্যকারিতা ভ্যাকেট হয়ে যাওয়ার উপরোক্ত প্রোগ্রামসমূহ বৈধ বলে বিবেচিত হবে না।

কিন্তু ২৪ জুন গণ বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসিকে উকিল নোটিস পাঠিয়ে জানায়, তাদের ওই বিজ্ঞপ্তি ভিত্তিহীন। কারণ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ কোর্সগুরো চালু রাখার জন্য হাইকোর্টের বর্ধিত স্থগিতাদেশ ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। ইউজিসিকে এ নোটিশপ্রাপ্তির দুই দিনের মধ্যে আগের বিজ্ঞপ্তি ভুল ছিল মর্মে উপরোক্ত কোর্সগুলো অনুমোদিত বলে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুরোধ জানায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

এর মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ২০১৬-১৭ সেশন থেকে এমবিবিএস শিক্ষার্থী হিসেবে গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘদিন নবীন ডাক্তারদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া বন্ধ থাকার পরে সম্প্রতি আবার রেজিস্ট্রেশন দেওয়া শুরু করেছে বিএমডিসি।

এ অবস্থায় সকল প্রকার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ঢাবির অধিভুক্তিসহ ১০ দফা দাবিতে ২০ জুলাই (শনিবার) থেকে আন্দোলনে নেমেছে প্রায় তিনশ’ শিক্ষার্থী। আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে শিক্ষার্থীদের দাবি সমূহের সঙ্গে সম্মতি জানিয়ে সাভার গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের জন্যে কর্মবিরতি ঘোষণা করে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ও জুনিয়র মেডিকেল অফিসাররা।

এ সম্পর্কে গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফরিদা আদিব খানম  বলেন, ‘আন্দোলন শুরুর পূর্বেই গণ বিশ্ববিদ্যালয় তদারকি ও উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যানের সম্মতিতে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরর অধিভুক্ত হওয়ার কাজ শুরু করেছি। এ লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তর্ভুক্তির ফরম নিয়ে এসেছি আমরা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অতিদ্রুত আবেদন ফর্ম জমা দিতে পারবো বলে আমাদের বিশ্বাস।’

এটি বাস্তবায়ন হতে কেমন সময় লাগবে বলে আপনারা ধারণা করছেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবো না। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়। আমাদের কাগজগুলো তাড়াতাড়ি জমা দেবো। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যা করণীয় তা তারা করবে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না, আমার যা করণীয় তা করে যাচ্ছি। একাজে অগ্রগতি হচ্ছে—এটুকু বলতে পারি।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘অধিভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ বিষয়। আমাদের কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্যে সে ন্যূনতম সময়টুকু আমাদের দিতে হবে। প্রতিষ্ঠার ২২ বছর পরে একটি মেডিকেল কলেজকে ঢাবির অধিভুক্ত করার পথে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষকমণ্ডলীর সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা তাদের হয়েই কাজ করছি। তাদের বিপক্ষে নয়। তাই শিক্ষার্থীদের ক্লাসে এবং চিকিৎসকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অস্তিত্ব রক্ষার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন তারা। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ঢাবিতে অধিভুক্তির কাজ শুরু করলেও ট্রাস্টি বোর্ডের ওপর তাদের ভরসা নেই। তাই তারা ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে ঢাবিতে অধিভুক্তির সম্মতিপত্র লিখিত নোটিশ হিসাবে চান। অন্যথায় আমাদের আন্দোলন চলবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :