আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
«» “একজন স্বেচ্ছাসেবী,নিয়মিত রক্তদাতা সাদিয়া ক্যান্সারে আক্রান্ত, আর্থিক ভাবে সকলেই এগিয়ে আসুন”  «» ইউনানী/হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার-ফার্মাসিস্ট সহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশাল নিয়োগ «» ঢামেকে ব্রাদার ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সংঘর্ষে আহত ২৫ «» আগামী সাতদিন খুবই চ্যালেঞ্জিং : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর «» বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প «» শুকরের চর্বিতে উৎপাদিত তেলে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের হৃদপিণ্ড! «» প্রাকৃতিক উপায়ে এডিস মশা থেকে মুক্তির উপায় «» ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত নতুন রোগী প্রায় ২ হাজার «» স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী «» এবার ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসক লাঞ্ছিত

রোগ নিরাময়ে সহায়ক রং!

রূপ-রস-বর্ণ-গন্ধ যে আমাদের শরীর ও মনের উপরেও যে প্রভাব রাখে, নানাভাবে আমরা তা বুঝতে পারি৷ এবার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে৷

স্বাস্থ্যসেবায় রং একটা বড় ভূমিকা পালন করে৷ বাজারে রংবেরঙের ট্যাবলেট দেখলেই তা টের পাওয়া যায়৷ যেমন: ব্যথার ট্যাবলেটের রং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাদা হয়৷ স্টিমুল্যান্ট বা উদ্দীপক ওষুধের রং হয় লাল বা কমলা৷

কিন্তু চোখ খোলার সঙ্গে সঙ্গে সবার আগে কোন রং দেখা যায়? লাল, নীল না সবুজ? আমাদের স্বাস্থ্যের উপর তার কি কোনো প্রভাব থাকতে পারে?

জার্মানির ভুপার্টাল শহরে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে এ বিষয়ে গবেষণা চালানো হচ্ছে৷ ইন্টেনসিভ কেয়ার বিশেষজ্ঞ গাব্রিয়েলে ভ্যোবকার ও রং বিশেষজ্ঞ আক্সেল ব্যুটার নিশ্চিত, যে হাসপাতালের কামরার রং রোগীদের স্বাস্থ্যের উপর অবশ্যই প্রভাব রাখে৷ ব্যুটার বলেন, ‘‘হাসপাতালের দিকে কেন নজর দেওয়া যাবে না? সবকিছু রঙিন করে তোলার প্রয়োজন নেই৷ কিন্তু বিভিন্ন রঙের প্রভাব সংক্রান্ত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে রং বদলানো যায়, যেমনটা এখানে করা হয়েছে৷”

হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ ও দপ্তরে সাদা, জীবাণুমুক্ত পরিবেশের বদলে দেওয়ালে একটু রঙের ছোঁয়া দেওয়া যেতে পারে বৈকি৷ দুই বছর ধরে রং নিয়ে এই গবেষণা চলেছে৷ নানা ধরনের রঙের শেড নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে৷ দেওয়ালে প্যাস্টেল ও মাটির রং ব্যবহার করা হয়েছে, আলোর বাতিও বদলানো হয়েছে৷ এই সংস্কারের আগে ও পরে রোগীদের চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে৷

পুরুষ নার্স হিসেবে টিলমান ক্যোনিশ বিশেষ করে কঠিন রোগগ্রস্ত মানুষের ক্ষেত্রে একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন৷ তিনি মনে করেন, ‘‘নতুন রং করার পর রোগীদের উপর তার খুব ভালো প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ তাঁরা অনেক কম প্রলাপ বকছেন৷ সে কারণে রোগীরা নিজেদের পারিপার্শ্বিক সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন এবং তাঁরা যথেষ্ট স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন৷”

রোগীদের প্রলাপ হাসপাতালে বড় সমস্যা৷ বিশেষ করে কঠিন রোগগ্রস্ত মানুষের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়৷ রং রোগীদের অনেক শান্ত রাখছে৷ প্রলাপের সম্ভাবনা অনেক কমে গেছে৷ প্রথমদিকে গাব্রিয়েলে ভ্যোবকার-এর মনে সংশয় ছিল৷ কিন্তু রোগীদের বিবৃতির সঙ্গে সংগৃহীত তথ্য মিলে যাচ্ছে৷ ওষুধের পরিমাণের ক্ষেত্রে ফলাফল নিয়েও কোনো সন্দেহ নেই৷ ভ্যোবকার বলেন, ‘‘আমার কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল ওষুধের পরিমাণে পরিবর্তন৷ হাসপাতালের তিনটি ওয়ার্ডেই ওষুধের ব্যবহারের ক্ষেত্রে গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রভাব দেখা গেছে৷ ফলে রোগীরা ৩০ শতাংশ কম ওষুধ খাচ্ছেন৷”

রঙের বিভিন্ন শেড যে আমাদের শরীরের উপর বড় প্রভাব রাখতে পারে, রং বিশেষজ্ঞ হিসেবে আক্সেল ব্যুটার তাতে মোটেই বিস্মিত নন৷ আক্সেল ব্যুটার মনে করেন, ‘‘রং কী, তা জানতে পারলে আমাদের শরীরে কিছু একটা ঘটে৷ রং সরাসরি আমাদের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্তে শর্করার মাত্রা বদলে দিতে পারে৷ খিদে পেলে আপনি সেটা হয়তো টের পেতে পারেন৷ রংবেরঙের খাবার দেখলে খিদে নাও পেতে পারে৷ কিন্তু কেউ যদি সুস্বাদু কোনো মিষ্টির ছবি দেখায়, সেটা দেখে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায় এবং আবার খিদে পায়৷ তখন পেট ভরা থাকলেও খেতে ইচ্ছে করে৷”

হাসপাতালের ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটের উপর রঙের প্রভাব নিয়ে গবেষণা চালু থাকবে৷ আলো ও রংয়ের উপর নজর দেবার পর এবার শব্দ ও গন্ধের মতো অন্যান্য বিষয়ের উপরেও নজর দেওয়া হবে৷ ভ্যোবকার ও ব্যুটার এই সব বিষয়ের ক্ষেত্রেও বিপুল সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন৷

সূত্র: ডয়চে ভেলে।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :