আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
«» “একজন স্বেচ্ছাসেবী,নিয়মিত রক্তদাতা সাদিয়া ক্যান্সারে আক্রান্ত, আর্থিক ভাবে সকলেই এগিয়ে আসুন”  «» ইউনানী/হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার-ফার্মাসিস্ট সহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশাল নিয়োগ «» ঢামেকে ব্রাদার ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সংঘর্ষে আহত ২৫ «» আগামী সাতদিন খুবই চ্যালেঞ্জিং : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর «» বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প «» শুকরের চর্বিতে উৎপাদিত তেলে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের হৃদপিণ্ড! «» প্রাকৃতিক উপায়ে এডিস মশা থেকে মুক্তির উপায় «» ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত নতুন রোগী প্রায় ২ হাজার «» স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী «» এবার ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসক লাঞ্ছিত

নাটোরে ভুয়া ফিজিওথেরাপিস্টদের ছড়াছড়ি

নাটোর জেলায় রেজিস্টার্ড ফিজিওথেরাপিস্ট মাত্র চারজন। অথচ সারা জেলায় স্পর্শকাতর এই সেবা দিচ্ছেন ভুয়া ফিজিওথেরাপিস্টরা। দিন দিন তাদের বেপরোয়া চিকিৎসা বাণিজ্যে ভুক্তভোগী হচ্ছেন রোগীরা। এমনকি পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে অনেক রোগীকে।

জানা গেছে, নাটোরে সাত উপজেলায় প্রতিদিন প্রায় এক হাজার রোগী বিভিন্ন ফিজিওথেরাপি সেবা নেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে অপচিকিৎসা দিচ্ছেন ভুয়া ফিজিওথেরাপিস্টরা। তবে ভুয়াদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের নীতিমালা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ডিগ্রিধারীরাই ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে গণ্য হবেন। আর স্বাস্থ্য অধিদফতর স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোামা ইন হেলথ টেকনোলজি ডিগ্রিধারীরা ফিজিওথেরাপিস্টদের সহকারী হিসেবে গণ্য হবেন। কিন্তু নাটোরে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। এখানে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরাই ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে সেবা দিচ্ছেন। নিজেদের নামে ভুয়া সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে করছেন রমরমা বাণিজ্য।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নাটোরে বর্তমানে রেজিস্টার্ড চারজন বিপিটি (ব্যাচেলর অব ফিজিওথেরাপি) ডিগ্রিধারী ফিজিওথেরাপিস্ট আছেন। তারা হলেন- কেয়া ফিজিওথেরাপি সেন্টারের শিমুল হোসেন, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার ভক্ত প্রসাদ সাহা এবং কমফোর্ট ফিজিওথেরাপি সেন্টারের মিজানুর রহমান ও মাহফুজুর রহমান। অথচ সারা জেলায় অর্ধ শতাধিক প্রতিষ্ঠান থেরাপি দিচ্ছে টেকনিশিয়ান ও তাদের সহকারীদের দিয়ে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাটোর স্ট্রোক সেন্টার, নাটোর ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার এবং রিলাক্স ফিজিওথেরাপি সেন্টার।

https://i0.wp.com/img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/27/1564241318556.jpg?ssl=1

নাটোর স্ট্রোক সেন্টারে গত দুই যুগের বেশি সময় ধরে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করেন রবিউল আলম মুহিত। প্রথম সাক্ষাতে ৩০০ টাকা ও দ্বিতীয় সাক্ষাতে দুইশ টাকা ভিজিট দিতে হয় তাকে। তিনি নিজেকে ঢাকার কমিউনিটি স্ট্রোক ফাউন্ডেশনের রেজিস্টার্ড ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি।

রবিউল ইসলাম মুহিত জানান, তার মেয়ে এবং শ্যালিকা দুইজন ফিজিওথেরাপিতে বিপিএড করেছে। তারা ঢাকায় থাকেন ও মাঝে মাঝে নাটোর এসে এখানে বসেন।

অন্যদিকে, শহরের মাদ্রাসা মোড়ে রিলাক্স ফিজিওথেরাপি সেন্টারে গিয়ে দেখা গেছে, একটি ঘরে ঘিঞ্জি পরিবেশে রোগীদের ফিজিওথেরাপি দিচ্ছেন নাছির উদ্দীন নামের এক যুবক। তিনি জানান, তার ফিজিওথেরাপির ওপর কোনো ডিগ্রি নেই। তিনি ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী হেলথ টেকনোলজিস্ট বা টেকনেশিয়ান। রোগী প্রতি সেবা দিতে তিনি ২০০ টাকা নেন। যেখান থেকে ১০০ টাকা দিতে হয় অর্থপেডিক্স ডাক্তারদের।

একই অবস্থা শহরের স্টেশন বাজার এলাকার নাটোর ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা ও ফিজিওথেরাপি দিচ্ছেন আব্বাস আলী। তিনি ফিজিওথেরাপি টেকনিশিয়ান হলেও বিশাল সাইনবোর্ডে নিজেকে ফিজিওথেরাপিস্ট আব্বাস আলী বলে পরিচয় দিয়েছেন। এখানে রোগী প্রতি নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। প্রতিষ্ঠানে গেলে আব্বাস আলীকে না পেয়ে কথা হয় আকাশ নামে অন্য একজনের সাথে।

তিনি জানান, আব্বাস আলী বাইরে থাকায় তিনিই এই প্রতিষ্ঠানে ফিজিওথেরাপি দিচ্ছেন। তবে তিনি কোনো ফিজিওথেরাপিস্ট নন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক ফিজিওথেরাপিস্ট জানান, এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে আসেন গ্রামের রোগীরা। চিকিৎসা নিতে এসে অপচিকিৎসার শিকার হন। তবে প্রতিষ্ঠানের পেটোয়া ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না। স্থানীয় বখাটে ও চাঁদাবাজদের সাথে তাদের মাসিক চুক্তি থাকে। কোনো রোগী অপচিকিৎসার অভিযোগ করতে চাইলে তাকে দমিয়ে রাখার ব্যবস্থা করে তারা। তাছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনের অভিযান না চালানোয় তারা অবাধে কার্যক্রম চালাচ্ছে। পাশাপাশি দালালের মাধ্যমে স্বল্প সময় ও অল্প টাকায় রোগীদের সুস্থ করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করা হয়।

কমফোর্ট ফিজিওথেরাপি সেন্টারের থেরাপিস্ট মিজানুর রহমান বলেন, ‘নাটোরে ব্যাঙের ছাতার মতো ফিজিওথেরাপি সেন্টার গজিয়ে উঠেছে। তারা নিয়মিত রোগীদের সাথে প্রতারণা করছে। এসব ভুয়া ফিজিওথেরাপি প্রতিষ্ঠানের প্রতি প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।’

কেয়া ফিজিওথেরাপি সেন্টারের থেরাপিস্ট শিমুল হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘বিপিটি ডিগ্রিধারী থেরাপিস্টরাই নাটোরে কোণঠাঁসা। ভুয়াদের সংখ্যা এখানে এতো বেড়ে গেছে, যে কারা প্রকৃত থেরাপিস্ট সেটাই চেনা দায়।’

এ ব্যাপারে নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘ভুয়া ফিজিওথেরাপি সেন্টার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সৌজন্যে : বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :