আজ মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক জাহিদ মালেক স্বপন বলেছেন, বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবার অনেক  উন্নয়ন হয়েছে। আজ ১০০টা মেডিকেল বাংলাদেশে। স্বাধীনতার সময় চার-পাঁচটা মেডিকেল ছিল।

তিনি বলেন, আজ চারটা (মেডিকেল) ইউনিভার্সিটি হচ্ছে। কোনো ইউনিভার্সিটি ছিল না। কোনো ইন্সটিটিউট ছিল না। যতগুলো ইন্সটিটিউট হয়েছে তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই হয়েছে।  বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটসহ হেলথের বিভিন্ন কিছু শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় শোক দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, কমিউনিটি ক্লিনিক সহায়তা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং সরকারের সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, বিএমএর সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সালান ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা.আব্দুল আজিজ প্রমুখ।

বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশ শেখ হাসিনা গড়ছেন উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের গড় আয়ু ৭২ বছর। গড় আয় প্রায় ১৯০০ ডলার, পাকিস্তানের সময় এটা ২০০ ডলারও ছিল না।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা স্মরণ করে জাহিদ মালেক বলেন, বাঙালি জাতি যে বৈষম্যের শিকার হতো তার বিরুদ্ধে লড়াই ছিল। প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে বাঙালিরা বৈষম্যের শিকার হতো। আয় হতো বাংলাদেশ থেকে আর ব্যয় হতো পাকিস্তানে।  আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর বেহাল অবস্থায় ছিল। স্বাধীনতার তিন বছর পরই  বঙ্গবন্ধু দেশটাকে অনেক উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জাতির জনকের স্বপ্ন আমরা যদি বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলেই উনার প্রতি সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই কাজটি করে যাচ্ছেন। আমাদেরকেও শত বাধা বিপত্তি থাকলেও সে কাজটি করে যেতে হবে।

শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আমাদের একজন কাছের মানুষ বা নিকটাত্মীয় কেউ মারা গেলে আমরা দিশেহারা হয়ে যাই। অথচ যার পরিবারের ১৮জন এক রাত্রিতেই হত্যা করা হয়, তারপরও দেশের কাজ অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে করে যাচ্ছেন তিনি। প্রতিদিন ২০ ঘণ্টা কাজ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য বিভাগের সবার উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আমাদের দায়িত্ব তার পাশে থেকে কাজ করা। উনি আমাকে স্বাস্থ্য বিভাগে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমি ৫ বছর কাজ করেছি। এখন এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। বিরাট সম্মান ও দায়িত্ব। সেটা আপনাদের নিয়ে আমি পালন করার চেষ্টা করছি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলতে পারে, অনেকে রাজনীতিও করতে পারে। কিন্তু আমরা করি রোগীদের সেবা। আমাদের ডাক্তার সাহেবরা সেবা দিচ্ছেন, নার্সরা সেবা দিচ্ছেন। প্রত্যেকটি হাসপাতালের খবর আমি নিয়েছি, অনেক হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি, রোগীরা ঠিকমতো সেবা পাচ্ছেন কিনা খোঁজ নিয়েছি। কেউ এখানে প্রশ্ন তুলতে পারেনি যে, সেবা পায় নাই। এটা একটা বিরাট অর্জন।

ডেঙ্গু নিয়ে বিভিন্ন তৎপরতার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সন্তুষ্ট। তিনি বিদেশে ছিলেন। আমার সঙ্গে নিয়মিত আলাপ হতো। যে ১৫/২০ দিন তিনি দেশের বাইরে ছিলেন সেসময় আমার সঙ্গে তার ৫/৭ বার কথা হয়েছে। তিনি নিজেই দুই/তিনবার ফোন দিয়েছেন। আর আমিও তাকে ফোন দিয়েছি। সার্বিক বিষয়ে তাকে অবহিত করেছি। উনার পরামর্শ আমরা নিয়েছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :