আজ বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

যে ১১টি খাবার ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব উপকারি

ডায়াবেটিস মেলিটাস এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ রোগ হয়ে ওঠার দিকেই এগিয়ে চলেছে ভয়ঙ্কর গতিতে। আর ডায়াবেটিস রক্তে শর্করার (গ্লুকোজ) মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ডায়াবেটিকদের প্রায়ই তাদের খাদ্য বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়। আর মৌসুমি ফল বেশি খেতে বলা হয়। কারণ ফল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহে এবং বিরোধী-প্রদাহজনক যৌগগুলিতে সমৃদ্ধ, যা ডায়াবেটিস পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব ফল নয়!

এখানে কম শর্করা এবং নিম্ন জিআই সূচক সমৃদ্ধ ১১টি খাবার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো যা আপনি ডায়াবেটিস ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন-

১. পেয়ারা: পেয়ারা ফাইবারে সমৃদ্ধ যা কোষ্ঠকাঠিন্যের (একটি সাধারণ ডায়াবেটিক উপসর্গ) সমস্যায় সাহায্য করে এবং রক্তের চিনির বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

২. পীচ: ১০০ গ্রামের পীচে ফাইবার আছে ১ দশমিক ৬ গ্রাম। ফাইবার রক্ত প্রবাহের মধ্যে চিনির মুক্তির গতি ধীর করে তোলে।

৩. কিউই: টক এবং সুস্বাদু এই ফল ভিটামিন এ এবং সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসে সমৃদ্ধ। কিউই রক্তে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে মুক্তি পেতে সহায়তা করে, যা রক্তে চিনির আচমকা বৃদ্ধির ঝুঁকিকে কমিয়ে রাখে।

৪. আপেল: প্রতিদিন একটা করে আপেল ডায়াবেটিস পরিচালনার জন্য বিস্ময়কর কাজ করতে পারে। দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় ফাইবারের পর্যাপ্ত ভাণ্ডার আপেল আপনার রক্ত শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং শর্করার উর্ধ্বগতিও প্রতিরোধ করতে পারে। কাঁচা এবং তাজা আপেল খাওয়া সবথেকে উপকারী।

৫. কমলা: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন ডায়াবেটিসের সুপারফুডসের মধ্যে বেশ কিছু সাইট্রাস ফল তালিকাভুক্ত করেছে। অ্যাসোসিয়েশনের মতে, কমলা আঙ্গুর এবং লেবু ফাইবার, ভিটামিন সি, ফোলেট এবং পটাসিয়াম দিয়ে পূর্ণ, যা ডায়াবেটিকদের বহু উপকারে আসে।

৬. দারুচিনি: টাইপ টু ডায়বেটিসের ঝুঁকি এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে কার্যকর। পাশাপাশি রক্তে গ্লুকোজ, কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। শরীরের জন্য ভালো ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়ক এটি।

৭. লেবুজাতীয় ফল: ডায়বেটিস রোগীদের শরীরে প্রায়শই ভিটামিন সি’র অভাব দেখা যায়। তাই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর লেবুজাতীয় ফলগুলো খেতে পারেন স্ন্যাকস হিসেবে। সাপ্লিমেন্ট বা বিকল্প হিসেবে ভিটামিন সি ট্যাবলেট লোভনীয় মনে হতে পারে। তবে যেহেতু প্রাকৃতিকভাবেই ফলমূলে থাকে কম চর্বি, বেশি আঁশ এবং আরও অনেক পুষ্টিগুণ, তাই এক্ষেত্রে ফলই প্রথম পছন্দ হওয়া উচিৎ।

৮. গ্রিন টি: পান করলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বাড়ানোর পেছনে দায়ি দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ প্রশমিত হয়। শরীরের শর্করা শোষণ করার ক্ষমতাও বাড়ায় এই পানীয়। এই চায়ে থাকে প্র্রচুরি পরিমাণে ফ্লেভানয়েড যা শক্তিশালী প্রদাহরোধকারী।

৯. মেথি: টাইপ ওয়ান ও টু দুই ধরনের ডায়বেটিসে আক্রান্ত রোগী, এমনকি ডায়বেটিস নেই এমন ব্যক্তিদেরও রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে সহায়ক আরেকটি উপাদান এই মেথি। মেথি বীজে থাকা আঁশ কার্বোহাইড্রেটের হজম প্রক্রিয়া মন্থর করতে সহায়ক। ট্যাবলেট হিসেবে, চা ও বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে মেথি খাওয়া যেতে পারে।

১০. বাদাম: বাদামে মিলবে প্রচুর টোকোট্রাইনোলস। তাই নিয়মিত বাদাম খেলে ডায়বেটিসের কারণে হওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি কমে আসে।

১১. রসুন: কোলেস্টেরল এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে সহায়ক। ডায়বেটিসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে থাকা ইনসুলিনের পরিমাণও বাড়াতে পারে রসুনের নির্যাস।

আপনার খাদ্যতালিকায় এই ফলগুলো অন্তর্ভুক্ত করুন এবং স্বাভাবিকভাবেই ডায়াবেটিস পরিচালনা করুন। কিন্তু আপনার ডায়েটে কোনও ফল যোগ করার আগে আপনার ডায়াবেটোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করতে ভুলবেন না।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :