আজ বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:১২ অপরাহ্ন

“বাংলাদেশী এমটিদের দ্বার উন্মোচিত হলো আমেরিকায়”

শাহ নিয়াজ ঃঃ

আজ সোমবার জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে “AN INFORMATIVE CONFERENCE ON LICENSE EXAM OF AMERICAN SOCIETY FOR CLINICAL PATHOLOGY” (ASCP) শীর্ষক মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ক্যারিয়ার এবং বহির্বিশ্বে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট/মেডিকেল ল্যাবরেটরি সাইনটিস্ট হিসেবে নিজেকে মেলে ধরার অফার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

উক্ত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জনাব নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া International Medical Laboratory Scientist (IMLS), American Society for Clinical Pathology (ASCP) এর লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রথম বাংলাদেশী ল্যাবরেটরি সাইনটিস্ট । তিনি প্রথমে বাবা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এবং কনফারেন্স আয়োজকসহ সকল ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার বক্তব্য শুরু করেন, তিনি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পাশ থেকে শুরু করে আমেরিকান সোসাইটি ফর ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি লাইসেন্স প্রাপ্তি পর্যন্ত সুদীর্ঘ এই পথ কঠিন উল্লেখ করে বলেন, যারা নিরাশ করে তাদের থেকে নিরাপদ থাকা বাঞ্চনিয়। বাংলাদেশের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পড়ার সিলেবাস বর্ধিত করে আপডেট করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এদেশে থিউরি পড়ার বিপরীতে প্র‍্যাকটিকেলের উপর জোর দেওয়া হয়, যে কারণে এ জাতি দেশের বাহিরে ভাল কিছু করার সুযোগ পায়না, আগে থিউরি পড়ে ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট করার উপদেশ দেন, তিনি নিজের উদাহরণ দিয়ে বিলেন “আমি প্রতিবন্ধী হয়ে এতদূর আসতে পারলে, আপনারা কেন পারবেন না?”। ASCP লাইসেন্স প্রাপ্ত হলে আমেরিকাসহ মিডল ইস্টের যে কোন দেশে মোটা অংকের স্যালারিতে চাকরি পাওয়া যাবে উল্লেখ করা হয়। লাইসেন্স প্রাপ্তির টেকনিক্যাল সাপোর্ট পেতে সূজন বর্মন সাহেবের সাহায্য নিতে বলেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বক্তব্যে জনাব সূজন বর্মন International Medical Laboratory Technician (IMLT), ASCP লাইসেন্স প্রাপ্ত। তিনি গুগলের সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন দেশের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জব রিকোয়ারমেন্ট নিয়ে বিশ্লেষণ করেন এবং একটা সময় সকল প্রস্তুতি নিয়ে অনলাইনে ASCP পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং উত্তীর্ণ হন। তিনি বলেন একটু পরিশ্রম করলে সফলতা অবশ্যম্ভাবী, প্রস্তুতির জন্য BOC Clinical Pathology বইটি পড়তে বলা হয়। ASCP লাইসেন্স পেতে সকল প্রক্রিয়া সম্পাদনের সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ফারজানা আক্তার রিমি Medical Laboratory Technician, Qatar-Prometric. তিনি ঢাকা আইএইচটিতে ভর্তি পরবর্তী মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সরকারি চাকরি এবং বেসরকারি চাকরির বেহাল অবস্থা দেখে নিজেকে গন্তব্যহীন পথিকের সাথে তুলনা করেন, তবুও হাল ছাড়েন নাই, সফলতার সাথে ডিপ্লোমা শেষে একই প্রতিষ্ঠানে বিএসসি কোর্সে অধ্যয়নরত আছেন, তিনি Qatar-Prometric লাইসেন্স প্রাপ্তির সফলতার জন্য সূজন বর্মন ও নাসির উদ্দিন ভূঁইয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। “লেগে থাকলে, সফলতা অর্জন সম্ভব” এই স্লোগানের মাধ্যমেই বিশেষ অতিথির বক্তব্য মিসেস রিমি জানান অধ্যবসায়ের মাধ্যমে চেষ্টা করলে, নিজেকে আপগ্রেড করার মাধ্যমে Better Future অপেক্ষমান। এদেশে চাকরিক্ষেত্রে ৫-৭ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়ে থাকে, অথচ বহির্বিশ্বে পেশাগত জ্ঞানকে প্রাধান্য হয়ে থাকে, তাই বেশী বেশী থিউরি পড়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন, নিজেকে খোলশ থেকে বের করতে হবে, নিজেকে মেলে ধরতে হবে, গুগল, ইউটিউবে অনেক শিক্ষনীয় বিষয় আছে সোস্যাল মিডিয়াতে পড়ে না থেকে সেসব নিয়ে রিসার্চ এবং অনুসন্ধানের পরামর্শ দেন তিনি আরও বলেন প্রচার এবং নিজেদের মাঝে যোগাযোগের অভাবে এসকল তথ্য জানা হয়না, উন্নত দেশগুলাতে প্রতিবছর স্কলারশিপ মেধার ভিত্তিতে না নিয়ে উন্নয়নশীল দেশ থেকেই নেওয়া হয়ে থাকে, তাই আমাদের অনেক সুযোগ আছে। বিশ্বের প্রায় সকল দেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এসোসিয়েশন থাকলেও আমাদের দেশে না থাকায় দেশের বাহিরে লাইসেন্স নিতে কিংবা চাকরি নিতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়, এসোসিয়েশন কিংবা কাউন্সিল প্রসঙ্গে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিরবতার জন্য দূঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের যত দ্রুত সম্ভব কাউন্সিল/এসোসিয়েশন গঠন করার পরামর্শ দেন, তিনি বলেন আমরা চাইলেই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে পারি এবং এটা আমাদের চাই।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :