আজ বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:১২ অপরাহ্ন

রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের নাম রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা শিক্ষা বোর্ড চান ডিপ্লোমা চিকিৎসকগণ

 

মেডিনিউজ রিপোর্ট:
বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের নিয়ন্ত্রণাধীন মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল ম্যাটস্ প্রতিষ্ঠান ২১৩ টি, ইন্সটিটিউট অব হেলথ্ টেকনোলজি আইএইচটি ৫৪ টি, বাকী ১৮ টি মেডিকেল রিলেটেড শর্টকোর্স প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদিকে ২০০৯ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশন বিডিএমএ’র সাথে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের নামকরণ ‘মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড’ অব বাংলাদেশ করা হবে। তা না করে এখন অসংগতিপূর্ণ ও উদ্ভট নামে ‘বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ শিক্ষা বোর্ড’ গঠনের পাঁয়তারা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপর অভিযোগ করেছেন বিডিএমএ’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দগণ।

 

তাঁরা মেডিনিউজ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীন মেডিকেল স্কুল ম্যাটস্ প্রতিষ্ঠান যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠ তাই রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের নামকরণ সেটিই হতে হবে যেটি ম্যাটস্ ‘ডিএমএফ’ ডিপ্লোমা চিকিৎসকগণ চান।’ তাঁরা এও বলেন, ‘এটা ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। কাজেই ‘মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড’ অব বাংলাদেশ নামকরণের জন্য প্রয়োজনে ডিপ্লোমা চিকিৎসকগণ অাগের বারের মতো আবারো মানববন্ধন ও রাস্তায় অান্দোলন করা সহ সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবেন, তবুও অসংগতিপূর্ণ ও উদ্ভট নামের অ্যালাইড হেলথ শিক্ষা বোর্ড কিংবা প্যারামেডিকেল শিক্ষা বোর্ড মেনে নেয়া হবে না।’

 

এদিকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ শিক্ষা বোর্ড আইন-২০১৯ (প্রস্তাবিত) নামকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ডিপ্লোমা চিকিৎসক ও ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দাবি, ‘এই নামকরণ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত, বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ অধিভূক্ত, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল বিএম&ডিসি স্বীকৃত ম্যাটস্ প্রতিষ্ঠানের ‘ডিএমএফ’ ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী পেশাজীবী ডিপ্লোমা চিকিৎসক, ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি ডিএমএফ কোর্স শিরোনাম, ম্যাটস্ প্রতিষ্ঠানের নাম ও বিদ্যমান ‘দি স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব বাংলাদেশ- বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ’ নামের সাথে সাংঘর্ষিক হবে।’

 

তাঁরা আরো বলেন, ‘মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল স্বীকৃত ডিপ্লোমা চিকিৎসকতা পেশা অ্যালাইড হেলথ এডুকেশন (যার বাংলারূপ সহযোগী স্বাস্থ্য শিক্ষা) এর মধ্যে পড়ে না।’ আর তাই এই অসংগতিপূর্ণ ও উদ্ভট অ্যালাইড হেলথ শিক্ষা বোর্ডের নাম মানতে নারাজ পেশাজীবী ডিপ্লোমা চিকিৎসক ও ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। তাঁদের সিনিয়র পেশাজীবী নেতা ও ছাত্রনেতাদের দাবি, ‘অ্যালাইড হেলথ শিক্ষা বোর্ড কিংবা প্যারামেডিকেল শিক্ষা বোর্ড নামকরণ করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদে পড়বে এই বোর্ড থেকে সনদ প্রাপ্ত ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা। বিদেশে এধরনের উদ্ভট নামযুক্ত বোর্ডের সনদ মূল্যায়ন করা হবে না। ফলে এ ধরনের বোর্ডের সনদধারীদের বিদেশে কোনো কর্মসংস্থান হবে না। আর দেশে তো ডিপ্লোমা মেডিকেল সেক্টরে বেকার সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলছে। কাজেই বোর্ডের নাম ‘মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড’ অব বাংলাদেশ নামকরণ করতে হবে। যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খামখেয়ালীপনা করে ‘মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড’ অব বাংলাদেশ নামকরণ করতে না চান, তবে বিদ্যমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের নামানুসারে নতুন বোর্ডের নামকরণ ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা শিক্ষা বোর্ড- দি স্টেট মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড অব বাংলাদেশ’ করা যেতে পারে। এতে করে বোর্ডের নামকরণ বিতর্ক এড়ানো সম্ভব।’

 

অন্য আরেকটি বিশ্বস্ত সূত্র মতে জানা যায়, ডিপ্লোমা চিকিৎসকগণ গত কয়েক মাস আগে অ্যালাইড হেলথ শিক্ষা বোর্ড নামকরণের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি, মানববন্ধন ও রাস্তায় অান্দোলন করা সহ অ্যালাইড হেলথ শিক্ষা বোর্ড নামকরণ বাতিলে সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত রিট মামলা করার প্রাথমিক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ডিমান্ড অব জাস্টিস নোটিশ প্রেরণ করেছেন।

 

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর এই যুদ্ধপীড়িত ও যুদ্ধাহত নব্য স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে, অনেক গরীব, দুস্থ, অসহায় মানুষের সামান্য রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদানও সরকারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। যা জনবান্ধব বঙ্গবন্ধু’র সরকারকে ভাবিয়ে তোলে। ঠিক তখনি স্বল্প সময়ে সবার জন্য মৌলিক অধিকার চিকিৎসা সেবা প্রদান বাধ্যতামূলক করার জন্য বঙ্গবন্ধুর সরকার স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৭৩- ১৯৭৮ ইং) মোতাবেক ব্রিটিশ-পাকিস্তান পিরিয়ডের মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল নিবন্ধিত লাইসেন্সশিয়েট অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি এলএমএফ, মেম্বার অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি এমএমএফ ডিপ্লোমা সমমান চিকিৎসকদের কোর্স কারিকুলাম অনুসারে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি ‘ডিএমএফ’ ডিপ্লোমা চিকিৎসকতা পেশা কোর্সটি আন্তর্জাতিক ভাবে অনুমোদন করিয়ে নিয়ে আসেন। এ পরিকল্পনায় সুস্পষ্ট উল্লেখ ছিল এলএমএফ, এমএমএফ’দের মতো ডিএমএফ ডিপ্লোমা চিকিৎসকগণ পরবর্তীতে মেডিকেল সায়েন্সে কনডেন্সে স্নাতক ডিগ্রি এমবিবিএস কোর্স পড়ার সুযোগ পাবেন। অদ্যাবধি তা বাস্তবায়ন হয় নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন :