আজ বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:১৩ অপরাহ্ন

ঈশা খাঁ ইউনিভার্সিটির শিক্ষককে হত্যা চেষ্টা

কিশোরগঞ্জের ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক মহসিন খানকে ছুরি মেরে হত্যার চেষ্টা চালায় মোজাম্মেল মাহমুদ রিয়েল  নামে এক বখাটে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি। জানা যায় বখাটে মোজাম্মেল মাহমুদ রিয়েল একই বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি দশম সেমিস্টারের ছাত্র। তবে অভিযুক্ত বখাটে রিয়েল এখন পর্যন্ত কোন ক্লাসেই অংশ নেয়নি। আর এ কারনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ দেয়া হয়নি। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয় রিয়েল। রিয়েলের ধারণা শিক্ষক মহসিন খান তাকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছেন।
বেসরকারি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, নিয়ম হচ্ছে নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাই শুধু পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবে। এলএলবির দশম সেমিস্টারের ছাত্র শেখ মোজাম্মেল মাহমুদ রিয়েল এ পর্যন্ত কোনো ক্লাসে অংশ নেননি। তার পরও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে তাঁকে ১১তম সেমিস্টারে উত্তীর্ণ করার দাবি জানান তিনি।

বিভাগীয় প্রধান এ সুযোগ না দেওয়ায় গত শনিবার দুপুরে তিনি ছুরি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে মহসিন খানকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন চার তলায় এলএলএমের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন মহসিন খান। পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার হল থেকে শিক্ষক মহসিন খানকে টেনে হিচড়ে বের করে নিয়ে আসেন রিয়েল এবং হলের বাইরে এনেই পকেট থেকে ছুড়ি বের করে মহসিন খানকে কোপাতে চেষ্টা করেন তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা ও প্রচেষ্টায় প্রাণে বেঁচে যান শিক্ষক মহসিন খান।
মহসিন খান বলেন, ‘লোকজন না থাকলে সে আমাকে মেরেই ফেলত। ছেলেটি তখন নেশাগ্রস্ত ছিল বলে আমার মনে হয়েছে। পরে সে দ্বিতীয় তলায় গিয়ে ২০৯ নম্বর কক্ষ ভাঙচুর করে চলে যায়। ’ ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. আরজ আলী ঘটনাটিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি প্রফেসর ডা. আ ন ম নৌশাদ খান বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। আমি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ’ শহরের নীলগঞ্জ রোডে তিনটি ভবনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের কাছেই বখাটে রিয়েলের বাসা হওয়ায় এবং বখাটের বাবা একজন পরিচিত উকিল হওয়ার সুবাদে প্রতিনিয়তই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রিয়েল বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করত। জানা গেছে বখাটে রিয়েল মাদক ও ইয়াবায় আসক্ত।

এদিকে এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক মহসিন খান তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পাঠকদের জন্য মহসিন খানের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল-
“ঈশা খা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের
৪র্থ শিক্ষক আমি। আমি আসার আগেই আরও ২ জন শিক্ষক ছিলেন।পরবর্তীতে আমি এবং অন্য একজন একই সাথে আইন বিভাগে যোগদান করি যেহেতু আমি ৪র্থ ছিলাম আমার সাথে যিনি ৩য় ছিলেন উনি চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন করেন ৪.১০.২০১৩ সাল।উনি ছিলেন ৩ মাসের কিছু বেশি সময়।উনি চলে যাওয়ার পর আমি দায়িত্ব নেই তারিখটা আমার সঠিক মনে নেই।তখন পরিবেশটা এমন ছিলো যে কোন নিয়ম ছিলো না যে ছাত্রদের জন্য এক্সাম বা সেমিস্টার পদ্ধতিতে কিভাবে বা কতো বিষয়ে পাশ করলে পরের সেমিস্টারে যেতে পারবে।এই ভাবে চলতে থাকে দীর্ঘদিন দিন।পরবর্তীতে আরও অনেক শিক্ষক এসে যোগদান করে বিভাগে। তখন সবাই মতামত দিতে থাকে যে ছাত্ররা যেহেতু ক্লাস কম করে আমরা যদি Colligate, Non colligate, Dis colligate চালু করি তাহলে ছাত্র ছাত্রী রা ক্লাস মুখী হবেন। বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষক দের উদ্যেশ্য ছিলো ছাত্রদের কল্যান।যাতে পড়াশোনা ভালো হয় এবং মিনিমাম একটা জ্ঞান নিয়ে ছাত্র/ ছাত্রী রা বের হয়ে নিজের জ্ঞান দিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে পারে। আর বিষয়টি তে সব চেয়ে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে আমাদের প্রিয় মুকুল স্যার।
তার পর আস্তে এটা বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় একটা একাডেমিক কাউন্সিল মিটিং উপস্থাপনের মাধ্যমে ভিসি স্যার সহ সকল একাডেমিক কাউন্সিল এর মেম্বার সবাই মতামত দেন এই বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য তবে বলে রাখা ভালো এটা আমার ব্যক্তিগত কোন আইন না বা বিভাগের কোন আলাদা আইন নয়।এটা ছিলো আইন বিভাগের ভালো হবে এমন টা ভেবেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এটা বাস্তবায়নের জন্য।

আর আমরা যখন ফাইনাল পরীক্ষায় Colligate Non colligate, Dis colligate করি এটা চেয়ারম্যান করে না।
করা হয় কোর্স টিচারের খাতার হাজিরার উপর ভিত্তি করে যা স্ব স্ব কোর্স টিচার করে দেয়।

এই বিষয়ে আমার নিজের কোন ক্ষমতা নেই। কোন ছাত্র কোন পরীক্ষায় পরীক্ষা দিতে পারবে কি না সেটা তার কোর্স টিচার এর ব্যাপার আমার ব্যক্তিগত কোন বিষয় না।

আমাকে যে সব ছাত্র ছাত্রী রা ভুলে আমার উপর হিংসাত্বক মনোভাব নিয়ে আছো তাদের বলি এই ক্ষেত্রে আমার কোন ব্যক্তিগত দায় নেই।

যখন কোন ছাত্র এই ব্যাপারে কথা বলতে আসে তখন স্বাভাবিক ভাবেই আমাকে উত্তর দিতে হয় চেয়ারম্যান হওয়ার কারনে।
প্রিয় ছাত্র,ছাত্রী রা ভুল করেই আমাকে এই দায়ভার দিচ্ছো যে আমি এক্সাম দিতে দেই না।

যার কারনে হয়তো আজ আমি এই পরিস্থিতিতে পরছি।
একটা বিষয় সবাই ভুলে যায় আমরা যে আমি কাউকে আটকানো ক্ষমতা রাখি না কারন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে আমাকে কাজ করতে বলা হয়।

কেউ বলতে পারবে না যে কোন ছাত্রকে আমি হেল্প করার সুযোগ থাকলে হেল্প করি নাই। আমরা ভুলা জাতি খুব সহজে সব উপরকার ভুলে যাই।

যাদের কে সর্বোচ্চ দিয়ে উপকার করেছি তারাও আজ না জেনে না বুঝেই আমাকে দোষ দিয়ে আমাকে মারার চেষ্টায় লিপ্ত। একটা বিষয় তোমরা সবাই ভূলে যাও আমার বাবা মা পরিবার আছে আমার জন্য কাদবে এমন লোক জন আছে। একটা বিষয়ে মনে রেখো অন্যার ভাবে আমাকে মারতে চেষ্টা করছো এটা আল্লাহ দেখছে।এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চোখ অন্ধ হলেও আল্লাহ সব দেখেন।

আমি নিজেই কষ্ট পেতে পারি। দিনশেষ আমি অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। আমাকে সম্মান দিতে বলিনি। তবে অপমান করার অধিকার তোমাদের নেই।

আমাকে ভালো লাগেনি তোমরা ভিসি স্যার কে অবহিত করে আমার চাকরি থেকে পদত্যাগ চাইতে পারতে।
আমাকে প্রকাশ্যে মেরে ফেলার চেষ্টা করার দরাকার ছিলো না।
আমাকে যদি এসে কেউ বলতে স্যার আপনি চলে যান না হয় চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব ছেড়ে দেন না হয় আপনার প্রবলেম হবে তবুও আমি সম্মানিত বোধ করতাম।

আমার শিক্ষতা জীবনের ৬ বছর পুরন হওয়ার কথা ছিলো আগামি মাসের ৫ তারিখ।সেটা মনে হয় আর হলো না।
এই দীর্ঘদিন শুধু শিখাতেই চেষ্টা করছি।এখন মনে হচ্ছে আমি পুরোটা ব্যর্থ। এই পেশায় থাকার কোন যোগ্যতা আমার নেই।

আমি নিজেই সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবি। ভাবছি এই পেশাতেই বাকিটা দিন কাটাতে সক্ষম হবো।সবার কাছে দোয়া চাই। আরও যদি কারও কোন ক্ষোভ থেকে থাকে আমাকে সবাই ক্ষমা করে দিবেন।

এতো দিন সবাইকে বলে বেড়াতাম কিশোরগঞ্জ খুব ভালো শহর মানুষ গুলো খুব ভালো। আজো তাই বলছি আসলেই কিশোরগঞ্জের লোকজন খুবই ভালো।

একটা বিষয় বলে রাখা ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার কথায় চলে না আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথায় চলি।
আমার উপরে আছে ডীন স্যার আমি উনার কথা চলি।
আছেন রেজিস্টার স্যার আমি উনার কথায় চলি,আছেন আমাদের অভিভাবক ভিসি স্যার আমি উনার কথায় চলি,আছেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান স্যার
আমি উনার কথায় চলি।
আছে ট্রাস্টের সেক্রেটারি স্যার আমি উনার কথায় চলি
তবুও আজ সব দোষ আমার।
বিপদ আমার, দায়ভার আমার।
সব মেনে নিলাম।
সবশেষ আল্লাহ র কাছে বলে দিলাম আমি কি চাই।
সবার জন্য শুভ কামনা রইল।”

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :