আজ বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন

খুলনায় চিকিৎসক লাঞ্ছিত: বিকেলে এফডিএসআরের বিক্ষোভ

খুলনায় খালিশপুর ক্লিনিকে ডা. সুজা উদ্দিন নামক এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি এন্ড রাইটস (এফডিএসআর)। আজ (৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার সকালে মেডিভয়েসকে এ তথ্য জানিয়েছেন এফডিএসআরের চেয়ারম্যান ডা. আবুল হাসনাত মিল্টন।

তিনি বলেন, ডা. সুজা উদ্দিনকে হত্যা প্রচেষ্টাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে আমাদের এই বিক্ষোভ বিক্ষোভ সমাবেশ। আমার শৈশব-কৈশোরের শহর খুলনা। হাতের তালুর মত চেনা এই শহরে কাল ডা. সুজা উদ্দিনকে কতিপয় সন্ত্রাসী যেভাবে হত্যা করতে চেয়েছে, তা শুনে আমি হতবাক, ক্ষুব্ধ। এইসব হামলাকারী, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ডা. আবুল হাসনাত মিল্টন বলেন, ঢাকায় অবস্থানরত সকল চিকিৎসকদেরকে এফডিএসআরের পক্ষ থেকে আজকের শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি।

এর আগে গতকাল (৮ সেপ্টেম্বর) খুলনার খালিশপুর ক্লিনিকে রিপন (২৪) নামে এক পলিটেকনিক ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনরা মরদেহসহ কর্তব্যরত চিকিৎসককে মারধর ও জোর করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে খুমেক হাসপাতাল থেকে কায়েস ও কৌশিক নামে দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, নগরীর মুজগুন্নী শেখ পাড়া এলাকার বাসিন্দা শওকত সর্দারের ছেলে ও সিটি পলিটেকনিকের ছাত্র রিপন সর্দারকে (২৪) বুকে ব্যাথা অনুভব করায় রাত ১২টার দিকে খালিশপুর ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক চিকিৎসা দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রিপনের মৃত্যু হয়। এতো অল্প সময়ের মধ্যে রোগীর মৃত্যুতে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসককে মারধোর করে চিকিৎসকসহ রিপনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সেখানেও রোগীর স্বজনরা দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে সেখান থেকে কায়েস ও কৌশিক নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ।

এ ব্যাপারে খালিশপুর ক্লিনিকের মালিক ডা. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, রাত ১২টার পরে একটা রোগী আসে বুকে ব্যাথা নিয়ে। তাকে সম্ভাব্য সব চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালীন তার মৃত্যু হয়। কিন্তু রোগীর স্বজনরা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুজাউদ্দিনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে অস্ত্রের মুখে খুমেক হাসপতালে নিয়ে যায়। সে গুরুতর অবস্থায় খুমেক হাসপাতালে অর্থপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মনোয়ার হোসেন তার ফেসবুক ওয়ালে ডা. সুজাউদ্দিন সুজার উপর নির্যাতনের বিষয়ে একটি মন্তব্য করেছেন। এতে তিনি লিখেছেন, ‘ডা. সুজাউদ্দিন সুজা। খুলনা মেডিকেলে আমাদের প্রাক্তন ছাত্র। সে ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি। ইন্টার্ন হিসাবে সে অত্যন্ত সিনসিয়ার হওয়ায় আমার খুব প্রিয় ছাত্র ছিল।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘গতকাল খুলনার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালীন রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কতিপয় সন্ত্রাসী তার উপর হামলা করে। পরে তাকে রাতেই হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে সারারাত নির্মম ভাবে শারিরীক নির্যাতন চালায়। পরে ভোর পাঁচটায় সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।’ হামলাকারীরা সবাই রাজনৈতিক পরিচয়ধারি প্রভাবশালী। ফলে বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য বলে জানান তিনি।

তিনি লিখেছেন, ‘গতকয়েক মাসে চিকিৎসকদের প্রতি বিভিন্ন পর্যায়ে ঢালাওভাবে বিরূপ বক্তব্য এবং ব্যবস্থা গ্রহনের ফলে চিকিৎসকরা এখন দেশের সবচাইতে অসহায় প্রাণী।’

সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমতাজুল হক বলেন, চিকিৎসককে লাঞ্ছিত ও জিম্মি করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য কায়েস ও কৌশিক নামে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :