আজ মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন

ভারতে যে কারণে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ

তরুণ প্রজন্মের ই-সিগারেটে আসক্ত হয়ে পড়া এবং রাজস্ব হারানোর প্রেক্ষাপটে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ ঘোষণা করলো ভারতে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির মন্ত্রী পরিষদ এ সংক্রান্ত এক আদেশে অনুমোদন দিয়েছে।

ভারতের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিগগিরই অধ্যাদেশ জারি করা হবে বলে জানা গেছে।

আদেশে বলা হয়েছে, ভারতে ই-সিগারেটের ব্যবসা, বিক্রি বা বিপণন করলে প্রথমবার অপরাধে এক বছরের জেল বা এক লাখ রূপি পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় শাস্তিই হতে পারে। দ্বিতীয়বার ওই অপরাধ করলে সাজা হতে পারে ৩ বছর জেল ও ৫ লাখ রূপি টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

একইসঙ্গে হুক্কা বারগুলোও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর) ই-সিগারেটের উপরে শ্বেতপত্র প্রকাশ করে। আইসিএমআর ওই শ্বেতপত্রে তাই-সিগারেট নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছিল।

এই পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের নেতৃত্বে গঠিত হয় একটি কমিটি। সেই কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

নির্মলা সীতারামন বলেন, ‘প্রথমে ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেমকে (এন্ডস) সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকারক বিকল্প হিসেবে দেখা হলেও, এখন দেখা যাচ্ছে, তা নয়। এতে নিকোটিনের নেশা তৈরি হচ্ছে। অনেকে ‘স্টাইল স্টেটমেন্ট’ বা ‘কুল’ হিসেবে দেখে ব্যবহার করতে শুরু করছেন। তারপর নেশায় জড়িয়ে পড়ছেন।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ দেশে কোনও ই-সিগারেট উৎপাদন হয় না বলেই ধারণা। যদিও ৪০০ ব্র্যান্ড এই ব্যবসা করে।’

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে তামাক শিল্পে প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। সিগারেট, তামাকের উপরে কর থেকে সরকারের বার্ষিক আয় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। রপ্তানি থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রা আসে। কিন্তু যারা ই-সিগারেট আমেরিকা-চিন থেকে আমদানি করছেন, ব্যবসা করছেন, তাদের কোনও লাইসেন্স নেই। কোনও রাজস্ব আয়ও হয় না।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :