আজ মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন

সিলেটে নারী চিকিৎসককে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আটক ১

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক আফসারা তাসনিম মম। গতকাল শুক্রবার (৪ অক্টোবর) রাত সোয়া ৯টার দিকে সিলেট রেলস্টেশন এলাকায় এ ঘটনার পর আহত ডা. মমকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছুরিকাঘাতে তার মুখসহ জিহ্বা অনেকটা কেটে গেছে ও হাতে আঘাত লেগেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ ঘটনায় আজ (শনিবার) দিবাগত রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নগরীর আলি আমজদের ঘড়িঘরের পাশ থেকে রক্তমাখা ছুরিসহ ছিনতাইকারী রাজুকে আটক করেছে। রাজু একাধিক ছিনতাই ও হত্যা মামলার আসামি বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল।

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল বলেন, ছুরিকাঘাতের খবর পেয়েই পুলিশ ছিনতাইকারীকে ধরতে অভিযান শুরু করে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর সুরমাপারের আলী আমজদের ঘড়িঘরের পাশ থেকে রাজু নামের ওই ছিনতাইকারীকে আটক করতে সক্ষম হই। আটকের সময়ও তার হাতে নারী চিকিৎসককে আঘাত করা রক্তমাখা ছুরি ছিলো।

আহত ডা. আফসারা তাসনিম মমের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তার স্বামী চট্টগ্রাম মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ফিজিওলজি ডিপার্টমেন্টের লেকচারার ডা. তানভীর চৌধুরী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ছুরিকাঘাতে আফসারা তাসনিম মমর মুখ ও দুই হাত জখম হয়েছে। তবে অপারেশনের পর তার অবস্থা কিছুটা ভালো। বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত।’

ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, পূজার ছুটিতে বাড়ি ফেরা বান্ধবীকে এগিয়ে দিতে শুক্রবার রাতে নগরীর কদমতলী এলাকার সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে যান ডা. আফসানা তাসনিম মম। বান্ধবীকে স্টেশনে পৌঁছে রিকশায় করে ফেরার সময় স্টেশন এলাকায়ই তার পথরোধ করে এক ছিনতাইকারী।

এসময় মম’র ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে চায় ছিনতাইকারী। এতে তিনি বাধা দিলে ছিনতাইকারী তার মুখে ও হাতে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এসময় মম’র চিৎকারে পথচারীরা এগিয়ে এসে ছিনতাইকারীকে ঘিরে ধরেন। তবে কৌশলে সে পালিয়ে যায়। পরে মমকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান পথচারীরা। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে তার অস্ত্রোপচার হয়।

আফসারা তাসনিমের বাড়ি চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে। তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের শির্ক্ষাথী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ:

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী। আহত ইন্টার্ন চিকিৎসকের দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়ার পাশাপাশি রক্ত প্রদানসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতার হাত বাড়াতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তারা।

মমর ব্যাচমেট ইমাম হোসেন মামুন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘একজন বান্ধবীকে গাড়িতে তুলে দিয়ে হলে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হয় আফসারা তাসনিম মম। পরে একজন বয়স্ক লোক আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। প্রচুর রক্তক্ষরণে ভেইন কলাপ্স হয়ে যাচ্ছে তার। অপারেশন থিয়েটারে জরুরি ভিত্তিতে জেনারেল সার্জারি, অর্থোপেডিক সার্জারি ও নাক কান গলা বিভাগের স্যারদের তত্ত্বাবধানে তার অস্ত্রোপচার হয়েছে।’

ইমাম হোসেন মামুন আরও জানিয়েছেন, ছুরির আঘাতে হাত কেটেছে গভীরভাবে। মুখে জখম হয় এবং জিহ্বায়ও আঘাত লাগে।

ফেসবুকে নিজের টাইলাইনে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘মানুষ কতটা নৃশংস, জানোয়ারে পরিণত হলে আরেকজন মানুষকে এভাবে আঘাত করতে পারে তা মমর অবস্থা না দেখলে বুঝতাম না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাচমেট সকলের দোয়া ও ভালোবাসা আছে তোর জন্য। ডিউটিরত বন্ধু-বান্ধবীরা তোর জন্য রক্ত দিতে ছুটে গেছে। এই বীভৎস মানসিক অবস্থা নিয়ে আবার তাদেরকে ডিউটিতে ফিরে যেতে হবে। তবুও তারা তোর জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। তুই ফিরে আয় আবার আমাদের মাঝে—এ দোয়া রইলো।’

ময়নামতি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক তারেক ইমন ওই পোস্টের কমেন্ট সেশনে বলেন, ‘সিলেটে ছিনতাইটা বেশি হয় মনে হলো। এর আগেও এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে শেষ করে দিল মাত্র ক’টা টাকার জন্য।’

এ ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে গোপালগঞ্জ মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজিরুম মুবিন ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে লিখেন, ‘সিলেট শহর নাকি ডিজিটাল শহর। প্রতি মোড়ে মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা। শহরের প্রতিটি নাগরিককে নাকি ট্রেস করা সম্ভব। এরপরেও দুই দিন পর পর একই জায়গায় ছিনতাই হয়। নিরপরাধ মানুষ আহত হয়, নিহত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৭ এর মার্চে একই জায়গায় মাহিদ মারা গেল ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে। আজ আবার ৫২ ব্যাচের এক মেয়ে গুরুতর আহত৷ আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রাখুন। দ্রুত সুস্থ করে তুলুন।’

সিলেট শহর এমন ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আব্বার ভাষ্যমতে নব্বইয়ের দশকে ছিনতাই কি এই শহরের মানুষ জানতো না। রাত দশটা এগারোটার সময় মহিলারা গহনা গায়ে কোনো অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফিরেছে। কোন ভয় ছিলো না৷আর এখন…, এই শহরটাও নষ্ট হয়ে গেলো।’

সৌজন্যে : মেডিভয়েস।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :