আজ শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন

ভিসির পদত্যাগ দাবিতে বিএসএমএমইউ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

মেডিকেল অফিসার নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল বাতিল ও উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএসএমএমইউ) পরীক্ষার্থীরা।

সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো তারা ভিসির কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন। পরীক্ষা বাতিল ও ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন তারা।

আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের দাবি, ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে নজিরবিহীন অনিয়ম হয়েছে। ভিসি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ তাদের স্বজনদের নিয়োগ দিতে পরীক্ষার ফলাফলে টেম্পারিং করা হয়েছে।

তাদের দাবি, এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা বিভিন্ন কোর্সে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়েই তাদের চাকরি হবে বলে প্রত্যাশা করেছিলেন। লিখিত পরীক্ষাও তাদের ভালো হয়েছে। অনিয়মের কারণেই তারা বাদ পড়েছেন।

এদিকে উত্তাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাস ও ভিসির কার্যালয়ের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ও বিএসএমএমইউ’র অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন। তবে ভিসি কার্যালয়ে নেই বলে জানা গেছে।

গত ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত ২০০ ডাক্তার নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল গতকাল (রোববার) প্রকাশিত হয়। ১৮০ জন মেডিকেল অফিসার ও ২০ জন ডেন্টাল চিকিৎসক পদে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ৮ হাজার ৫৫৭ জন চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন।

লিখিত পরীক্ষায় ১ পদের জন্য ৪ জনকে পাস করানো হয়। এ হিসাবে ৭১৯ জন মেডিকেল অফিসার ও ডেন্টালের ৮১ জন মিলে মোট ৮২০ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। চূড়ান্ত নিয়োগের লক্ষ্যে তাদের ৫০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে।

ফলাফল ঘোষণার পরপরই সুযোগ বঞ্চিত চিকিৎসকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন দেয়ালে বিভিন্ন স্লোগান লেখা পোস্টার সেটে দেন।

অভিযোগের যথার্থতা জানতে দুপুরে বিএসএমএমইউ ভিসির সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ব্যক্তিগত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, তখন বুদ্ধদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গণভবনে থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। এখন ফোন দিলে তাঁকে পাওয়া যাবে। এরপর বিকেলে দ্বিতীয় দফা ফোন দিলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিএসএমএমইউ রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল হান্নান  বলেন, “পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম হয়নি। তাদের অভিযোগ সঠিক না। যারা উত্তীর্ণ হয়নি, তারাতো এমনিতেই কিছুটা ক্ষুব্ধ থাকে। আমার জানা মতে, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।”

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসএমএমইউর একজন অধ্যাপক  বলেন, “এর আগে যেদিন পরীক্ষা হয়েছে, সেদিনই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এই ফলাফল এতদিন পরে দিতে গিয়ে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে প্রশাসনের অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন।”

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :