আজ মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

Notice: Undefined variable: bnews_options in /home1/medinewsbd/public_html/wp-content/themes/Medinews Theme/header.php on line 146

Notice: Undefined variable: bnews_options in /home1/medinewsbd/public_html/wp-content/themes/Medinews Theme/header.php on line 146

Notice: Undefined variable: bnews_options in /home1/medinewsbd/public_html/wp-content/themes/Medinews Theme/header.php on line 146
«» চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখায় মাদক নির্মূল কমিটি গঠন «» উৎসর্গ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বরগুনায় শুকনো খাবার বিতরণ !!  «» বরিশাল ‘আই এইচ টি’তে জেলহত্যা দিবসে অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে ডিজে পার্টি! «» ভারতের চেয়ে আমাদের স্বাস্থ্যখাত বেশি উন্নত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী «» বিনা মূল্যের ওষুধ বিক্রি, ফার্মেসি মালিককে জরিমানা «» মাতৃমৃত্যু কমাতে হলে সিজারের সংখ্যাও কমাতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী «» মাতৃস্বাস্থ্যে বিশেষ অবদানস্বরূপ ৩ মেডিকেল কলেজকে বিশেষ সম্মাননা «» কিংবদন্তি চিকিৎসক এম আর খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ «» স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে হবে আলাদা মেডিকেল ইউনিট «» খুলনা মেডিকেলে ডেঙ্গুতে নারীর মৃত্যু

বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ব্যবসার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সদ্য পাশ করে জয়েন করা লেকচারারের বেতন মোটামুটি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়গুলোতে এই বেতন ৫০ হাজারের উপরেই থাকে। তাহলে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের একজন লেকচারারের বেতন কতো? এই ক্ষেত্রে বলা যায়, অধিকাংশ মেডিকেল কলেজগুলোতে এই বেতন ৩০ হাজার টাকার কম।

অথচ অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থী মোটামুটি ৫ থেকে ছয় লাখ টাকার মধ্যে তার শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারেন। সেখানে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে সরকার গতবার নিয়ম করে দিয়েছে, এই টাকা যেনো ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকার বেশি নেয়া না হয়।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশই চেষ্টা করে ভার্সিটির সবচেয়ে ভালো ছাত্রগুলো যেনো সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করে। এজন্য তারা তাদের বেতন কাঠামোকে একটা সম্মানজনক জায়গায় রাখার চেষ্টা করে। আর প্রাইভেট মেডিকেলগুলোর চেষ্টা থাকে, সবচেয়ে কম বেতনে কিভাবে এখানে লেকচারার নিয়োগ দেয়া যায়।

তাহলে কেন এই বিশাল অংকের টিউশন ফী বেসরকারি মেডিকেলে পড়ার জন্যে? কারণ, বেসরকারি মেডিকেলের মালিকপক্ষ বাংলাদেশের মানুষের মনস্তত্ত্ব খুব ভালো করে জানে।

এদেশের অধিকাংশ মানুষ প্রফেসর এবং কোয়াক ছাড়া ডাক্তার দেখাবে না। এবং সেই প্রফেসর অবশ্যই একজন ব্যস্ত প্র্যাক্টিশনার হতে হবে। সেই ব্যস্ত প্র্যাক্টিশনারের চেম্বারে ৪৩ নাম্বার সিরিয়াল নিয়ে ঘন্টা চারেক অপেক্ষা করে ডাক্তারের হাতে ৫ মিনিটে ৫০০ টাকা গুজে দিয়ে সন্তানকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন ঠিক করে ফেলে। সন্তান কী চায়, তার পড়াশোনার ঝোঁক কোন দিকে, দেশে আসলে ডাক্তারদের বাস্তব অবস্থা -এগুলো নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা করার প্রয়োজন দেখে না। তাদের চোখে সেই ব্যস্ত প্রফেসরের চেম্বারের চিত্র শুধু বাবলের মতো করে ভাসতে থাকে।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ সেই বুদবুদযুক্ত কাল্পনিক স্বপ্নকে পুঁজি করে সবচেয়ে কম খরচে এই ব্যবসাটি করে যাচ্ছে। আর এর শিকার হচ্ছে অসংখ্য শিক্ষার্থী এবং এর সাইড ইফেক্ট পড়ছে পুরো বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়।

বেসরকারি বা সরকারি যেকোনো জায়গায় পড়েই ডেডিকেশন, পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে খুব ভালো করা সম্ভব। এটা বাংলাদেশের যেকোনো সেক্টরের যে কোন সাবজেক্টের জন্যেই সত্য। কিন্তু স্ট্রাগল আর সম্ভাবনা আর বাস্তবতা কতটুকু, সেই বিষয়টা জেনেই আসা ভালো। এই সম্ভাবনা আর বাস্তবতার সঠিক চিত্র সমন্ধে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা সচেতন হলেই প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের এই অনৈতিক ব্যবসায় ধ্বস নামবে বলে আমার ধারণা।

তাই আপনার আশেপাশের সবাইকে ‘ডাক্তার হলেই বহুত ট্যাকা পয়সা’ এই ধারণার বিরুদ্ধে টীকা দিন আর প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ নামক ব্যবসার বিরুদ্ধে দাঁড়ান।

ডা. শরীফ উদ্দিন

রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :