আজ মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

Notice: Undefined variable: bnews_options in /home1/medinewsbd/public_html/wp-content/themes/Medinews Theme/header.php on line 146

Notice: Undefined variable: bnews_options in /home1/medinewsbd/public_html/wp-content/themes/Medinews Theme/header.php on line 146

Notice: Undefined variable: bnews_options in /home1/medinewsbd/public_html/wp-content/themes/Medinews Theme/header.php on line 146
«» চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখায় মাদক নির্মূল কমিটি গঠন «» উৎসর্গ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বরগুনায় শুকনো খাবার বিতরণ !!  «» বরিশাল ‘আই এইচ টি’তে জেলহত্যা দিবসে অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে ডিজে পার্টি! «» ভারতের চেয়ে আমাদের স্বাস্থ্যখাত বেশি উন্নত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী «» বিনা মূল্যের ওষুধ বিক্রি, ফার্মেসি মালিককে জরিমানা «» মাতৃমৃত্যু কমাতে হলে সিজারের সংখ্যাও কমাতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী «» মাতৃস্বাস্থ্যে বিশেষ অবদানস্বরূপ ৩ মেডিকেল কলেজকে বিশেষ সম্মাননা «» কিংবদন্তি চিকিৎসক এম আর খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ «» স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে হবে আলাদা মেডিকেল ইউনিট «» খুলনা মেডিকেলে ডেঙ্গুতে নারীর মৃত্যু

৩৫ বছর যাবৎ বিনামূল্যে রোগী দেখেন ডা. এএসএম শহীদুল্লাহ

চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলের চেয়ে চেম্বারে বেশি সময় দেয়া, গ্রামে থাকতে না চাওয়াসহ নানা ধরনের অভিযোগ থাকলেও নীরবে নিভৃতে গরিব অসহায় রোগীদের সেবা করছেন কিশোরগঞ্জের প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ‌্যাপক ও উপাধ‌্যক্ষ ডা. এএসএম শহীদুল্লাহ। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) থেকে পাস করে ১৯৮৪ সালে সরকারি চাকরি শুরু করে কয়েক বছর ছাড়া পুরো পেশা জীবন কাটিয়েছেন গ্রামের রোগীদের মাঝে।

সম্প্রতি এ মহান চিকিৎসক পেশা জীবনের ৩৫ বছর পার করেছেন।

এলাকাবাসী ও তার সহকর্মী চিকিৎসকদের সূত্রমতে, কয়েক দশক আগে থেকে ময়মনসিংহ শহরে চিকিৎসা বাণিজ‌্য শুরু হলেও সেদিকে যাননি শহরেরই আকুয়ায় জন্ম নেয়া এই ডাক্তার। বরং সরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত সময় দিয়েছেন রোগীদের। তারপরও সময় পেলেই ছুটে গেছেন গ্রামে বিনামূল‌্যের চিকিৎসা সেবা দিতে। অথচ, কখনোই চেম্বারে প্রেক্টিসে বসেননি তিনি।

এ প্রসঙ্গে ডা. শহীদুল্লাহ বলেন, “একদিন মানবসেবার জন‌্যই এ পেশায় এসেছিলাম, সে চেতনায় আজো আছি। সৎ পথে থেকে মানসিক তৃপ্তি নিয়ে থাকার জন‌্যই চেম্বার বা অতিরিক্ত সময়ে টাকা রোজগারে যাইনি। বরং সে সময়টা গরিব রোগিদের দিয়ে শান্তি পাই, বিশেষ করে ময়মনসিংহের ত্রিশালে গরিব রোগীদের চিকিৎসা দিতে চলে যেতাম। এখন বয়স হলেও চেষ্টা করি, মানুষের জন‌্য কিছু করার”।

ডা. শহীদুল্লাহর সহপাঠীরা (এম-১৫, মমেক) জানান, নানা লবিং-গ্রুপিং করে সরকারের নানা পদ-পদবি ও পদোন্নতি এবং শহরের বদলির চেষ্টার অভিযোগ শোনা যায় অনেক ডাক্তারের বিরুদ্ধে, সে পথে কখনো পা বাড়াননি তিনি। রোগীর চাপ কম থাকার সময় প্রকৃতিপ্রেমি ডা. শহীদুল্লাহ স্যার চলে যান পাহাড়, সমুদ্র, বনভূমিতে।ডা. শহীদুল্লাহ স্যার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন ছোটবেলা থেকে।

আকুয়া জুবিলী কোয়ার্টার্সে প্রবীণ দুলন মিয়া বলেন, তিনি এলাকায় থাকলে কখনো কোন ওয়াক্তের দেরি করে কাজা নামাজ পড়তে দেখিনি।

পাশের দরিদ্র কলোনির নুরজাহান বেগম বলেন, না চিনলেও ডাক্তার সাব যেকোন রোগী গেলেই গুরুত্ব দিয়ে সমস‌্যার সমাধান করেন, বিনামূল‌্যে ওষুধও দেন।

প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াহিদ হৃদয় বলেন, কমিউনিটি মেডিসিনের মতো কঠিন সাবজেক্টটাতেও ১০০% পাসের রেকর্ড যে মানুষটার হাত ধরে তিনি আমাদের শহীদুল্লাহ স্যার। আমার দেখা সেরা পাঁচজন ভালো মানুষের একজন। স্যারের প্রতিটা লেকচার তো বটেই, শেষদিকের সারাদিনব্যাপী রিভিশন লেকচার ক্লাসগুলো এত সহজ করে দেয়াটা, সর্বোপরি কমিউনিটি মেডিসিনের মত কঠিন বিষয়টা আয়ত্তে রাখার মত দুঃসাধ্য কাজের সর্বোত্তম অগ্রপথিক তিনি।

সরকারি চাকরি থেকে অবসরের সময় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেলের এক ছাত্র নাদিরুজ্জামান হিমেল লিখেছেন, “স‌্যার, আপনার শিক্ষকতা জীবনের এক বর্ণিল অধ‌্যায়ের সমাপ্তি। আপনার কাছ থেকে সবসময়ই কিছু না কিছু পেয়েছি, সবচেয়ে বেশি পেয়েছি ভালবাসা।” উত্তরে ডা. শহীদুল্লাহর স্যার সেই চিরায়ত কামনা, “ভাল মানুষ হও, ভাল চিকিৎসক হও”।

স্যার সলীমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের এইচএমও ডা.রুবাইয়া তাবাসসুম স্যারের ব্যাপারে ফেসবুকে লিখেছেন- আমাদের সবার খুব প্রিয় এবং শ্রদ্ধেয় শহীদুল্লাহ স্যার… স্যারের মতন নির্ভেজাল, অমায়িক আর ভাল মানুষ আজকালকার দিনে খুবই কম… স্টুডেন্ট লাইফে সবাই মিলে কত যে জ্বালিয়েছি স্যার কে! স্যার মাঝে মাঝে রাগ করতেন, আবার কিছুক্ষণ পরেই সব রাগ ভুলে গিয়ে আমাদের আপন করে নিতেন…। We were really blessed to have you among us Asm Shahidullah sir… খুব ভাল থাকবেন স্যার আর আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

নাবিয়া সালওয়া নামে আরেকজন ছাত্রী স্যারের ব্যাপারে লিখেছেন- Asm Shahidullah sir… A person with full of light… May Allah bless you always.

বাবা এ এ সাইফুদ্দিন নূর এবং মা রাবেয়া আক্তার খাতুনের সন্তান ডা. শহীদুল্লাহ। নিজের এলাকায় কেউ তাকে ডাক নামে ডাকেন। আবার কেউ মাশরুক, অনেকে মশরুক এবং বয়স্ক গরিব মানুষরা মশশুক ডাক্তার নামেও ডাকেন। অমায়িক, ভদ্র, নির্মোহ হিসেবে পরিচিত  ডা. শহীদুল্লাহর স্ত্রী ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডাক্তার শামীমা সুলতানা (এক সময় বাংলাদেশ বেতারের প্রথম শ্রেণির কণ্ঠশিল্পী ছিলেন)।

ডাক্তার দম্পতির ছেলে মোহাম্মদ হাসিন ইশরাক নিলয় কম্পিউটিার ইঞ্জিনিয়ার। মেয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে প্রথম বর্ষে অধ্যায়নরত।

ওয়াহিদ হৃদয়

শিক্ষার্থী,
প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :