,
শিরোনাম :
«» এ্যালাইড হেলথ্ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ডের বিরুদ্ধে ডিমান্ড অব জাস্টিস নোটিশ প্রেরণ «» আইএইচটি এবং ম্যাটস বোর্ড নিয়ে বিতর্ক! «» বেশীরভাগ ফার্মেসীতেই বিক্রি হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ «» গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন «» জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিজিওথেরাপি শাখার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত «» ভুটানে বাংলাদেশি চিকিৎসক নিয়োগ : সমঝোতা স্মারক নবায়ন এপ্রিলে «» তুরস্কে ইউরোপের সর্ববৃহৎ হাসপাতাল, যা আছে তাতে «» প্রাইভেট প্রাকটিস : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পরিবর্তনে আশাবাদী চিকিৎসকরা «» স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ব্যাপক রদবদল

ফেসবুক থেকে মানসিক চাপ

ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটার পর থেকে রুমি গত কয়েক দিন ফেসবুকে ক্রমাগত এই খবরটাই শুধু নিউজফিডে দেখতে থাকে। এমনকি সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা আগুন লাগার ভিডিওটিও বেশ কয়েকবার দেখে ফেলে। এ কদিন তার ঘুমটা ভেঙে যাচ্ছে নানা দুঃস্বপ্নে। শরীর ও মনে একরকম অস্বস্তি দানা বেঁধে ওঠে। এর মধ্যে একদিন স্বাভাবিক থাকা অবস্থায়ই হঠাৎ সমস্ত শরীর ঘাম দিয়ে ঠান্ডা হয়ে যায়, বুকটা এমনভাবে চেপে আসে যেন মনে হয় আর নিঃশ্বাস নিতে পারবে না, মাথাটা ঘুরে ওঠে আর কিছুক্ষণের মধ্যে বুকের ধড়ফড়ানি এমনভাবে বেড়ে যায় যেন এক্ষুনি হার্ট অ্যাটাক করবে। তৎক্ষণাৎ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে গেলে ডাক্তার বলেন শারীরিকভাবে রুমী সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলেও তার বর্তমান শারীরিক উপসর্গের কারণ একধরনের উদ্বেগজনিত মানসিক রোগ।

ফেসবুক ও মানসিক চাপজনিত সমস্যা

অনেক সময় ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভয়াবহ কোনো ঘটনা কেউ বারবার দেখলে মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়াজনিত নানা সমস্যা হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যা হয়ে থাকে।

সাধারণত এসব চাপদায়ক ঘটনার আমরা সচরাচর সম্মুখীন হই না বা এসব ঘটনায় মৃত্যু, ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ইনজুরি, বড় ধরনের হানাহানি ইত্যাদি ধরনের হয়ে থাকে।

কাদের ঘটে?

সাধারণত যাঁরা মানসিকভাবে নাজুক বা অতিরিক্ত উদ্বিগ্নতায় ভোগেন, যেকোনো চাপ নেওয়ার যাঁদের ক্ষমতা কম অথবা যাঁরা ইতিমধ্যে কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যায় ভোগার আশঙ্কা বেশি থাকে।

কী ধরনের মানসিক প্রতিক্রিয়া?

চাপের কারণে এসব মানসিক প্রতিক্রিয়া হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা শারীরিক উপসর্গ হিসেবে প্রকাশিত হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা শারীরিক পরীক্ষায় কিছু পান না।

আরও পড়ুন :  ঘুমের মধ্যে পায়ের শিরায় টান?

যেমন—

l ঘুমের সমস্যা (ঘুম আসতে দেরি হওয়া, ভেঙে ভেঙে ঘুম হওয়া, দুঃস্বপ্ন দেখা)

l বুক ধড়ফড়, বুকে চাপ বা অস্বস্তি, বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট,

l হাত–পা ঝিমঝিম করা, কান-মাথা হঠাৎ গরম হয়ে যাওয়া, ঘাম ছেড়ে দেওয়া,

l মাথা ঘোরানো, হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্যহীনতা বোধ করা, বমি বমি ভাব, পেটে গ্যাস বা চাপ,

l হঠাৎ হাত–পা ঠান্ডা বা অবশ হয়ে আসা, মুখ শুকিয়ে আসা,

l অস্থিরতা বোধ করা, হাত-পা কাঁপা,

l মাথা ব্যথা, ঘাড় ব্যথা, শরীরের নানা জায়গায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা,

l মৃত্যুভীতি বা হঠাৎ পড়ে যাওয়ার ভয় ইত্যাদি।

কী করবেন?

মানসিক চাপের এসব প্রতিক্রিয়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শারীরিক উপসর্গ হিসেবে আসে বলে ব্যক্তি অনেক সময় বড় ধরনের শারীরিক রোগ হয়েছে ধরে নেন। এতে উদ্বিগ্নতা আরও বেড়ে যায়। শারীরিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় কোনো সমস্যা ধরা না পড়লে মানসিক রোগ চিকিৎসক বা মনোবিদের সহায়তা নিন।

l উদ্বিগ্ন না হয়ে এসব উপসর্গ মানসিক কারণে হচ্ছে মনে করে নিজেকে আশ্বস্ত করুন।

l শরীর ও মনকে রিল্যাক্সড রাখার জন্য কিছু ব্যায়াম—যেমন শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (ধীরে ধীরে লম্বা করে শ্বাস পেটে নিয়ে কিছুক্ষণ রেখে হালকা করে ছাড়ুন। এভাবে বেশ কয়েকবার করুন)

l নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম, সাইক্লিং, সাঁতার কাটা, খেলাধুলা ইত্যাদিও মনকে রিল্যাক্সড রাখতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া সামাজিক মেলামেশা বাড়ানো, বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা, কোনো কিছুতে ভয় পেলে সেটা পরিহার না করে ধীরে ধীরে সম্মুখীন হওয়া ইত্যাদিও চাপ মোকাবিলা করার ক্ষমতা বাড়ায়। আর উদ্বিগ্ন অবস্থা মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।

মেখলা সরকার : সহযোগী অধ্যাপক (সাইকিয়াট্রি), জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা।

আরও পড়ুন :

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Ad
Ad