আজ সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন,

কেন পড়ব ফার্মেসি?

কী পড়ানো হয়

ফার্মেসি ‘মাল্টি ডিসিপ্লিনারি’ একটি বিষয় এবং স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের একটি বিশেষ শাখা। সহজভাবে এটি হলো ওষুধবিজ্ঞান। ওষুধ বানানো, এর মান নির্ধারণ, ব্যবহার, বিতরণ, পরিবেশন—এসবই এর আলোচ্য বিষয়। একজন ফার্মাসিস্ট হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফার্মেসি, কমিউনিটি ফার্মেসি, অনলাইন ফার্মেসি, ভেটেরিনারি ফার্মেসি প্রভৃতি বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিভাগে ৭০টি আসন রয়েছে। এখানে পাঁচ বছরের ব্যাচেলর অব ফার্মাকোলজি এবং এক বছরের মাস্টার্স অব ফার্মাকোলজি কোর্স রয়েছে। চতুর্থ বর্ষে ১ মাস ওষুধ কোম্পানিতে এবং পঞ্চম বর্ষে ৬ মাস ঢাকা মেডিকেলে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। বাংলাদেশের ৯টি সরকারি এবং ১৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিষয়ে বিভিন্ন কোর্স পড়ানো হয় ও ডিগ্রি দেওয়া হয়।

ভবিষ্যৎ কী

শুধু বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই ফার্মেসি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বাংলাদেশে বর্তমানে পোশাকশিল্পের পরেই ফার্মেসি শিল্পের অবদান। দেশে মোট চাহিদার ৯৭-৯৮ শতাংশ ওষুধ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্বের ১৪০টি দেশে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন বা এই বিষয়ে গবেষণা, প্রভৃতির জন্য দক্ষ ফার্মাসিস্ট তৈরিতে এই বিভাগের গুরুত্ব অপরিসীম।

ক্যারিয়ার কোথায়

এই বিভাগ তরুণ শিক্ষার্থীদের কাছে ক্যারিয়ার হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। সময়ের সঙ্গে এই বিভাগ–সম্পর্কিত চাকরির ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

l দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ওষুধের চাহিদা পূরণের জন্য যেসব কোম্পানি সক্রিয়, সেখানে আকর্ষণীয় বেতনে ওষুধের ফর্মুলেশন, উৎপাদন, মান উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ, নিশ্চিতকরণ, স্থিতিশীলতা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফার্মাসিস্টরা কাজ করেন।

আরও পড়ুন :  মেডিকেলে দ্বিতীয়বার ভর্তিতে ৫ নম্বর কাটার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

l ফার্মেসিগুলোতে পণ্য ব্যবস্থাপনা, পণ্যের মানোন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিভাগে স্নাতক ফার্মাসিস্টদের চাহিদা রয়েছে।

l সরকারি বিভিন্ন কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, সশস্ত্র বাহিনী, সরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে উচ্চ বেতনে ফার্মাসিস্ট নিয়োগ নেওয়া হয়।

l বাংলাদেশ সরকারের ড্রাগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে চাকরির সুযোগ রয়েছে।

l সম্প্রতি কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে ফার্মাসিস্ট, ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট, ফার্মেসি ম্যানেজার বা তথ্য বিভাগে নিয়োগ নেওয়া হচ্ছে।

l রাজধানীতে ৭টি মডেল ফার্মেসি প্রকল্প চালু হয়েছে। এখানে একজন ডিগ্রিধারী ফার্মাসিস্ট সরাসরি রোগী বা ওষুধের ক্রেতার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁকে ওষুধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানান ও বিভিন্ন পরামর্শ দেন। প্রতিটি জেলায় প্রাথমিকভাবে কমপক্ষে একটি মডেল ফার্মেসি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া শিক্ষকতা, গবেষণা বা দেশের বাইরে কাজ করার সুযোগ তো রয়েছেই।

কারা পড়বেন

যাঁরা রসায়ন এবং জীববিজ্ঞান ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য ফার্মেসি খুবই ভালো বিষয়। বিদেশে পড়তে যাওয়া বা চাকরির জন্যও বিষয়টি খুবই আকর্ষণীয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন :

আরও পড়ুন :

সংবাদটি শেয়ার করুন :