আজ সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন,

রাজশাহীতে নার্সিং ইন্সটিটিউট দখলের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে নার্সিং ইন্সটিটিউট দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের সভাপতির বিরুদ্ধে। মালিকদের লাঞ্ছিত করাসহ বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে মমতা নার্সিং ইন্সটিটিউট নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি দখল করে নেন তিনি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রায় ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। ফলে সেখানকার প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
প্রতিষ্ঠানের সভাপতির নাম আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মমতা নার্সিং ইন্সটিটিউটের মালিক মনিরুজ্জামান ও শবনম মোস্তারী মমি এ লিখিত অভিযোগ করেন।
শবনম মোস্তারী মমি জানান, মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যৌথ পরিচালানয় তারা ২০১৬ সনে নগরীর বহরমপুর এলাকায় প্রথম এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর পর থেকে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) এবং মনিরুজ্জামান প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের দুইজনের নামেই প্রতিষ্ঠানটি ট্রেড লাইসেন্স, নিবন্ধন ও বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল থেকে অনুমোদন নেয়া হয়। তবে আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীর আগ্রহের কারণে দুই বছর মেয়াদে প্রতিষ্ঠানের সম্মান সুচক সভাপতি করা হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তার সভাপতির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বহরমপুরে দ্বিতীয় ব্যাচ শুরু হওয়ার পর স্থান স্বল্পতার কারণে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তর করা হয় নগরের বালিয়া পুকুর দেবীসিং পাড়ায়। অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীর জার্মিনেট প্লাজার দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে সেখানে শিক্ষা কার্যাক্রম চালু করা হয়। চার লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে মাসিক ১০ হাজার টাকায় ভাড়ায় খোলা ছাদের অবকাঠামো সম্পন্ন করার শর্তে ভাড়া নেন।
শবনম মোস্তারী মমি বলেন, ‘‘দেবীসিং পাড়ায় জার্মিনেট প্লাজার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরুর পর ভবনের মালিক আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাবি করেন। এর পর থেকে তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের দুই মালিকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর পর তিনি তার ভবনের কেয়ারটেকারকে দিয়ে প্রতিষ্ঠানের তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ক্লাশ-পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে তিনি তার নিজের নামে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রচারপত্র বিলি করে। বিলবোর্ডেও ব্যবহার করে তার মোবাইল নম্বর। এছাড়াও গত মধ্য ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হিমালয় রায়কে ভয়ভিতি দেখিয়ে ভবনের কেয়ারটেকারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও সেশন ফি’র প্রায় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী। পরবর্তিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি সমঝোতা বৈঠকের মাধ্যমে উক্ত অর্থ তার প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসেবে জমা দেয়ার কথা হলেও তিনি জমা দেননি।’’
তিনি বলেন, ‘‘ওই বৈঠকে প্রতিষ্ঠানের মহিলা উদ্যোক্তা শবনম মোস্তারী মমির ৩৫ ভাগ, মূল উদ্যোক্তা মুনিরুজ্জামানের ৩৩ ভাগ এবং আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীসহ দুইজন অর্থদাতা জান্নাতুল ফেরদৌস ও উম্মে মারুফা ইয়াসমিন মুনের ৩২ ভাগ শেয়ার বন্টন করা হয়। তবে সে সিদ্ধান্তও মানেননি আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী।
‘‘এর জের ধরে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী দ্বিতীয় দফায় আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীর সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকে বসে প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। সেখানে মধ্যস্থতাকারি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী শিক্ষক-কর্মচারি ঐক্য ফ্রন্টের আহবায়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা।’’
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সিইও মনিরুজ্জামান বলেন, ‘‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমাণের অংশ হিসেবে প্রযুক্তি নির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রায়োগিক বাস্তবতানে তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করার জন্য নার্সিং কাউন্সিলের অনুমোদন নিয়ে মমতা নার্সিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যাচের একাডেমি কর্যক্রম চলমান। ১৫০ জন শিক্ষার্থী এখানে অধ্যায়নরত রয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শবনম মোস্তারী মমিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন ভবনের কেয়ারটেকার সোহেল রানা। বর্তমানে তাদের প্রতিষ্ঠানে যেতে দেয়া হচ্ছে না। এর আগে ভবনের মালিক আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীকে ভয়ভিতি দেখানো ও আইজিপিকে বলার হুমকির অভিযোগ তুলে গত ৮ ডিসেম্বর বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন সোহেল রানা।’’
অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য বসা হয়েছিল। আমি নিজে এসপি আব্দুর রহিমকে বুঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কেন বুঝতে চাইছেন না সেটা ভাবার বিষয়। তিনি অন্যায় ভাবে প্রতিষ্ঠানটি দখলে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
প্রতিষ্ঠানের অর্থ নেয়া ও দখলের বিষয়টি কথা অস্বীকার করে আব্দুল রহিম শাহ চৌধুরী বলেন, ‘‘আমি ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা করতে শিক্ষার্থীদের সার্থে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ জন্য আমার বিরুদ্ধ বিভিন্ন জায়গায় তারা মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’’
এদিকে, অর্থ নেয়ার কথা অস্বীকার করলেও ১৭/১২/১৮ তারিখ থেকে ৭/০২/১৯ তারিখ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাবের একটি কপি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এসেছে। ১৩ লাখ ২১ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে ১০ লাখ ৯৫ হাজার ছয় টাকা গ্রহন করেছেন সভাপতি আব্দুর রহিম শাহ। যাতে গ্রহনকারি হিসেবে স্বাক্ষর রয়েছে আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী ও প্রদানকারি হিসেবে অধ্যক্ষ হিমালয় রায় এর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী বলেন, ‘‘আমি প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত সভাপতি। আর্থিক উপকার ভোগি নয়। তাই সেখান থেকে অর্থ নেয়ার প্রশ্নই আসে না। আয়-ব্যয়ের হিসাব ও অর্থ বুঝিয়ে নেয়ার সিটে যে স্বাক্ষর রয়েছে সেটি তার নয়। এমন স্বাক্ষর থাকলে সেটি জাল’’ বলেও দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামে নারী চিকিৎসককে যৌন হয়রানির অভিযোগ

আপনার মন্তব্য লিখুন :

আরও পড়ুন :

সংবাদটি শেয়ার করুন :