আজ সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন,

বিদ্যুৎ সংকটে ভেনিজুয়েলার ৮০% ওটি বন্ধ

বিদ্যুত সংকটে তিন দিন ধরে অন্ধকারে ভেনিজুয়েলা। বিদ্যুতের অভাবে হাসপাতালগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ অপারেশন থিয়েটার (ওটি) বন্ধ প্রায়। চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে দেশটির প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্র দখলে নিয়ে বিকল করে দিয়েছে বিরোধীরা। ফলে দেশের মোট ২৩টি প্রদেশের ১৫টিই এখন বিদ্যুৎবিহীন।

এএফপির খবরে জানা গেছে, দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে জেনারেটর টানা চালানোর ফলে সেগুলো বিগড়ে গেছে। কারাকাসের শিশু হাসপাতালে মোবাইল ফোনের আলোতেই জরুরী চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালগুলোতেও অস্ত্রোপচার বিঘ্নিত হচ্ছে।

হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, গত চার মাস ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি চললেও সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণের প্রদেশ বলিভারের গুরি অঞ্চলে দেশের মূল জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বিকল করে দেয় বিরোধীরা। এদিন বিকাল থেকে শুরু হয় বিদ্যুৎবিভ্রাট। শুক্রবার রাতের মধ্যে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা। স্তব্ধ হয়ে যায় রাজধানী কারাকাস। থমকে আছে পরিবহন, ব্যবসা। বন্ধ স্কুল, কলেজ, অফিস, দোকানপাট, পেট্রল পাম্প।

ভেনিজুয়েলার বিদ্যুৎমন্ত্রী লুই মোত্তা দোমিনগুয়েজে বলেছেন, ‘সরকারকে চাপে ফেলতেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিকল করে দিয়েছে বিরোধীরা। এটা বৈদ্যুতিক যুদ্ধ।’

তবে, বিদ্যুৎবিভ্রাটের দায় সরকারের ওপর চাপিয়ে শনিবার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন বিরোধী নেতা ও স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদো। পাল্টা সমাবেশ করতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।

বৈদ্যুতিক যুদ্ধকে আমেরিকার ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেন, বিরোধীদের সৃষ্ট নাশকতাতেই গুরি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নির্দেশে বৈদ্যুতিক যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন :  ২৪ পরগনায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে অপহৃত বাংলাদেশ নাগরিক

তিনি আরও বলেন, দেশপ্রেমীরা সবাই একত্রিত আছেন। সাইমন বলিভার আর হুগো শাভেজের সৈনিকদের কেউ হারাতে পারবে না। মাদুরোর অভিযোগকে খণ্ডন করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক টুইটে বলেছেন, কোনো বিদেশি রাষ্ট্র নয়, ভেনিজুয়েলার বিদ্যুৎবিভ্রাটের জন্য দায়ী মাদুরো সরকারের অক্ষমতা।

উল্লেখ্য, নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকট ভেনেজুয়েলার জনগণকে তাড়িত করেছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। বিক্ষোভের সুযোগে গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদো। এরপরই তাকে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্রসহ ৫০টিরও বেশি দেশ।

আপনার মন্তব্য লিখুন :

আরও পড়ুন :

সংবাদটি শেয়ার করুন :