,
শিরোনাম :
«» এ্যালাইড হেলথ্ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ডের বিরুদ্ধে ডিমান্ড অব জাস্টিস নোটিশ প্রেরণ «» আইএইচটি এবং ম্যাটস বোর্ড নিয়ে বিতর্ক! «» বেশীরভাগ ফার্মেসীতেই বিক্রি হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ «» গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন «» জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিজিওথেরাপি শাখার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত «» ভুটানে বাংলাদেশি চিকিৎসক নিয়োগ : সমঝোতা স্মারক নবায়ন এপ্রিলে «» তুরস্কে ইউরোপের সর্ববৃহৎ হাসপাতাল, যা আছে তাতে «» প্রাইভেট প্রাকটিস : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পরিবর্তনে আশাবাদী চিকিৎসকরা «» স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ব্যাপক রদবদল

সরকারি হাসপাতালে ছয় বছর আটকে আছে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট নিয়োগ

সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী রোগীদের হাতে সঠিক ওষুধ বুঝিয়ে দিতে ফার্মাসিস্ট নিয়োগের বিধান রয়েছে। অথচ বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ফার্মাসিস্টদের প্রায় সাড়ে ৬০০ পদ শূন্য। এসব পদের বিপরীতে ২০১৩ ও ২০১৮ সালে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও অদৃশ্য কারণে এর কোনো অগ্রগতি নেই। রহস্যজনক কারণে এ নিয়ে নীরব স্বাস্থ্য অধিদফতর। তাই বেকার ডিপ্লোমা ফার্মসিস্টদের সংগঠন ‘স্বাধীনতা বেকার ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’ ১২ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি ৬৩৭টি শূন্য পদে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কিন্তু কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনের ‘ফার্মাটেক’ শিক্ষার্থীদের রিটের কারণে আটকে যায় নিয়োগ প্রক্রিয়া। এরপর ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর পুনরায় শুধু ফার্মাসিস্টদের জন্য ৬২৭টি শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এরপর ৫ মাস অতিবাহিত হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমিন্ত্রী মো. মুরাদ হাসান বলেন, ‘নিয়োগ নিয়ে কেন এমনটা হচ্ছে তা খোঁজ নিয়ে দেখব।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৩ সালের প্রথম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে একই স্মারকে সাতটি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২০৭৭টি পদে স্থায়ী ও অস্থায়ী চুক্তিতে চাকরির দরখাস্ত আহ্বান করে অধিদফতর। এর মধ্যে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের জন্য ৬১৫টি স্থায়ী ও ২২টি অস্থায়ী পদে নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে ফার্মেসি কাউন্সিলের নিবন্ধনের বাধ্যকতা ছিল। কিন্তু কারিগরি বোর্ড থেকে পাস করা ‘ফার্মাটেক’ শিক্ষার্থীদের ফার্মেসি কাউন্সিলের নিবন্ধন না থাকায় নিবন্ধন চেয়ে তারা উচ্চ আদালতে রিট করে। এতে করে ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ফার্মসিস্টদের চাকরি আটকে গেলেও একই স্মারকের গ্রেডের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসাররা আইনি জটিলতা থেকে বেরিয়ে ২০১৪ থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরে কর্মরত আছেন। এই পদে ২৩৬ জন স্থায়ী রাজস্বে ও ৭৮৪ জন অস্থায়ী নিয়োগ পেয়েছেন। পরবর্তীতে রিটটি খারিজ করা হলে পাঁচ বছর পর ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর পুনরায় শুধু ৬২৭ ফার্মাসিস্টদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অধিদফতর। কিন্তু তার পরেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অগ্রগতি নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, অধিদফতরে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ শূন্য পদ রয়েছে। এতে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নন-ফার্মাসিস্ট ও নিু শ্রেণীর কর্মচারী দিয়ে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার কাজটি ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুন :  পবিত্র আশুরা আজ

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফার্মাসিস্ট থাকলে চিকিৎসাসেবা আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে। রোগীরা ওষুধ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাবে। ওষুধের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার হ্রাস পাবে। ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহারের মাধ্যমে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেকটা কমানো সম্ভব হবে। এদিকে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাস করে ফার্মেসি কাউন্সিলের সনদ নিয়ে দীর্ঘদিন বেকার থাকা ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টরা চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও মহাপরিচালক বরাবর নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে লিখিত আবেদন দিয়েছেন। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ১২ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদফতরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে স্বাধীনতা বেকার ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। এ প্রসঙ্গে সংগঠনটির সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, অধিদফতরের নীরবতার কারণে আমরা বছরের পর বছর বেকারত্ব বয়ে বেড়াচ্ছি। লেখাপড়া শেষ করে ওষুধের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছি। এভাবে ঝুলিয়ে না রেখে স্বাস্থ্য অধিদফতর ১৯৭৬ সালের আইন অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারত। কিন্তু তাদের গাফিলতিতে একাধিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেও নিয়োগ হচ্ছে না। তাই আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া আমরা আর কোনো পথ দেখছি না। এ মাসের ১২ তারিখে আমরা স্বাস্থ্য অধিদফতরের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচিতে যাব। দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

আরও পড়ুন :

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Ad
Ad