আজ সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন,

চমেক হাসপাতাল স্টাফ সমবায় সমিতির নতুন ও পুরোনো কমিটির দ্বন্ধ চরমে

সকল নিয়ম মেনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়েছে নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ভোটাভুটির মাধ্যমে জয়ী হয়েছেন প্রার্থীরাও। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রায় আড়াই মাস পরও দায়িত্ব নিতে পারেননি নতুন কমিটির নির্বাচিত সদস্যরা। পুরনো কমিটি দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় এমন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। পুরনো কমিটির কয়েকজন সদস্যের চাতুরির কারণেই দায়িত্ব নেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নতুন কমিটি- এমন অভিযোগ উঠেছে। নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পুরনো কমিটিকে বেশ কয়েকবার চিঠিও দিয়েছে জেলা সমবায় অফিস। কিন্তু তাতেও হয়নি সমস্যার সুরাহা। পুরনো কমিটির কাছ থেকে মেলেনি কোনো সদুত্তরও। পুরনোদের এমন আচরণে বিব্রত সমবায় অফিস। যে কারণে তিনদিনের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশনা দিয়ে দেওয়া হয়েছে চিঠি। এ সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে পুরনো কমিটির বিরুদ্ধে সমন জারি করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।

এদিকে পুরনো কমিটির এমন নেতিবাচক আচরণে অনেকটা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্টাফ কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড (মেডিকপস)। মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সামসুজ্জোহার উদ্যোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্টাফ কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড (মেডিকপস) প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ২৭ জুন সমবায় মন্ত্রণালয়াধীন সমবায় বিভাগ চট্টগ্রাম থেকে সংগঠনটি নিবন্ধন (নং ২৬২০) লাভ করে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ও হাসপাতালে কর্মরত কর্মচারীদের নিয়ে গঠিত মেডিকপসে সদস্য রয়েছেন প্রায় ১৩ শতাধিক।

এ প্রসঙ্গে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, ‘একেবারে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত ভোটে নতুনরা জয়ী হয়েছেন। কিন্তু তারপরও বিদায়ী কমিটি দাবি করছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, যা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। পুরনো কমিটি দায়িত্ব হস্তান্তর না করার কারণে নতুনভাবে নির্বাচিত সদস্যরা দায়িত্ব নিতে পারছেন না। পুরনোদের এমন আচরণে আমরাও বিব্রত। বিষয়টি দ্রুত সুরাহা করতে পুরনোদের নির্দেশ দিয়েছি আমি। এ বিষয়টি এখন সমবায় অফিস তদারকি করছে। প্রয়োজনে তারা আইনিভাবে সমস্যাটির সমাধান করবে।’

জেলা সমবায় অফিসার শেখ কামাল হোসেন সমকালকে বলেন, ‘নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার আড়াই মাস পরও দায়িত্ব হস্তান্তর না করার বিষয়টি সত্যি উদ্বেগের। পুরনো কমিটির এমন আচরণে আমরা বিব্রত। দায়িত্ব হস্তান্তর করতে তাদের বারবার চিঠি দেওয়া হলেও তা তোয়াক্কা করেনি পুরনো কমিটি। তাই এবার তিন দিনের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করার নির্দেশনা দিয়ে তাদের চিঠি দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে তারা দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে আমরা সমন জারি করব। দায়িত্ব হস্তান্তর না করা প্রসঙ্গে পুরনোদের কোনো আইনগত ব্যাখ্যা নেই। নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে সুষ্ঠু হয়েছে। তারপরও নানা অভিযোগ ভিত্তিহীন ছাড়া আর কিছুই নয়।’ দায়িত্ব হস্তান্তর না করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুরনো কমিটির বিদায়ী সভাপতি নৃপেন্দ্র কুমার সিংহ সমকালকে বলেন, ‘প্রথম থেকেই আমি সবাইকে দায়িত্ব হস্তান্তর করার জন্য বলে আসছি। কিন্তু কমিটির কয়েকটি পক্ষ বিরোধিতা করছে। তারপরও তাদের আমি বেশ কয়েকবার বুঝিয়েছি। তারা অনড় থাকায় নতুন কমিটিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়নি। তারা নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে দাবি করলেও আমার পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। আমি নির্বাচন মেনে নিয়েছি। এটা নিয়ে আর ভালো লাগছে না। সমবায় থেকে তিনদিনের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করার নির্দেশনা দিয়েছে। না হয় তারা সমন জারি করবে বলেও আমাদের জানিয়েছে। আশা করছি, এ সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।’

আরও পড়ুন :  ফাঁসিতে ঝুলানোর জন্য এরচেয়ে উত্তম মানুষ আর কই পাবেন?

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মতিন মানিক সমকালকে বলেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে।

কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার আড়াই মাস পরেও আমরা দায়িত্ব নিতে পারিনি। এটি আমাদের জন্য চরম কষ্টের বিষয়। পুরনো কমিটির কয়েকজন সদস্যের ছলচাতুরির কারণেই নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারছে না। সমবায়ের নির্দেশনাকেও তারা আমলে নিচ্ছে না। সর্বশেষ ১২ মার্চের মধ্যে নতুন কমিটিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করার নির্দেশনা দিয়েছে সমবায় অফিস। এই সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করার কথাও বলেছে সমবায়। পুরনোরা এবার দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে আমাদের আইনের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

গত ১৩ ডিসেম্বর সংগঠনের সদস্যদের ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে রতন কুমার নাথ ছাতা প্রতীকে ৩৯৮ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার হারিকেন প্রতীকে ৩৫৪ ভোট ও নৃপেন্দ্র কুমার সিংহ আনারস প্রতীকে পান ২৭৩ ভোট। অন্যদিকে আশু চৌধুরী মাছ প্রতীকে ৪৯৩ ভোট পেয়ে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. নুরুল ইসলাম নুরু উড়োজাহাজ প্রতীকে পান ৩৪৮ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবদুল মতিন মানিক দোয়েল পাখি প্রতীকে ৪০৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ ইউসুফ হাতি প্রতীকে ভোট পান ৩৫৬ ভোট। নির্বাচনে পাঁচলাইশ থানা সমবায় অফিসার সুমিত কুমার দত্ত নির্বাচন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নতুন কমিটির কয়েকজন অভিযোগ করেন, পুরনো কমিটির সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব হস্তান্তর না করার জন্য নানাভাবে কলকাঠি নাড়ছেন। তার সাথে ভিড়েছেন আরও কয়েকজন সদস্য। গত ২০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে উল্লেখ করে নব-নির্বাচিত কমিটিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করার জন্য জেলা সমবায় সমিতি অফিস থেকে পুরাতন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি আদেশ দেন।

সর্বশেষ গত ৭ মার্চ সমবায় থেকে তিনদিনের আল্টিমেটাম দিয়ে পুরনো কমিটিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। ১২ মার্চের মধ্যে নতুন কমিটিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতেও বলা হয় তাতে।

আপনার মন্তব্য লিখুন :

আরও পড়ুন :

সংবাদটি শেয়ার করুন :