আজ সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন,

রোগ সম্পর্কে চিকিৎসকদের স্বচ্ছ ধারণা জরুরি

গত ১০ মার্চ আমাদের চেম্বারে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ এসেছিলেন তাঁর কিছু শারীরিক সমস্যার জন্য।

সমস্যাগুলো নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিস্তারিত কথা বললাম এবং কাউনসেলিং করলাম। আমার ২০ মিনিটের পরামর্শমূলক কথাগুলো উনি মুগ্ধ হয়ে শুনছিলেন।

এরপর তিনি আমাকে যে কথাগুলো বললেন, সেটা সরাসরি তুলে ধরলাম ‘সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক এবং আমাদের এখানে অনেক ডাক্তার দেখেছি। আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি, আপনি বয়সে অনেক ছোট হয়েও প্রথম ডাক্তার হিসেবে আমার সব রিপোর্টের অসাধারণ ব্যাখ্যা দিলেন। আমি সত্যি মুগ্ধ। সিঙ্গাপুর, ব্যাংককেও আমাকে এত সুন্দরভাবে কেউ বুঝাতে পারেননি। আমি আপনার ব্যক্তিগত ফোন নম্বরটি পেতে পারি? আপনি কি আমাকে আরেকটু সময় দিতে পারবেন?’

এ পেশার স্বল্প অভিজ্ঞতা থেকে আমার মনে হয়েছে, রোগী যখন চিকিৎসকের কথা শুনে বেশি মুগ্ধ হন, তখন তাঁর প্রতিক্রিয়া এমনই হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য শেয়ার করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, রোগীরা চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক যাবেন। সেখানকার চিকিৎসা সেবার আসল চিত্রটা দেখে আসার পর তিনি হয়তো আপনার কাছে আসবেন। আপনার চিকিৎসা পেয়ে তিনি যখন প্রশান্তি বোধ করবেন। তখন দুই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য বোঝার পাশাপাশি দেশের চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি তিনি আস্থাশীল হয়ে উঠবেন। ভবিষ্যতে বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা মন থেকে ঝেড়ে ফেলে দেবেন। আর চিকিৎসক হিসেবে সেখানেই আপনার প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।

বিদেশফেরত এসব রোগীদের অনেকেই আলাপচারিতায় বাংলাদেশি চিকিৎসকদের ভাল ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু আমি মনে করি, ভাল ব্যবহারের পাশাপাশি রোগ সম্পর্কে আমাদের স্বচ্ছ ধারণা থাকাও জরুরি।

আরও পড়ুন :  মানসিক রোগ বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডার

আমি মনে করি, তাদের সঙ্গে পূর্ণ যোগ্যতা নিয়ে যদি নিজেকে উপস্থাপন করা যায়, তাহলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি তাদেরকে অনায়াসেই আস্থাশীল করা যাবে।

গতকাল আমার কাউন্সেলিংয়ে তাঁর এমন মুগ্ধ হওয়ার কারণ একটাই। আমি তাঁকে যে কথাগুলো বলেছিলাম, সব কিছু সম্পর্কে আমার ধারণা পরিষ্কার ছিল।

অবশ্য এজন্য ট্র্যাডিশনাল মেডিকেল বইগুলোর বাইরে আমাকে কি পরিমাণ অন্যান্য মেডিকেলের বই পড়তে হয়েছে, সেটা আমিই ভালো জানি।

তিক্ত হলেও সত্য, বর্তমান সময়ের অনেক চিকিৎসককেই পড়াশোনায় পূর্ণমাত্রায় মনোযোগী হতে দেখা যায় না। কোনো মতে একটা বই পড়তে এবং সাথে গাইড পড়তেই যেন তারা হিমশিম খায়।

অথচ আমার সময় কিভাবে আমি ১৫-১৬টা ওয়ার্ল্ড ক্লাস pharmacology এবং অন্য বিষয়গুলোর বই পড়েছিলাম, সেটা আল্লাহই ভালো জানেন।

পরিশেষে বলতে চাই, মানুষের কোনো সাধনাই বৃথা যায় না। আমার বিশ্বাস, কাউনসেলিংয়ের মাধ্যমে গতকালের মন্ত্রী মহোদয়ের মুগ্ধতা সেদিনের পরিশ্রমের ফসল। এদেশের চিকিৎসা বিপ্লবের জন্য এ ধরনের পরিশ্রম খুবই জরুরি।

ডা. মাহমুদুল হক জেসি

চিকিৎসক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ।

আপনার মন্তব্য লিখুন :

আরও পড়ুন :

সংবাদটি শেয়ার করুন :