আজ সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন,

কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোয় ডাক্তার কোথায় ?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব একটি প্রকল্পের নাম কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং তৃণমূলের জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প গ্রহণ করেন।

এ প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৬-২০০১ শাসনামলে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সারা দেশে ১০ হাজার ৭২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মিত হয় এবং ৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হয়।

সরকার পরিবর্তন হলে মাঝখানে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ থাকে। ২০০৯ সাল থেকে আবার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো চালু করা হয়। ২০১১ সাল থেকে আগস্ট ২০১৭ পর্যন্ত নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয় ৩ হাজার ১৩৮টি। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৮৬১টি। ২০২২ সালের মধ্যে সারা দেশে ১৭ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ সংক্রান্ত সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে কাজ করছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।

কিন্তু এত মহাযজ্ঞের পরও প্রশ্ন একটি থেকেই যায়-এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা দিচ্ছে কারা? বাস্তবতা হচ্ছে, কোটি কোটি টাকার এ প্রকল্পে সেবা দিচ্ছে এইচএসসি সমমান আর্টস, কমার্স, কারিগরি, মানবিক ইত্যাদি যে কোনো বিভাগের ছাত্ররা। তাদের নাম দেয়া হয়েছে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার; যাদের মাত্র ৩ মাসের একটি প্রশিক্ষণ দিয়ে এখানে বসিয়ে দেয়া হয়েছে।

ভাবলে গা শিওরে ওঠে- সারাজীবন কারিগরি বা মানবিক বিষয়ে পড়ে মাত্র ৩ মাসের একটি সাধারণ কোর্স সম্পন্ন করেই সে পেয়ে যাচ্ছে ড্রাগ লেখার লাইসেন্স। এর ফলে জনমনে তৈরি হচ্ছে শঙ্কা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আজ প্রশ্ন উঠেছে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে।

এভাবে চলতে থাকলে এই মেগা প্রকল্পটি অতিদ্রুতই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার যদি এখনই সঠিক পদক্ষেপ না নিতে পারে, তবে সত্যিকারের জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার যে স্বপ্ন নিয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো যাত্রা শুরু করেছিল, তার বাস্তবায়ন কোনোদিনই সম্ভব হবে না।

আরও পড়ুন :  দেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে ৮০ শতাংশ মানুষ

এ অবস্থায় এ মেগা প্রকল্পটির সঠিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা সময়ের দাবি। এখানে সত্যিকারের ডাক্তারদেরই নিয়োগ দেয়া দরকার। না হলে কোনোদিনই প্রকল্পটি মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে না। প্রশ্ন উঠতে পারে, আমাদের দেশে ডাক্তারদের তো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ঠিকমতো খুঁজে পাওয়া যায় না; কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়োগ দিলে তারা কিভাবে যাবে?

এ প্রশ্নের উত্তরে বলতে চাই, বিকল্প সমাধান হতে পারে ডিপ্লোমা চিকিৎসকরা; যাদের মেডিকেলের ১৪টি বিষয়ের ওপর ৩ বছরের তাত্ত্বিক এবং ১ বছরের ইন্টার্নশিপসহ মোট ৪ বছরে ডিএমএফ (DMF) ডিগ্রি রয়েছে। এছাড়া ডিগ্রি শেষে তাদের বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বৈধ চিকিৎসক হিসেবে বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন শুধু এমবিবিএস, বিডিএস এবং ডিএমএফদেরই দেয়া হয়।

এছাড়া তারা সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (SACMO) হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় দীর্ঘকাল থেকে সুনামের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে আসছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর চিত্র আমাদের সবারই জানা।

এখানে বড় বড় ডাক্তার নিয়মিত খুঁজে পাওয়া না গেলেও এই ডিপ্লোমা চিকিৎসকরাই যে গ্রামের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছেন, এ সম্পর্কিত সংবাদ প্রায়ই বিভিন্ন পত্রিকার পাতায় নজরে আসে।

অথচ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের নিয়োগ বন্ধ থাকায় এই সেক্টরে বেকারত্বের হার অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি ডিপ্লোমা চিকিৎসক বেকারত্বের দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করছেন।

এ অবস্থায় ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের এ প্রকল্পে ব্যবহার করলে তা সবার জন্যই মঙ্গলজনক হবে। যদি এ প্রকল্পটিতে ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের নিয়োগ দেয়া হয়, তাহলে তারা জনগণের দোরগোড়ায় প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পারবে বলে মনে করি।

লেখক : মো. রাশেদুজ্জামান
সাবেক, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা মেডিকেল স্টুডেন্ট’স অ্যাসোসিয়েশন।

আপনার মন্তব্য লিখুন :

আরও পড়ুন :

সংবাদটি শেয়ার করুন :