আজ শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

এ্যালাইড হেলথ্ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ডের বিরুদ্ধে ডিমান্ড অব জাস্টিস নোটিশ প্রেরণ

মেডিনিউজ রিপোর্ট:
‘মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড’ নামকরণ সহ ৪ দফা দাবিতে বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা মেডিকেল স্টুডেন্ট’স এসোসিয়েশন বঙ্গবন্ধু-ডিএমএসএ (ম্যাটস্ শিক্ষার্থীদের সংগঠন) এর ডাকে গত এক বছর ধরে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে ম্যাটস্ ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। তাঁদের গত দু’বছরের আন্দোলন সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের এই মে মাসের ১৮ তারিখে শাহবাগে সফল লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছিল তাঁরা। সেদিন শাহবাগ ময়দান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। জাতীয় প্রায় ৩৬ টি দৈনিক পত্রিকা তাঁদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে সরকারকে তা মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ মে/২০১৭ ইং মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় তাঁদের যৌক্তিক দাবি কিভাবে পূরণ করা যায়, সে বিষয়ে মতামত জানতে চেয়ে ৩০ দিনের মধ্যে একটি খসড়া তৈরি করে দেয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বদরুন নাহার কে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দেন। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর পার হয়ে গেলেও ৪ দফা দাবি পূরণে কোনো রকম তৎপরতা না দেখে এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২০০৯ সালের পূর্বলিখিত প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ‘মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড’ অব বাংলাদেশ নামকরণ না করে উদ্ভট ও অসংগতিপূর্ণ ‘বাংলাদেশ এ্যালাইড হেলথ্ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড ২০১৯ (প্রস্তাবিত) নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয়ায় তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মাঠের আন্দোলনের পাশাপাশি এ্যালাইড হেলথ্ বোর্ড নামকরণ বাতিলে সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত রিট মামলা করার প্রাথমিক পর্যায়ে ডিমান্ড অব জাস্টিস নোটিশ প্রেরণ করেন বলে মেডিনিউজ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন উক্ত সংগঠনের সাবেক সভাপতি মুরাদ হোসেন লেমন।

জানা যায়, ডিমান্ড অব জাস্টিস নোটিশ টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব সহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। নোটিশের প্রেরক বঙ্গবন্ধু-ডিএমএসএ’র সাবেক সভাপতি মুরাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিম সহ বঙ্গবন্ধু-ডিএমএসএ’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা এবং বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা চিকিৎসক পরিষদ বডিচিপ মহাসচিব ডা. খন্দকার ইমদাদুল হক সেলিম। নোটিশে বলা হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ৩ দিনের মধ্যে পূর্বলিখিত প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ‘মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড’ অব বাংলাদেশ নামকরণের সিদ্ধান্ত না নিলে সেই সাথে উক্ত সিদ্ধান্ত নোটিশ প্রেরকগণদের আইনজীবীকে লিখিত ভাবে না জানালে সর্বোচ্চ আদালতে রিট মামলার আশ্রয় নিবেন নোটিশ প্রেরণকারীগণ।

বঙ্গবন্ধু-ডিএমএসএ এর সভাপতি মুরাদ হোসেন লেমন অভিযোগ করে বলেন, ‘ইতিপূর্বে ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিডিএমএ) এর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ‘স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি’ অব বাংলাদেশ নামের পরিবর্তন করে ‘মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড’ অব বাংলাদেশ নামকরণ করা হবে এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল, যার স্বারক নং- স্বাপকম/ চিশিজ/ বেসমেক/ ও ডেকহা-১/ ২০০৯/৬১২ তারিখ ২৩-৭-২০০৯ ইং। তাই বাংলাদেশের হাজার হাজার ডিপ্লোমা চিকিৎসক ও ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ‘মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড’ অব বাংলাদেশ নামকরণে বোর্ড গঠন করা।’

আরও পড়ুন :  বিএমটিএ'র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ এ্যালাইড হেলথ্ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড-২০১৯ (প্রস্তাবিত) নামকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মেডিকেল স্কুল ম্যাটস্ ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দাবি, ‘এই নামকরণ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত, বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ অধিভূক্ত, বিএম&ডিসি স্বীকৃত ম্যাটস্ প্রতিষ্ঠানের ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি ‘ডিএমএফ’ ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী পেশাজীবী ডিপ্লোমা চিকিৎসক, ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ডিএমএফ কোর্স শিরোনাম, ম্যাটস্ প্রতিষ্ঠানের নাম ও স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টির নামের সাথে সাংঘর্ষিক হবে।’

তাঁরা আরো বলেন, ‘মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল স্বীকৃত ডিপ্লোমা চিকিৎসকতা পেশা এ্যালাইড হেলথ্ প্রফেশনাল (যার বাংলারূপ সহযোগী স্বাস্থ্য পেশাদার) এর মধ্যে পড়ে না।’ আর তাই এই অসংগতিপূর্ণ এ্যালাইড বোর্ডের নাম মানতে নারাজ পেশাজীবী ডিপ্লোমা চিকিৎসক ও ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। তাঁদের সিনিয়র পেশাজীবী নেতা ও ছাত্রনেতাদের দাবি, ‘এ্যালাইড হেলথ্ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড/ প্যারামেডিকেল শিক্ষা বোর্ড নামকরণ করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদে পড়বে এই বোর্ড থেকে সনদ প্রাপ্ত ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা। বিদেশে এধরনের উদ্ভট নামযুক্ত বোর্ডের সনদ মূল্যায়ন করা হবে না। ফলে এ ধরনের বোর্ডের সনদধারীদের বিদেশে কোনো কর্মসংস্থান হবে না। আর দেশে তো ডিপ্লোমা মেডিকেল সেক্টরে বেকার সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলছে। কাজেই বোর্ডের নাম ‘মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড’ নামকরণ করতে হবে।’

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর এই যুদ্ধপীড়িত ও যুদ্ধাহত নব্য স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে, অনেক গরীব, দুস্থ, অসহায় মানুষের সামান্য রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদানও সরকারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। যা জনবান্ধব বঙ্গবন্ধু’র সরকারকে ভাবিয়ে তোলে। ঠিক তখনি স্বল্প সময়ে সবার জন্য মৌলিক অধিকার চিকিৎসা সেবা প্রদান বাধ্যতামূলক করার জন্য বঙ্গবন্ধুর সরকার স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনা মোতাবেক ব্রিটিশ-পাকিস্তান পিরিয়ডের মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল নিবন্ধিত লাইসেন্সশিয়েট অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি এলএমএফ, মেম্বার অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি এমএমএফ ডিপ্লোমা সমমান চিকিৎসকদের কারিকুলাম অনুসারে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি ‘ডিএমএফ’ ডিপ্লোমা চিকিৎসকতা পেশা কোর্সটি আন্তর্জাতিক ভাবে অনুমোদন করিয়ে নিয়ে আসেন। এ পরিকল্পনায় সুস্পষ্ট উল্লেখ ছিল মেধাবী ও দক্ষ ডিএমএফ ডিপ্লোমা চিকিৎসকগণ পরবর্তীতে কনডেন্সে স্নাতক এমবিবিএস কোর্স করার সুযোগ পাবেন। সেই সাথে এখানে উল্লেখ ছিল সরকারি ও বেসরকারি চাকরিক্ষেত্রে অন্যান্য ডিপ্লোমাধারী পেশাজীবীরা যে সকল সুযোগ-সুবিধা পাবেন বা পেয়েছেন তাঁরাও সে সব পাবেন। তবে দুঃখের বিষয় এই যে, ডিপ্লোমা চিকিৎসকগণ সে সব সুবিধা কোনোটাই পান নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন :

আরও পড়ুন :

সংবাদটি শেয়ার করুন :