আজ বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৫৫ অপরাহ্ন

পিরিয়ডের ব্যথা সহজেই দূর করুন

মাঝে মাঝে অনেকে প্রশ্ন করে ভাই মেয়েদের পিরিয়ডের সময় ব্যথা কমানোর জন্য ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে কোন চিকিৎসা আছে কি ? আমি এক কথা বলে দেই অবশ্যই আছে , পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর জন্য ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে অনেক অপশন আছে । ইলেক্ট্রিক্যাল স্টিমুলেশন , হট কম্প্রেশন , ব্রেদিং এক্সারসাইজ, হালকা ফিজিক্যাল এক্সারাইজ অনেক ইফেক্টিভ । প্রয়োজনে আপনার নিকটবর্তী ফিজিওথেরাপিস্টের অবশ্যই আসবেন । উন্নত বিশ্বে পিরিয়ডের ব্যথা দূর করতে ভুক্তভোগীরা ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে যাচ্ছে ।

একজন ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কিভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি এবং কিভাবে আপনি বাসায় পিরিয়ডের ব্যথা কমাবেন সেই বিষয়ে এখানে কথা বলব ।

পিরিয়ডের ব্যথা কি ?

পিরিয়ডের ব্যথা একটা স্বাভাবিক বিষয়, মেয়েদের ম্যানস্ট্রোরল সাইকেলে সবারই কম বেশ এই ব্যথা হয়ে থাকে । এটাতে সাধারণ পেটের মাসলগুলো ক্রেম্প করে এবং ব্যথাটা কোমর এবং পায়ের দিকেও চলে যেতে পারে ।

কেন ব্যথা হয় ?

পিরিয়ডের সময় জরায়ুর মাসল গুলো কন্ট্রাক করে । হালকা কন্ট্রাকশন সব সময়ই হয়, তাই তেমন বুঝা যায় না । পিরিয়ডের সময় অনেক বেশি কন্ট্রাকশন হয়, ফলে মাসল ওয়ালের রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যায় । অক্সিজেনের অভাবে জরায়ুর মাসল গুলো পেইন বহন করে এমন কিছু কেমিক্যাল রিলিজ করে । শরীর যখন পেইন টিগার কেমিক্যাল রিলিজ করে , তখন পোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামক কেমিক্যালও রিলিজ করে । এতে করে জরায়ুর মাসল আরো বেশি কন্ট্রাক করে এবং ব্যথা আরো বেশি তীব্র হয়ে যায় ।

এছাড়া মেডিকেল কিছু কন্ডিশনের কারনেও ব্যথা হতে পারে, তবে এই সমস্যাগুলো ৩০-৪৫ বছরের মধ্যে বেশি হয়ে থাকে । যেমন – এন্ড্রোমেট্রোরিওসিস , ফাইভরয়েডস , পেলভিক ইনফ্লামেটরী ডিজিজ, এডিনোমায়োসিস।

আরও পড়ুন :  সকালে রসুন খাওয়ার উপকারিতা

কতক্ষণ থাকে এই ব্যথা

সাধারনত পিরিয়ড শুরুর পর থেকে ৪৮-৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এই ব্যথা থাকতে পারে । এছাড়া কম বেশি সময় হতে পারে ।

কিভাবে এই ব্যথা কমাবো

১। গরম পানির সেঁকঃ পেটের মাঝে হালকা গরম সেঁক পিরিয়ডের ব্যথা ভাল কাজ করবে ।

২। এক্সারসাইজঃ সাধারণত এই ব্যথার সময় এক্সারসাইজ করতে চায় না । তবে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা কিছু ব্যায়াম অনেক উপকারী । এছাড়া সাঁতার, সাইকেলিং, হাঁটা অনেক ভাল ব্যায়াম এই সময়ের জন্য ।

৩। ইলেক্ট্রিক্যাল স্টিমুলেশনঃ ট্রেনস খুবই ভাল কাজ করে এই সময়ে । আপনি ফিজিওথেরাপিস্টের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ট্রেনস ব্যবহার করতে পারেন। ব্যথা চলে যাবে ।

৪। গরম পানি দিয়ে গোস করবেন । অনেক আরাম পাবেন ।

৫। পেটের নিচের দিকে হালকা ম্যাসাজ করতে পারেন । অনেক ইফেক্টিভ হবে ।

৬। ব্রেদিং এক্সারসাইজ করবেন । নাক দিয়ে ৫ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিবেন গভীরভাবে এবং মুখ দিয়ে ৫ সেকেন্ড ধরে আস্তে আস্তে ছাড়বেন ।

৭। কেউ যদি তামাকে খেয়ে থাকেন । এইসব ছেড়ে দিবেন । এইগুলোর জন্যও ব্যথা হতে পারেন ।

৮। ব্যথার ওষুধঃ খুব প্রয়োজনে নন-স্টেরয়েড ইনফ্লামেটরী ড্রাগস যেমন – ইনফ্লাম, ন্যাপ্রোক্সেন খাওয়া যেতে পারে । তবে এজমা, স্ট্রোক, কিডনি, লিভারে সমস্যা থাকেল এই গুলো খাওয়া যাবে না। সেই ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে ।

ধন্যবাদ
ডাঃ সাইফুল ইসলাম, পিটি
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান , ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টার
উত্তরা, ঢাকা ।

আপনার মন্তব্য লিখুন :

আরও পড়ুন :

সংবাদটি শেয়ার করুন :