আজ বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ : জ্বলবে নীল বাতি

আজ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। অটিজম বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরতে আজ থেকে তিন দিন (২ থেকে ৪ এপ্রিল) পর্যন্ত দেশের সকল সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহে নীলবাতি প্রজ্বলন করা হবে।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বাতি প্রজ্বলন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এরপর থেকেই তিনদিনের এ কর্মসূচি কার্যকর হবে।

অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে ২ এপ্রিলকে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ হিসেবে পালনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকে প্রতি বছর দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অটিজম কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়। এটি মানুষের হরমোনজনিত সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। এটির প্রতীকী রং নীল। অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য যেমন আলাদা; তেমনি তাদের প্রতিভাও ভিন্ন। কেউ হয়তো ভালো ছবি আঁকতে পারছে, কেউ বা টয়লেট ক্লিনিং করতে পারছে- সেটাও ওই শিশুর জন্যে একটা সাফল্য বলে খুশি থাকতে হবে।

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসকে সফল করতে গতকাল (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। তিনি বলেন, অটিজম কোনো রোগ নয়। এটি শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশজনিত একটি সমস্যা, যা শিশুর সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধা সৃষ্টি করে। আগামীকাল ২ এপ্রিল ১২তম বিশ্ব অটিজম দিবস পালিত হবে। এ দিবসটি উপলক্ষে আগামী তিনদিন সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নীল বাতি প্রজ্বলন করা হবে।

দেশে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কত জানতে চাইলে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ১৬ লাখ ৪৪ হাজার ৬০৮ জন প্রতিবন্ধী রয়েছে। এর মধ্যে অটিজম শিশুর সংখ্যা ৪৭ হাজার ৪১৭। বর্তমানে সরকার প্রায় ১০ লাখ প্রতিবন্ধীকে ভাতা দিচ্ছে। সব প্রতিবন্ধীকে ভাতার আওতায় আনতে কাজ করছে সরকার।

আরও পড়ুন :  চিকুনগুনিয়া: আতঙ্ক হইবার কিছু নাই

তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩৭৩ কোটি টাকা। চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ প্রায় ৯৫ ভাগ বাড়িয়ে ৬৪ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা করা হয়। আগামী অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে।

ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরো ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম (ইপনা) এর পরিচালিত এক গবেষণায় জানা যায়, গ্রামের চেয়ে শহরে বাড়ছে অটিজম বিশিষ্ট শিশুর সংখ্যা। গ্রামে প্রতি ১০ হাজারে ১৪ জন বা প্রতি হাজারে ১ দশমিক ৪ জন। শহর এলাকায় প্রতি ১০ হাজারে ২৫ শিশু যা প্রতি হাজারে ২ দশমিক ৫ জন অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। মেয়ে শিশুর চাইতে ছেলে শিশুর মধ্যে অটিজমে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় আড়াই গুণ বেশি। দেশে ১৬ থেকে ৩০ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে অটিজম বিস্তারের হার প্রতি ১০ হাজারে ১৭ জন। সেই হিসাবে প্রতি হাজারে ১ দশমিক ৭ জন। গ্রামের চেয়ে শহরে অটিজম বৈশিষ্ট্য শিশুর সংখ্যা বেশি। প্রতি ১০ হাজার শিশুর মধ্যে ১৭ শিশু অটিজমে আক্রান্ত।

তারা বলেন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর জন্যে কেবল মাকে নয়, বাবাকেও কোয়ালিটি সময় দিতে হবে। জিমনেসিয়াম, সুইমিং পুলে সপ্তাহে অন্তত একদিন বিশেষ শিশুদের জন্যে সুযোগ রাখা প্রয়োজন। অভিভাবকদের কাউন্সিলিং দরকার। কারণ এই শিশুদের অভিভাবকরা ভালো থাকলে তাদের সন্তানটিও ভালো থাকবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন :

আরও পড়ুন :

সংবাদটি শেয়ার করুন :