আজ বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৪১ অপরাহ্ন

মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ২য় শ্রেণীতে উন্নীতকরণ প্রক্রিয়া আটকে আছে ২৪ বছর

দুই দশকের বেশি সময় ধরে আটকে আছে ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের চাকরি দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করার প্রক্রিয়া। ১৯৯৪ সালেই এ দাবি উঠেছে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তৎকালীন সংস্থাপন সচিবকে (বর্তমানে জনপ্রশাসন) অনুরোধ করা হয়। সেই সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে চাকরি দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা ও বেতনক্রমে উন্নীত করার প্রস্তাব করে। এরপরও ২৪ বছর পেরিয়ে গেল। কিন্তু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং ফার্মাসিস্টদের ২য় শ্রেণীতে উন্নীত হওয়ার দাবি বাস্তবায়ন হয়নি আজও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে অন্য সব ডিপ্লোমাধারীর চাকরি দ্বিতীয় শ্রেণীর হলেও শুধু তাদের চাকরি তৃতীয় শ্রেণীতেই রয়ে গেছে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা কৃষি, ডিপ্লোমা নার্স- সবাই দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদা ও বেতন স্কেল ভোগ করছেন। কিন্তু একই ধরনের লেখাপড়া ও যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং ফার্মাসিস্টরা এখনও তৃতীয় শ্রেণীতে রয়ে গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং ফার্মাসিস্টদের দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীতের দাবি যৌক্তিক। যেহেতু ডিপ্লোমা নার্সরা দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদাসহ সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, তাই ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং ফার্মাসিস্টদের দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের চাকরি দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করার দাবিতে ১৯৯৪ সাল থেকে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তাদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে ১৯৯৬ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব সংস্থাপন (বর্তমানে জনপ্রশাসন) সচিবের কাছে প্রস্তাব আকারে তিন পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপ পাঠান। পরে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়নে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠন করে। কমিটির ৭ দফা বৈঠকের পর দাবির পক্ষে সুপারিশ আকারে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে তৎকালীন সংস্থাপন (জনপ্রশাসন) সচিব পদ আপগ্রেড করার বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়ে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির কাছে প্রস্তাব পাঠন। ২০০৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এই প্রস্তাব পাঠানোর পর সচিব কমিটিতে এজেন্ডাভুক্ত করতে দীর্ঘ সময় কেটে যায়। ২০০৫ সালের প্রথমদিকে সচিব কমিটিতে আলোচনা হয় এবং সভা থেকে সুপারিশ আকারে জানিয়ে দেয়া হয় যে, বিষয়টি প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির কার্যপরিধির বাইরে। এটি বেতনবৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠাতে হবে। বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে জানিয়ে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন :  সিলেটে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি, মানববন্ধন

শেষ পর্যন্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা তাদের দাবি আদায়ে পুনরায় তৎপরতা শুরু করলে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে মতামত জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয়। এর দু’মাস পর ১৩ দফা কোয়ারি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়। এসব কোয়ারির জবাব চেয়ে মন্ত্রণালয় থেকে অধিদফতর বরাবর চিঠি দেয়া হয়। বিষয়টি আবার চাপা পড়ে গেলে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যান্ড ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যান্ড ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। যার প্রথম দফা ছিল চাকরিতে দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা হয়। সভায় মন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপর তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এ সংক্রান্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সরকারের কালক্ষেপণে মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করতে প্রধান কাজ সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়, যে কাজটি আমরা করে থাকি। ইতিপূর্বে সরকার যাদের দাবি মেনে নিয়েছে, তারা সবাই রোগীর সেবা বন্ধ রেখে আন্দোলন করেছেন। অথচ আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে ২৪ বছর ধরে যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসছি, দাবি পূরণ হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব সেলিম মোল্লা বলেন, এটি ডিপ্লোমা টেকনোলজিস্টদের যৌক্তিক দাবি। দেশে সব ডিপ্লোমাধারী দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদা ভোগ করছে। তাই এ দাবি দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সৌজন্যে : যুগান্তর।

আপনার মন্তব্য লিখুন :

আরও পড়ুন :

সংবাদটি শেয়ার করুন :