আজ শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস

এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সমতা ও সংহতি নির্ভর সার্বজনীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা’।

“সবার জন্য স্বাস্থ্য”এই মূলমন্ত্র নিয়ে ১৯৪৬ সালের ৭ এপ্রিল এই দিনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (world Health Organization,WHO.প্রতিবছর সংস্থাটি এমন একটু ইস্যু বেছে নেয়,যা সারা পৃথিবীর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৬ সালের পর থেকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে প্রতিবছর নিয়মিত ভাবে এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এবারের বিষয়টা অত্যন্ত সময় উপযোগী। দিবসটি সারা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উৎযাপিত হবে, তাছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আর্থিক এমনকি স্বল্পমূল্যে কিংবা বিনামূল্যে চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহ করে থাকে তাদের প্রতিপাদ্য বিষয়টি বাস্তবায়নের লক্ষে। বিশেষকরে স্বল্প উন্নত দেশগুলোকে। যা আমাদের মতো স্বল্প উন্নত উন্নয়নশীল দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি সরকারী উদ্যোগ ও তহবিলের সুপরিকল্পিত এবং যথাযথ ব্যবহার করতে পারি, পাশাপাশি এসব দাতাসংস্থার অনুদান সহায়তা নিয়ে সহজেই মানুষের নাগালের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা পৌছাতে পারব। বর্তমানে বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুহার, গর্ভকালীন মাতৃমৃত্যুহার, জনসংখ্যা বৃদ্ধি হার সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার যেমন কমেছে গড় আয়ু তেমনি বেড়েছে যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর কাছে রোল মডেল।
তাই এ বিষয় গুলো গুরুত্বের সাথে দেখে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।সবাইকে নিজেদের সচেতনতাবোধ বাড়ানোর পাশাপাশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত ওষুধ সেবন বর্জন করতে হবে।
আমাদের দেশে জনসংখ্যার ১.৪ শতাংশই প্রতিবন্ধী, তাই স্বাস্থ্যসুরক্ষায় শারিরীক ও মানসিক প্রতিবন্ধী দের পুণর্বাসন জরুরী।

ফিজিওথেরাপী চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে।কারণআমরা যদি আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগের কথা চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাব যে, শুধুমাত্র ঔষধ সব রোগের পরিপুর্ণ সুস্থতা দিতে পারে না। বরং এন্টিবায়োটিক সেবনের ফলে ধীরে ধীরে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।কিডনী ডেমেইজ,আলসার,টিউমার সহ নানা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দেখা যায়। কিন্তু ফিজিওথেরাপী চিকিৎসা অনেকাংশেই এই ভয় থেকে নিরাপদ।
রোগীর শারিরীক সমস্যা দূর করে কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপিষ্টের ভূমিকা অপরিসীম।
বিশেষকরে স্বাস্থ্যমন্ত্রালয়কে আরো বেশি ত্যৎপর হতে হবে, স্বাস্থ্যখাতে যথাযথ চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমাতে হবে, চিকিৎসকদের আরো আন্তরিক হতে হবে, হাতুড়ে, স্যাকমোদের দৌরাত্ম্য কমাতে হবে,
সাধারণ মানুষ ও মিডিয়ার ডাক্তাদের প্রতি বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। তাহলে ভালো কিছুর আশা করতেই পারি আমরা। স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে। দেশ এগিয়ে যাবে। বিনা চিকিৎসায় আর একটি মানুষও প্রাণ হারাবে না। সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিপাদ্য বিষয় সফল হবে।

আরও পড়ুন :  বয়সের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা

লেখক,
ডা. রূপক চন্দ্র রায়(পিটি),ফ্যাকাল্টি
গণবিশ্ববিদ্যালয়
পাবলিক হেলথ এক্সপার্ট।

আপনার মন্তব্য লিখুন :

আরও পড়ুন :

সংবাদটি শেয়ার করুন :